344 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

আজ ১০ই জুলাই, শহীদ হালিম দিবস।

  • 443
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    443
    Shares

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামঃ-

আজ ১০ই জুলাই, ১৯৮৪ সালের আজকের এ দিনে দেশের একমাত্র সুফীবাদের বিশ্বাসী ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সদস্য আব্দুল মোস্তফা হালিম সুন্নীয়তের চিরশত্রু জামাত শিবিরের নির্মম নির্যাতনের স্বীকার করে শহীদ হন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব জননেতা স.উ.ম আবদুস সামাদ এর কাছে শহীদ আব্দুল মোস্তফা হালিম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন আব্দুল মোস্তফা হালিম কে শহীদ করা হয় তখন আমি ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র, হোস্টেলে থাকি। তখন যোগাযোগের মোবাইল পদ্ধতি ছিল না। চিঠির মাধ্যমে খবর পৌঁছাতো কিংবা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে ঘটনা দুঃঘটনার খবর পাওয়া যেত। ১১ই জুলাই সকাল বেলা কয়েকজন শিবির কর্মী হোস্টেলে আমাকে ঘেরাও করে বলে যে, চন্দ্রঘোনা মাদ্রাসায় তোমরা আমাদের এক কর্মীকে হত্যা করেছ। তারা জামাতের মুখপত্র সপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল।

আমি অপ্রস্তুত হয়ে যাই, ঘটনা কি জানি না। সোনার বাংলা পত্রিকায় বিকৃতভাবে নিউজ ছাপা হয়। সে নিউজে ছাপা হয় চন্দ্রঘোনা মাদ্রাসা সুন্নিদের দখলে। সুন্নিরা একজন শিবির কর্মীকে হত্যা করেছে। আমি খুব বিব্রত হয়ে পরি প্রকৃত ঘটনা কি জানিনা। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম ওখানে কেন হত্যা করল বিষয়টা জানার পরেই আমি জবাব দিতে পারব। আমি বললাম, ওখানে কে কাকে হত্যা করছে তার জন্য আমি এখানে জবাব দিব কেন? এইসব নিয়ে তুমুল বাড়াবাড়ি হল। ঠিক সে সময় স্থানীয় যে ছেলে(হকার)দৈনিক ইত্তেফাক নিয়ে পত্রিকা নিয়ে আমার রুমে আসল। তাদের সামনে ইত্তেফাক পত্রিকা হাতে নিলাম, ২য় পৃষ্ঠায় ইত্তেফাক নিউজ ছেপেছে চন্দ্রঘোনা তৈয়বিয়া মাদ্রাসায় শিবির কর্মীর হাতে একজন সেনাকর্মী নিহত হয়েছে এবং শিবির কর্মী মাহমুদুল হককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের সামনে পত্রিকা তুলে ধরার পরে তারা চুপচাপ চলে যায়। তারা বিকৃত নিউজ প্রকাশ করে আমার উপর হামলা করার পায়তারা করেছিল। তিনি শহীদ হালিম দিবসে শহীদ হালিমকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করেন। তিনি আরও বলেন, সুন্নিয়তের আন্দোলনকে উজ্জীবিত করতে শহীদ হালিমের মত অসংখ্য ত্যাগী কর্মীরা তাজা রক্ত দিয়ে যাচ্ছে। তাদের রক্তের সাথে যেন কোন প্রকার বেইমানী না হয়, সে ব্যাপারে সজাগ থেকে সকল সুন্নি নেতা কর্মীদের কে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণ করার জন্য তিনি বিনীত আহবান জানান।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশ এর মুখপাত্র এড. মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ারের কাছে শহীদ আব্দুল মোস্তফা হালিম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুন্নীয়তের আন্দোলনে শহীদ আব্দুল মোস্তফা হালিম প্রথম শহীদ ব্যক্তি। ১৯৮৪ সলের ১০ জুলাই চন্দ্রঘোনা তৈয়্যবিয়া মাদ্রাসার হোস্টেলে ঘুমন্তাবস্থায় জামাত শিবিরের কর্মীরা তাকে নৃশংস ভাবে শহীদ করে। তবে সেদিন তাঁর খুনি হাজারো চেষ্টা করেও পালাতে পারেনি। গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ এর নজরবন্দি হয়ে সারারাত মাদ্রাসার ভিতরে ঘুরঘুর করছে। সকাল বেলা জনতার হাতে ধরা পড়লে খুনির বিচার জেল ও শাস্তি উভয়ই হয়। তিনি বলেন, গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ বলেছিল “কেউ আমার কোন বাচ্চাকে এক আঙুল দেখালে, আমি তার উপর পাহাড় তুলে দেব”। হালিমকে শহীদ করার পরে গাউসে জামান তৈয়্যব শাহ্ তাই করে দেখিয়ে দিলেন।

শহীদ হালিম বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চন্দ্রঘোনা মাদ্রাসা শাখার কর্মি ছিলেন। তিনি আরো বলেন, শহীদ হালিমকে শহীদ করার ঠিক ২২তম দিবাগত রাতে ১৯৮৪ সালের ২ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত একটার সময় সংগঠনের প্রতিবাদী দেওয়াল লিখার সময় নাজিরহাটের বাজারে আমার উপরও হামলা হয়। যখন আমাকে ওরা কোপাচ্ছিল তখনও আমার হাতে ছিল চিকা লেখার ব্রাশ। ঐ হামলাকারী জামাত শিবিরের অনেকেই আজ মাটির নিচে চলে গেছে, আল্লাহ্ পাক আমি গুণাহগার কে এখনও মাটির উপরেই রেখেছেন। তিনি বলেন, যার হাতের কিরিচ দিয়ে আমার মাথায় প্রথম কোপ দেওয়া হয়, সে শিবির ক্যাডার আজও চট্টগ্রামে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে বহাল তবিয়তে রয়েছে। অনেকবার সুযোগ-সুবিধামত পেয়েছিলাম তাকে, কিন্তু প্রতিশোধ নেবার ইচ্ছা কক্ষনো মনে জাগেনি। তিনি বলেন “দোস্তি আল্লাহর জন্য, দুশমনিও আল্লাহর জন্য”।

  • 443
    Shares