2737 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

আগুনের_রেইলগাড়ি

  • 34
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    34
    Shares
পর্ব ঃ০১
৫ মিনিট হলো রিদিতা পাত্র পক্ষের সামনে বসে আছে।কিন্তু আসার পর থেকেই দেখছে একটা মেয়ে তার দিকে কেমন যেনো ভুত দেখার মতো তাকিয়ে আছে।মনে হয় ছেলের বোন হবে।কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ মেয়েটা এসে রিদিতাকে ঠাস করে থাপ্পর মেরে দেয়।”
চোখের পলকে যেনো ঘটনাটা ঘটে যায়।সেখানের উপস্থিত সবাই পুরোই অবাক। কারোই বোধগম্য হলো না যে কি হলো এটা।মেয়েটা শুধু থাপ্পর দিয়ে শান্ত হয়নি এখন রীতিমতো গালিগালাজ শুরু করে দিয়েছে।
প্রিয়ম ( পাত্র) যেয়ে প্রজ্ঞাকে ধরে রাখতে পারছেনা।প্রজ্ঞা গালিগালাজ করেই যাচ্ছে
এই বুঝি রিদিতাকে কাঁচা চাবিয়ে খেয়ে ফেলবে।
“মা ও মা ও সেই মেয়ে যার জন্য তোমার মেয়ে এতোদিন কষ্ট পেয়েছে।তুমি কিভাবে তাকে ছেলের বউ করতে চাও। ভাইয়া ও ভাইয়া তুই এই কালনাগিনীকে বিয়ে করিসনা।।” বলেই চিৎকার করতে লাগলো প্রজ্ঞা।
রিদিতা তখনো হা করে তাকিয়ে আছে।সব কিছু যেনো তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।এইদিকে রিদিতার মা বাবা তো রেগে আগুন।তার এতো আদরের মেয়েকে এভাবে অপমান কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেনা।
প্রিয়ম এবং তার মা অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে রিদিতাদের দিকে।কিন্তু প্রজ্ঞাকে কোনো মতেই সামলাতে পারছেনা।সে একটা ভয়ংকর কান্ড ঘটিয়ে ফেললো।টেবিলের উপর থাকা ফুলদানিটি রিদিতার দিকে ছুড়ে মারলো।রিদিতার মাথা কেটে গেলো।এটা দেখে উপস্থিত সবাই হতবম্ব হয়ে গেলো।
প্রিয়ম এবার না পেরে প্রজ্ঞাকে থাপ্পর বসিয়ে দিলো গালে।প্রজ্ঞা এবার তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।
“তুই এই মেয়ের জন্য আমাকে মারলি! তুই তো কোনোদিন আমাকে বকাও দিসনি।তুই ওর জন্য আমার গায়ে হাত তুললি।দেখেছো মা তোমার ছেলে বিয়ে না করতেই পর হয়ে গিয়েছে।এই মেয়েকে আনলে তোমাকে তাড়িয়ে ছাড়বে। ও আমার জীবন টা শেষ করে দিয়েছে।ওর জন্য আমি আজও সুখী হতে পারিনি।” বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লো।
“তুই থামবি নাকি তোকে এবার আমি মেরেই ফেলবো।” বলেই প্রিয়ম প্রজ্ঞার দিকে এগোতে লাগলো।
আর এইদিকে রিদিতাকে তার বাবা মাথায় ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে।রিদিতা সোফায় বসে আছে।
“আপনি প্লিজ শান্ত হন। ওকে কিছু বলবেন না। হয়তোবা কোনো ভুলবুঝাবুঝি হয়েছে। ও আমাকে অন্য কারোর সাথে গুলিয়ে ফেলেছে এমন ও হতে পারে।” রিদিতা অনেক শান্তভাবে বললো।
প্রিয়ম রিদিতার কথা শুনে থেমে গেলো।
কিন্তু ঘটলো আরেক বিপত্তি।প্রজ্ঞা অজ্ঞান হয়ে গেলো।
ডাক্তার ডাকা হলো।
“প্রজ্ঞার কি হয়েছে ডাক্তার? “
“তেমন কিছুনা। অতিরিক্ত স্ট্রেসের জন্য অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে।কিচ্ছুক্ষণ পরই জ্ঞান ফিরে আসবে।”
ডাক্তার কে বিদায় দিতে গেলো রিদিতার বাবা।
এইদিকে প্রিয়ম লজ্জায় শেষ।তার বোনটা কি করে ফেললো।এখন ও মুখ দেখাবে কি করে।প্রিয়মের মা রেহেনা বেগম ও লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে।
“ভাইসাহেব আমি আমার মেয়ের হয়ে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।আমি বুঝতে পারছিনা ও এমন কেন করলো।প্লিজ আমাদের ক্ষমা করে দিবেন।”
রেহেনা বেগম অনেক ইতস্তত হয়ে বললেন।
প্রিয়ম ও সবার কাছে ক্ষমা চাইলো।রিদিতার দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে রইলো।রিদিতা কিছু বললো না।
প্রজ্ঞার জ্ঞান ফিরার পর সে রিদিতার দিকে এমন ভাবে তাকাচ্ছে যেনো এখনি মেরে ফেলবে। প্রিয়ম অনেক বার করে বললো প্রজ্ঞাকে মাফ চাইতে।কিন্তু মাফ চাওয়া তো দূরে থাক সে রিদিতাকে আরো দুটো কথা শুনিয়ে দিলো।
প্রিয়ম এবং তার মা লজ্জায় সেখান থেকে চলে এলো প্রজ্ঞাকে নিয়ে।
বাসায় এসে প্রজ্ঞা পুরো ভুমিকম্প তুলে ফেললো।কোনো ভাবেই এই মেয়ের সাথে সে তার ভাইয়ের বিয়ে দিবে না।
(প্রিয়মের ৬ বছরের ছোট প্রজ্ঞা।প্রজ্ঞার বয়স যখন ১ তখন তাদের বাবা মারা যায়।তখন থেকে রেহেনা বেগমই ২ সন্তানকে মানুষ করে।)
“মা তোমার মেয়েকে বলো চুপ করতে তা না হলে ও আজকে আমার হাতে মরবে।ও অতিরিক্ত আদর পেতে পেতে এমন হয়ে গিয়েছে।তুমি তো অর দোষ ই দেখতে পাওনা। আমি দেশে ফিরেছি মাত্র ৮ মাস হলো। আর তাতেই ওর যা নমুনা দেখছি।না জানি আমি না থাকাকালিন কি কি করেছে।ওকে ডাক্তার দেখাও।ওর মাথা আসলেই ঠিক নেই।ওকে নিজের বোন বলতেও আমার লজ্জা লাগছে।”বলেই প্রিয়ম রাগে সেখান থেকে নিজের রুমে চলে যায়।ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দেয়।
এইদিকে
” মা ও সেই মেয়ে যার জন্য তোমার মেয়ে মরতে গিয়েছিলো। তুমি বুঝতে কেন পারছো না আমি কার কথা বলছি।”
প্রজ্ঞা ওর মাকে এমন কিছু বললো যা শুনার পর রেহেনা বেগমের মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো।সে এখন কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা।এই পরিস্থিতি কিভাবে সামলাবে।আল্লাহ কি তাকে তার পাপের শাস্তি দিচ্ছে।
” মা তুমি এই বিয়ে আটকাও প্লিজ মা।ভাইয়াকে বুঝাও।কত মেয়েই তো আছে।আমরা সুন্দর মেয়ে দেখে ভাইকে বিয়ে দিবো।”
রেহেনা বেগম খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন।সে তো জানে তার ছেলে কেমন নাছোরবান্দা। রিদিতাকে বিয়ে না করার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে কি বলবে।নাহ তার মাথা কাজ করছে না কেমন ঝিমঝিম করছে।
কিছুক্ষন পর রেহেনা বেগম তার ছেলের রুমে গেলো,
“বাবা তোর সাথে কিছু কথা ছিলো।
হ্যা মা বলো।
” বাবা তুই রিদিতাকে বিয়ে করিস না।দেখ আরো কত ভালো মেয়ে আছে।তুই ওর কথা ভুলে যা।”
“মা কি বলছো তুমি।তুমি জানোনা ওকে আমি গত ৬ মাস ধরে পাগলের মতো খুঁজেছি।প্রথম দেখায় আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি।এত কষ্ট করে ওর খোঁজ পাওয়া পর তুমি বলছো ওকে ভুলে যেতে।কেন মা এমন কেনো বলছো?”
রেহেনা বেগম কি বলবে বুঝতে পারছেনা।সত্যি টাও তো বলা যাবে। সত্যিটা জানালে সে তার ছেলেকে হারাবে।
“মা প্রজ্ঞা আজ এমন কেন করলো বলো না!”
“বাবা তুই তো জানিস ওর মাথায় একটু সমস্যা আছে।ও মনে হয় রিদিকে অন্য কারো সাথে গুলিয়ে ফেলেছে। আমি ওর সাথে কথা বলছি।”
রেহেনা বেগম সেখান থেকে চলে গেলেন।
এইদিকে রিদিতা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।মেঘলা আকাশ বৃষ্টি হবে এমন।
বৃষ্টি হলেই তার মন খারাপ হয়ে যায়।কেনোনা এই বৃষ্টির সাথে তার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।যা আজও ভুলতে পারেনি সে।স্মৃতিগুলো তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।এত কষ্ট এত যন্ত্রণার অবসান কবে হবে জানা নেই তার। সেদিন এমনি এক বৃষ্টির দিন ছিলো। রাস্তায়..
এমন সময় রিদিতার ফোনটা বেজে উঠলো। সে বাস্তবে ফিরে এলো।ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো আননোন নাম্বার।ফোনটা রিসিভ করে সালাম দিলো রিদিতা।
ওপাশ থেকে সালামের উত্তর নিয়ে,
“আমি প্রিয়ম বলছিলাম।এখন কেমন আছেন আপনি?মাথা ব্যাথা করছে?”
অহ আপনি কল দিয়েছেন।না এখন ভালো আছি। কিন্তু আপনি আমার নাম্বার কোথা থেকে পেলেন?
“জানাটা কি খুব দরকার?”
না দরকার নেই তেমন।আচ্ছা প্রজ্ঞা কেমন আছে এখন?
“ওর কথা আর বলিয়েন না।ও যে এমন কেন করলো।আমি আবার আপনার কাছে সরি বলছি।” তখনি কেউ একজন এসে প্রিয়ম কে ডাক দিলো,
ফোনের ওপাশ থেকে আওয়াজটা শুনে রিদিতার মনে ধক করে উঠলো।হাত পা কেমন যেনো কাঁপছে।সে কি ভুল শুনছে নাকি.   চলবে ………
লেখিকাঃ
তানি তাছ রীত
  • 34
    Shares
  • 34
    Shares