1139 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

আগুনের-রেইলগাড়ি

  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

পর্ব ২

ফোনের ওপাশ থেকে আওয়াজটা শুনে রিদিতার মনে ধক করে উঠলো।তার হাত পা কাঁপছে।সে কি ভুল শুনছে নাকি আসলেই সেই মানুষটার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলো।
“আমি কি একবার প্রিয়ম কে জিজ্ঞেস করবো যে ঐটা কে ছিলো।আবার প্রিয়ম যদি কিছু মনে করে।”
সাতপাঁচ ভেবে রিদিতার আর জিজ্ঞেস করা হলো না।
ফোনের ওপাশ থেকে প্রিয়ম কখন থেকে হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে।কারো আওয়াজ না শুনতে পেয়ে কল টা কেটে আবার কল দিলো।
রিদিতা চিন্তায় এতই মগ্ন ছিলো যে খেয়াল ই করেনি।ফোনটা আবার বেজে উঠায় তার হুশ ফিরলো।ফোন রিসিভ করে,
“হ্যালো।সরি আমি বুঝতে পারিনি ফোনটা কখন কেটে গিয়েছে।”
“কেটে যায়নি আমি ই কেটে দিয়েছি।আপনি কোনো কথা বলছিলেন না বলে ভাবলাম নেটওয়ার্ক প্রবলেম। যাজ্ঞে সেসব কথা আপনার কাছে একটা আব্দার করতে পারি?” প্রিয়ম ভয়ে ভয়ে বললো।
“কিসের আব্দার?বলেন দেখি যদি রাখতে পারি।”
“আপনি কি আমার সাথে কাল একবার দেখা করতে পারবেন? “
“আমি আপনাকে সরাসরি বলছি আপনার বোনের এমন ব্যাবহারের পর আমার বাসার থেকে এই বিয়েটা কোনোভাবেই মেনে নিবেনা।সেখানে আমি আপনার সাথে কিভাবে দেখা করতে পারি বলেন।” রিদিতা খুব শান্ত ভাবে বললো।
“প্লিজ রিদিতা,শেষ বারের মতো আপনি দেখা করেন।আমি আমার বোনের হয়ে আপনাকে সরি বলছি। আমার আপনাকে কিছু বলার ছিলো।শুনার পর আপনি যা সিদ্ধান্ত নিবেন আমি তাতেই রাজি। “
রিদিতা কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।কিছুক্ষন চিন্তা করে কি মনে করে যেনো রাজি হয়ে গেলো।
“আচ্ছা কাল আমি আসবো। “
“ধন্যবাদ আপনাকে।আমি আপনাকে টাইম এবং লোকেশন ম্যাসেজ করে দিচ্ছি।”
বাই বলে রিদিতা ফোনটা কেটে দিলো।
রিদিতার মনটা কেমন যেনো করছে। সে তার ডায়েরিটা নিয়ে বসলো।আজ আবার তার খুব লিখতে ইচ্ছে করছে মনের সেই অব্যাক্ত কথাগুলো।
এইদিকে প্রজ্ঞা প্রিয়মের রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় প্রিয়মের কথা শুনে ফেলে।শুনে সে তেলে বেগুনে জ্বলছে।সাথে সাথে চিল্লানো শুরু করে দেয়। পুরো লংকা কান্ড বাজিয়ে ফেলে।
” মা তোমার ছেলে কাল ঐ কালনাগিনীর সাথে দেখা করতে যাবে।ওকে আটকাও তা না হলে খুব বড় বিপদ হয়ে যাবে বলে দিলাম। আমি কিন্তু নিজেকে শেষ করে দিবো।”প্রজ্ঞা চিৎকার করে কথা গুলো বলছে।
তার চিৎকার শুনে প্রিয়ম রুম থেকে বেড়িয়ে আসে।রেহেনা বেগম কোনোভাবেই তার মেয়েকে চুপ করাতে পারছে না।প্রিয়ম সত্যিটা জানলে যে কেলেংকারী হয়ে যাবে।
দরজায় নক করার আওয়াজ হয় তখন। প্রজ্ঞা দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে।
“বাহিরে থেকেও তোমার গলার আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। তুমি এমন করছো কেনো?কি সমস্যা তোমার? ” তুর্য খুব রাগি ভাবে বলে।
“তোমার তো আমার কোনো কিছুই ভালো লাগেনা।আর তুমি না ঘরে ছিলে বাহিরে কখন গেলে।এত কি বাহিরে তোমার।কোন মেয়ের সাথে আবার দেখা করতে গিয়েছিলে?ঘরে বউ থাকতেও তোমার মন বসে না তাইনা!”
উপস্থিত সবাই হতবম্ব হয়ে গেলো।তুর্য নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।আর কত অপমান করবে এই মেয়েটা তাকে।
রেহেনা বেগম লজ্জায় মরে যাচ্ছে।তার নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে।
প্রিয়ম যেয়ে প্রজ্ঞাকে ঠাস করে থাপ্পর মেরে দেয়।
“তুই আর কত জ্বালাবি সবাইকে।বিয়ের পর থেকে একটা দিনও তুই ওকে শান্তি দিস নি।তোর এত কি সমস্যা সবার সাথে।তোর জন্য কি কেউ ভালো থাকতে পারবেনা!”
প্রজ্ঞা রেগে নিজের রুমে চলে যায়।
“ভাই আমার আমি তোর কাছে ওর হয়ে ক্ষমা চাচ্ছি।ও এমন হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি।” প্রিয়ম তুর্যের কাধে হাত রেখে কথাটা বললো।
“এসব কি বলছো তুমি ভাইয়া। এরকম কিছুইনা।তুমিতো জানোই ও ছোট থেকেই একটু জিদ্দি টাইপের মেয়ে।কিন্তু তোমার বোনটা আমায় অনেক ভালোবাসে।একটু পর দেখবে নিজের কান্নাকাটি শুরু করবে আমার সাথে এমন করেছে তাই।আর ছোট থেকেই তো আমরা একসাথে বড় হয়েছি তাই ওর সব আমার জানা আছে।তুমি চিন্তা করো না।আর আজকে মেয়ে কেমন দেখলে।সুন্দর একটা ভাবি চাই কিন্তু। ” বলেই তুর্য ফিক করে হেসে দিলো।
প্রজ্ঞা যে কি কান্ড ঘটিয়েছে প্রিয়ম তা আর বললো না তুর্যকে।
তুর্য রুমে গিয়ে দেখে প্রজ্ঞা বসে বসে কাঁদছে। তুর্যকে দেখেই প্রজ্ঞা এসে জড়িয়ে ধরলো।
“তুমি আমাকে আবার খুলনা নিয়ে যাবে।আমি এখানে থাকবোনা আর।এখানে কেউ আমাকে ভালোবাসেনা।”
“আচ্ছা আমার মহারানী নিয়ে যাবো তোমাকে।এখন কান্না থামাও।দেখো তোমার জন্য কি এনেছি।”
তুর্য একটা প্যাকেট প্রজ্ঞার হাতে দিলো।
প্যাকেট খুলার সাথে সাথে প্রজ্ঞার মুখ টা আবার মলিন হয়ে গেলো।গোলাপি রঙের খুব সুন্দর একটা শাড়ী যে কেউই পছন্দ করবে।কিন্তু প্রজ্ঞা এই শাড়ীটা নিয়ে ঢিল দিয়ে ফেলে দিলো।কেচি বের করে শাড়িটাকে টুকরো টুকরো করে কাটলো।
তুর্য নিরব দর্শকের মতো তাকিয়ে আছে।তার চোখটা ঝাপসা হয়ে আসলো।
পরের দিন বিকেলে চিলক্সে প্রিয়ম ও রিদিতা দেখা করতে এলো।
“আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে রিদিতা।”
রিদিতা মুচকি হাসি দিয়ে ধন্যবাদ জানালো।
ওরা খাবার অর্ডার দিলো।
“আপনি যেনো কি বলবেন বলে ডেকেছেন।”
“আসলে আমি বলতে চাচ্ছিলাম যে, কোনোভাবেই কি আপনার পরিবারকে ম্যানেজ করা যায় না? আমি আপনাকে ৬ মাস ধরে খুঁজে তারপর পেয়েছি।”
এটা শুনে তো রিদিতা আকাশথেকে পড়লো।
“আমি তো আপনাকে আগে ঐদিকের আগে কখনোই দেখিনি তাহলে আপনি আমাকে কিভাবে চিনেন?”
প্রিয়ম মুচকি হাসি দিয়ে বললো,
“এটা এক লম্বা কাহিনী।৬ মাস আগে আমি আমার ফ্রেন্ড যমুনাতে গিয়েছিলাম শপিংয়ে। ঐখানে আমার ফ্রেন্ডের ছবি তুলার সময় ভুলে আপনিও ছবিতে এসে পড়েন।আমি বাসায় যেয়ে দেখি ছবিতে আপনাকেও দেখা যাচ্ছে।লাভ এট ফার্স্ট সাইট বলে একটা কথা আছে না আমার অবস্থা হয়েছে এমন। আপনাকে দেখেই এক অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করে।তারপর থেকে আপনাকে পাগলের মতো খুঁজেছি।এর ঠিক ৫ মাস পর আপনাকে আবার দেখতে পাই আমার ফ্রেন্ডের ছোট বোন রিয়ানার বিয়েতে। সেখানে জানতে পারি আপনি রিয়ানার ফ্রেন্ড।কি যে খুশি হয়েছিলাম ঐদিন।তারপর আপনার সম্বন্ধে খোঁজ খব নেই।আমারর ফ্রেন্ডকে সব খুলে বলি।ও রিয়ানাকে বলে সব ম্যানেজ করে দেয়।তারপরই আপনাকে দেখতে যাওয়া কিন্তু ঐদিন যে কি হয়ে গেলো আমি আবার আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।আচ্ছা আপনার কি আমাকে ভালো লাগেনি?”
রিদিতা চুপ করে আছে।এত কিছু শুনে সে অবাক।সে কি প্রিয়মকে সত্যিটা বলে দিবে নাকি বুঝতে পারছে না।হঠাৎ তার চোখ রাস্তায় থাকা একজনের উপর আটকে যায়। তাকে দেখার সাথে সাথে রিদিতা কিছু না বলে ছুট লাগায় রাস্তায়।
প্রিয়ম কিছু বুঝতে না পেরে রিদিতার পিছে দৌড়াচ্ছে।
রাস্তায় যেয়ে রিদিতা কাউকে পাগলের মতো খুঁজতে থাকে।
“ও কোথায় গেলো।আমি মাত্রই ওকে এখানে দেখেছি।ও কেনো আমার সাথে এমন করছে।” বলেই কাঁদতে লাগলো।
প্রিয়ম রিদিতাকে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করছে।তখনি প্রিয়মের ফোনে একটা কল এলো।
প্রিয়ম ফোনটা রিসিভ করে
ওপাশ থেকে…..
শুনার সাথে সাথে প্রিয়মের হাত থেকে ফোনটা পরে যায়।
চলবে..”””””
লেখিকাঃ
তানি তাছ রীত
  • 5
    Shares
  • 5
    Shares