806 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

আমরা কোন পথে চলছি – কোন পথে চলছে আমাদের রাজনীতি

  • 81
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    81
    Shares
আমরা আজো রাজনীতির গুণবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের আহ্বানে বারবার দেশের জনগণ সাড়া দিয়েছে দিয়ে যাচ্ছে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় কিন্তু আশাহত হয়েছে সাধারণ মানুষ, স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বারবার।
জাতির দুর্ভাগ্য রাজনীতিতে আজো ঔপনিবেশিক ধ্যান- ধারণার কুপ্রভাব অব্যাহত আছে।রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সে কারণে আজো পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়নি।এতে নিজেরা পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সার্বিকভাবে।
ব্যক্তি থেকে দল, দল থেকে দেশ-জাতি অনেক বড়। কিন্তু ব্যক্তি উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে দল।কাজেই ব্যক্তির আচার আচরণ গুণাবলি দলের উপর প্রভাব রাখে। রাজনীতির লক্ষ্য সামগ্রিক এবং সার্বজনীন ভাবে ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা জনগণের জন্য উন্নত ও সমৃদ্ধশালী জীবন নিশ্চিত করা।
আজ রাষ্ট্র-যন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুষ – দুর্নীতি শক্ত শেকড়ে গ্রথিত এবং এই কালচার যেন বৈধ ব্যবস্থা।এই চলমান স্ট্যান্ডার্ড স্থিতিলাভ করায় অবক্ষয়ের স্রোতে জাতি ভেসে চলছে। বিশেষ করে – রাজউক, পুলিশ, পাসপোর্ট, ভূমি জরিপ, টিএন্ডটি ইত্যাদি বিভাগে প্রকাশ্যে প্রতিনিয়ত বলী হচ্ছে সাধারণ মানুষ যাদের ট্যাক্সেই কিনা এসব বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা চলে। জনগণ কে সেবা প্রদানের জন্যই যে তাদেরকে নিয়োগদান করা হয়েছে এ কথা আজ যেন দশের চক্রে ভগবান ভূত গল্পের মতো। এমন একজন নগরবাসী কি পাওয়া যাবে যিনি এসব কর্মকর্তাকে ধন্য না করে নিজে ধন্য হয়েছেন।এই সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারী দলীয় আশ্রয় প্রশ্রয়ের মদদে হীন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতির সামনে বিশেষ করে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আদর্শ ও নৈতিকতার একটি মডেল সমাসীন রাখা জাতির পবিত্র দায়িত্ব। আজকের শিশুই আগামী দিনের রাষ্ট্র নায়ক, মানবপ্রেমী সমাজ সংস্কারক কিংবা বিশ্ব মানবতার কল্যাণে যুগান্তকারী ঔষধ আবিষ্কারক।কিন্তু অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে বিভাজিত শিশুর সুষম দৈহিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে নির্মমভাবে।গোটা জাতি তথা আমরা সবাই জঞ্জালে ভারাক্রান্ত এ জঞ্জালের আবর্তে নিমজ্জমান আমরা সবাই। আমি মনের জঞ্জালের কথা বলছি লোভ, লালসা ঘুষ, দূর্নীতি প্রতারণা, অনাচার সব জঞ্জালে গ্রাস করেছে আমাদের ব্যক্তি জীবন ও সমাজ জীবন কে।
বিবেকবান মানুষকে সমাজ পরিবর্তনের নৈতিক দায়িত্ব এড়ালে চলবে না। সকল কে জঞ্জাল সার্ফ করে সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে হবে।
ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণমূলক সমাজ কায়েম করতে হবে।গণতন্ত্রের স্বার্থে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টি কে আন্তরিক হতে হবে।নীতিগত ভাবে সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকার ও বিরোধী দল এককভাবে সাফল্য ব্যর্থতার দায়ভার নিতে বাধ্য।গণতন্ত্র শুধু আবেগের বিষয় নয় – গণতান্ত্রিক বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে সততার সঙ্গে ধারণ করতে হবে।তাহলে দেশের জনগণ সুফল পাবে।
সমাজ পরিবর্তনের একমাত্র এবং শক্তিশালী ভরসা রাজনীতি। রাজনীতির গন্তব্যহীনতা জনগণকে উন্নয়নের গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনীতি জনগণের কাছে আস্থাহীন হয়ে পড়ছে।মেধা নির্ভর দায়িত্বশীল রাজনীতির আজ জাতির বড় বেশী প্রয়োজন।এক্ষেত্রে প্রয়োজন মেধা নির্ভর উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক সরকার। নিশ্চয়ই রাজনীতি স্বাধীনতাকে তাৎপর্যময় ও অর্থপূর্ণ করে তোলার জন্য নুতন চিন্তা চেতনা ও বিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে জাতির পাশে এসে দাঁড়াবে। তাহলেই আমাদের উত্তরসুরের জন্য অনুসরণযোগ্য অনুমোদনযোগ্য কি রেখে যাচ্ছি এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
লেখকঃ আপোষহীন যুব নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক       
মোঃআজিজুল হুদা চৌধুরী সুমন      
  • 81
    Shares