575 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

আগুনের রেলগাড়ি

  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    9
    Shares

পর্ব ৩

রিদিতা প্লিজ আপনি শান্ত হন আমাকে এখন হসপিটালে যেতে হবে। মা কে হসপিটালে নেওয়া হয়েছে।”, প্রিয়ম বললো।
প্রিয়মের কথা শুনে রিদিতার হুশ ফিরলো।
” কি বলছেন আপনি? আন্টির কি হয়েছে।আমাকেও নিয়ে চলুন আপনার সাথে প্লিজ।”
প্রিয়ম আর কথা বাড়ালো না।তারা দুজন রওনা হলো হসপিটালের উদ্দেশ্যে। হসপিটালে পৌঁছে রিসিপশনে প্রিয়ম ওর মায়ের খোঁজ করলো। প্রিয়ম ওর মায়ের কেবিনের সামনে যেয়ে দেখলো প্রজ্ঞা বসে কাঁদছে।পাশের সৌরভ তার ফ্রেন্ড বসা।
প্রিয়মকে দেখে প্রজ্ঞা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লো।
“ভাইয়া মায়ের কি হলো রে? সব তো ঠিকই ছিলো।তাহলে মায়ের হার্ট এটাক কেন হলো ? ” প্রজ্ঞা কাঁদছে আর কথাগুলো বলছে।
হঠাৎ প্রজ্ঞা খেয়াল করলো পাশে রিদিতা দাড়ানো।রিদিতাকে দেখে এক নিমেষেই তার রাগ আসমানে উঠে গেলো। প্রজ্ঞা আবার তেড়ে গেলো রিদিতার দিকে যেনো এক্ষুনি ওকে ভস্ম করে দিবে।তখনি ডাক্তার আসলো ওদের কাছে।ডাক্তার কে দেখে প্রজ্ঞা থেমে গেলো।
“ডাক্তার আমার মা এখন কেমন আছে? কি হয়েছে মায়ের? প্লিজ বলুন আমাকে।” প্রিয়ম জিজ্ঞেস করলো।
“আপনি শান্ত হন।এতো উদ্বিগ্ন হবেননা।আপনার মা এখন সুস্থ আছে।কিন্তু সে খুব মানসিক চাপে ভুগছে।অতিরিক্ত চাপ নিতে না পেরে সে মাইল্ড এটাক করে।এর পর তার উপর এমন চাপ প্রয়োগ করলে খুব বড় ক্ষতি হতে পারে।আপনারা একটু খেয়াল রাখবেন।এখন তা বয়স হয়েছে এত চাপ নেওয়া তার দ্বারা সম্ভব না।”, ডাক্তার ওখান থেকে চলে গেলেন।
ডাক্তারের কথা শুনে প্রজ্ঞা একদম চুপ হয়ে গেলো।তার নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে।
প্রিয়ম বুঝতে পারছে না তার মায়ের কি এতো মানসিক চাপ।তাকে তার মায়ের সাথে কথা বলতে হবে।
রিদিতা শুধু দাড়িয়ে দাড়িয়ে সব দেখছে।এই পরিস্থিতিতে তার কি করা উচিৎ সে ভেবে পাচ্ছে না।
প্রজ্ঞা, প্রিয়ম, রদিতা রেহেনা বেগমকে দেখার জন্য কেবিনের ভিতর ঢুকলেন।প্রজ্ঞা ঢুকেই রেহেনা বেগমকে ধরে কান্নায় ভেঙে পরলো।প্রিয়ম তার মায়ের পাশে দাড়িয়ে আছে।প্রিয়মের পাশে রিদিতা দাড়ানো।
রিদিতাকে দেখে রেহেনা বেগম কাছে ডাকলেন।রিদিতা তার পাশে এসে বসলো।
” মা কেমন আছো তুমি? তুমি কি আমার উপর রাগ করে আছো? ঐদিনের জন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।আমার খুব ইচ্ছে তোমাকে আমার ছেলের বউ বানাবো।আমার ছেলেটা বড্ড ভালো। তোমাকে অনেক ভালোবাসে মা।আমি তোমার কাছে আমার ছেলেটার সুখ চাচ্ছি তুমি কি আমাকে ফিরিয়ে দিবে?” রেহেনা বেগম খুব অনুরোধ করে কথাগুলো বললেন।
“আহা মা এগুলো এখন ছাড়ো তো।তুমি আগে সুস্থ হয়ে উঠো।বাকি সব পরে দেখা যাবে।আমি রিদিতাকে বরং বাসায় রেখে আসি।”
“না না আপনাকে যেতে হবে না আমি একাই যেতে পারবো।”
“নাহ মা প্রিয়ম ই তোমাকে রেখে আসুক। আর হ্যা প্রিয়ম তুই রিদিতার বাবার সাথে কথা বলবি।লাগলে আমাকে ফোন দিবি আমি কথা বলবো তোদের বিয়ের ব্যপারে।আমি চাই আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে তোদের বিয়েটা হয়ে যাক।” মুচকি হেসে কথা গুলো বললেন।
“তুর্য কখন আসবে রে? ” প্রিয়ম জিজ্ঞেস করলো প্রজ্ঞাকে।
“যখন আসার আসবে ওটা নিয়ে তোমায় ভাবতে হবেনা।তুমি দয়া করে ওকে নিয়ে আমার চোখের সামনে থেকে যাও তা না হলে খুব খারাপ হয়ে যাবে।এই কালনাগিনীকে আমি একদম নিতে পারছিনা।” রাগে কটমট করে প্রজ্ঞা বললো।
প্রিয়ম প্রজ্ঞাকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই রিদিতা থামিয়ে দিলো। রেহেনা বেগমের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তারা রিদিতার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
“আচ্ছা তুর্য কে? ” রিদিতা খুব কৌতুহলবসতো জিজ্ঞেস করলো।
“তুর্য প্রজ্ঞার হাসবেন্ড।আবার আমাদের কাজিনও।২ বছর হলো ওদের বিয়ে হয়েছে।ওরা নাকি ছোটবেলা থেকেই একজন আরেকজনকে ভালোবাসতো।আমি ওদের বিয়েতে ছিলাম না।তখন কানাডায় আমি।মা ই ওদের বিয়ে দিয়েছে।”
রিদিতা আর কিছু বললোনা।তার কেমন যেনো লাগলো।
দরজায় টোকার আওয়াজ শুনে লতিফা বেগম দরজা খুলে দেখে রিদিতা আর প্রিয়ম দাড়িয়ে আছে।প্রিয়মকে দেখে সে আশ্চর্য হয়।
প্রিয়মকে ড্রইংরুমে বসতে দিয়ে লতিফা বেগম রিদিতার বাবা আলতাফ হোসেনকে ডাকতে গেলেন।
আলতাফ হোসেন যে প্রিয়মকে দেখে বেশ বিরক্ত হয়েছে তা তার ফেইস দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
“আংকেল আমার আপমার সাথে কিছু কথা ছিলো।” ভয়ে ভয়ে বললো প্রিয়ম।
“হ্যা বলো”
“আমি আপনাকে সরাসরি বলছি আংকেল। আমি কথা ঘুড়িয়ে পেচিয়ে বলতে পারিনা।আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই।আমি রিদিতাকে অনেক ভালোবাসি। গত ছমাস ধরে ওকে খুঁজে তারপর পেয়েছি।”
প্রিয়ম সবটা খুলে বললো।
“দেখো বাবা ও আমার আদরের একমাত্র মেয়ে।আমার জান ওর মধ্যে।ওর কোনো কষ্ট আমি মেনে নিতে পারবোনা।তোমার বোন প্রথম দিনই আমার মেয়ের কপাল থেকে রক্ত ঝড়িয়েছে।বিয়ের পর যে ও আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে না এর কোনো গ্যারান্টি আছে? কোন ভরসায় আমি তোমার সাথে আমার মেয়েকে বিয়ে দিবো।?” আলতাফ হোসেন শান্তভাবে বললেন।
প্রিয়ম খুব ইতস্তত বোধ করছে।
“আংকেল আমি আপনাকে বলছি আপনার মেয়ের কিছু হবেনা। আমার মা খুব অসুস্থ। সে ই আমাকে কথা বলতে পাঠিয়েছে। আপনি যদি একটু তার সাথে কথা বলতেন।”
আলতাফ হোসেন প্রিয়মের থেকে নম্বর নিয়ে প্রিয়মের মা কে ফোন দিলেন।কথা বলার জন্য সে ঘরে চলে গেলেন।পিছে পিছে রিদিতার মা ও গেলো।
“আমার আপনার সাথে কিছু কথা আছে? আমি চাই আপনি আমার পুরো সত্যিটা জেনে তারপর সিদ্ধান্ত নিন আমাকে বিয়ে করার।” রিদিতা বললো।
প্রিয়ম বুঝতে পারছে না কি এমন সত্যি আছে।
” আমার কোনো সত্যি জানার প্রয়োজন নেই। তারপরও আপনি বলতে চাইলে আমি শুনবো।কাল আবার চিলক্সে দেখা করি তাহলে। “
এর মধ্যেই রিদিতার মা বাবা রুম থেকে বেড়িয়ে এলো।তাদের দেখে বেশ খুশি খুশি লাগছে।প্রিয়ম তাদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলো।
প্রিয়ম ডিরেক্ট হসপিটালে যায় তার মা কে নিয়ে আসতে।যেয়ে দেখে ওখানে তুর্য বসে আছে।
“তুর্য প্রজ্ঞা কইরে? “
“জানিনা ভাইয়া।আমি এসে দেখি ও এখানে নেই।মা কে একলা রেখে কোথায় যে গেলো মেয়েটা।” তুর্য খুব চিন্তিত হয়ে বলে।
প্রিয়মের ও এখন চিন্তা হিচ্ছে। তুর্য ও প্রিয়ম রেহেনা বেগমকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
বাড়ি পৌঁছে দেখে বাসার দরজা খোলা।ভিতরে ঢুকে দেখে সব ওলোট পালোট হয়ে আছে। মনে হচ্ছে বাসার ভিতরে ভুমিকম্প বয়ে গেছে। প্রিয়মের চোখ ঘরের এক কোনায় আটকে যায়।তার মনে ধক করে উঠে….
চলবে..
লেখিকাঃ
তানি তাছ রীত
  • 9
    Shares
  • 9
    Shares