182 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

অপ্রেমের বিয়ের কাচ্চি-বিরিয়ানির চাইতে প্রেমের বিয়ের পোড়া-রুটিও হাজারগুণ বেশি সুস্বাদু! সুশান্ত পাল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যে যাকে ভালোবাসে, সে তাকে বিয়ে করলেই সবচাইতে ভালো। এর কারণ, ওরা দু-জন দু-জনকে সহ্য করতে শিখে নিয়েছে ইতোমধ্যে। নতুন কাউকে বিয়ে করলে নতুন মানুষটি তাকে সহ্য করতে পারবে কি পারবে না, তা নিয়ে বিরাট একটা ঝুঁকি থেকেই যায়!

যারা প্রেম করে, তারা যতটা সহজে পরস্পরের হাত চাইলেই ছেড়ে দিতে পারে, বিয়ের পর দু-জন মানুষ ততটা সহজে পরস্পরের হাত হাজার চাইলেও ছেড়ে দিতে পারে না। প্রেমে সামাজিক ও পারিবারিক কোনও শেকল নেই, যেটা বিয়েতে আছে। আর বিয়ের পর সন্তান হয়ে গেলে তো মরতে মরতে হলেও মানুষ অনুভূতিশূন্য মন নিয়ে পাশাপাশি থেকে যেতে রীতিমতো বাধ্য হয়! এই বাধ্যতার চাইতে বড়ো যন্ত্রণা পৃথিবীতে আর কী আছে!

তাই প্রেমের সম্পর্কে থাকা দু-জন মানুষ যদি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেটা খুবই চমৎকার, কেননা ওরা পরস্পরকে দীর্ঘদিন ধরে জেনে-বুঝেই এই সিদ্ধান্তটা নিচ্ছে, যে সুযোগটা প্রেমের সম্পর্কহীন বিয়ের ক্ষেত্রে একদমই নেই। বিয়ের পর দু-জনকে দু-জনের কোন কোন দিক সহ্য করতে হবে, তা বিয়ের আগেই জানা থাকলে খুবই ভালো!

যাদের মধ্যে প্রেম, বিয়েটাও তাদের মধ্যে হলে সেই দু-জন মানুষের সুখী হবার সম্ভাবনা অনেক অনেক বেশি। আর বিয়ে যদি হয় অন্য কারও সঙ্গে, তবে সেক্ষেত্রে অসুখী হবার সমূহ আশঙ্কা থেকে যায় স্বামী-স্ত্রী দু-জনেরই, এবং একইসাথে ওদের দু-জনের পরিবারেরও!

প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে বিয়ে হলে ওরা দু-জন নানান সীমাবদ্ধতা ও দ্বন্দ্ব নিজেদের মধ্যে যতটা মেনে ও মানিয়ে নিতে পারে, অপরিচিত বা অল্প-পরিচিত দু-জনের মধ্যে বিয়ে হলে মেনে ও মানিয়ে নেবার ব্যাপারগুলি ততটা থাকে না। ভালো ও খারাপ মিলিয়েই তো একজন মানুষ! তাই এই দুইটি দিকই জানার ও বোঝার সময়-সুযোগ নেই যেখানে, সেখানে দুঃখ পাবার আশঙ্কা একেবারে প্রতি পদে পদেই!

আমরা তো সবাই জানিই, চেনা রাস্তা ঘোরানো হলেও ভালো, অচেনা রাস্তা সোজা হলেও ভালো না! অচেনা রাস্তায় একবার বিশ্রীভাবে হারিয়ে গেলে মাঝে মাঝে গন্তব্যে পৌঁছোনোর ইচ্ছেটা পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়!

এই বিষয়ে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ পরিমাণে আন্তরিক হতে হবে। সন্তানের জীবনের এমন অতিজরুরি সিদ্ধান্তটা নেবার সময় গোঁয়ার্তুমির ফলাফল হতে পারে চরম ভয়াবহ! হয়তোবা আপনার গোঁয়ার্তুমির শাস্তি হিসেবে আপনি আমৃত্যুই নিজের সন্তানের ঘৃণার পাত্র হয়ে থাকবেন। বাবা-মা’য়ের মূল দায়িত্ব সন্তানকে মানুষ করা, বিয়ে দেওয়া নয়।

নিজের বুদ্ধিতে ভুল করলে মানুষ যত সহজে মেনে নেয়, অন্যের বুদ্ধিতে ভুল করলে মানুষ তত সহজে মেনে নিতে পারে না। কী দরকার সারাজীবনই আরেকটা মানুষের দীর্ঘশ্বাস বয়ে বেড়ানোর?

অপ্রেমের বিয়ের কাচ্চি-বিরিয়ানির চাইতে প্রেমের বিয়ের পোড়া-রুটিও হাজারগুণ বেশি সুস্বাদু!