281 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

আমার_একাই_যে_তুই

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

পর্ব-৩

পিছনে ফিরে ইউসুফ ভাইকে দেখে প্রান যেন ফিরে পাই আমি। এই মুহূর্তে তাকে আমার কাছে সুপার মেনের চেয়ে কম মনে হচ্ছে না । দৌড়ে তার কাছে গেলাম। তিনি পূর্ণদের দিক রাগি চোখে তাকিয়ে আছেন।এখন মজাই হবে।  ভাইয়া সব কটাকে ডিসুম ডিসুম করে মারবে ইয়াহু।আমি হাপাতে হাপাতে বললাম,

–” ভাইয়া দেখুন তারা আমাকে বিরক্ত করতেসে ধরে মারুন গিয়ে। একদম ডিসুম ডিসুম করে।”

ইউসুফ ভাই তখন আমার দিক ভ্রু কুচকে তাকালেন। তারপর চোখে মুখে বিরক্তি ছাপ ফুটিয়ে বললেন,,

–” আমাকে বাংলা সিনেমার হিরো পাইছিস? যে কথা নাই বার্তা নেই এদের ধরে মারবো?যতসব আজাইরা চিন্তা।”

তাহার কথায় একরাশ দুঃখের মেঘ জমা হলো মনে।কি এমন হতো? তিনি তাদের ধরে মারতেন! আর আমি মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে দেখতাম।মারামারির এক পর্যায় তিনি তার শুভ্র পাঞ্জাবীটা খুলে ফেলতেন সালমান খানের মতো। তার জিম করা বডি হা করে দেখতাম।

কিন্তু তিনি বরাবরের মতো আমার ভাবনায় এক বালতী বালি ঢেলে দিলেন তিনি।মুখটা চুপসে দাড়িয়ে রইলাম তার পাশে।তখনি “ওয়া” “ওয়া” চিৎকারে পুলিশের গাড়ি হাজির..! আশ্চর্য সিনেমায় প্রতিবার পুলিশের ক্যারেক্টার  হয় সিনের লাস্টের দিক কিন্তু আমাদের সিন শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ হাজির। হাউ?

আমি আড়চোখে তাকে দেখতে লাগলাম তিনি বাঁকা হাসচ্ছেন। পূর্ণ  ও তার দল বল এখনো দাড়িয়ে,  হয়তো আমার মতো তারাও চিন্তিত এখানে পুলিশ কিভাবে এলো?কি কাজ তাদের??

ইউসুফ এগিয়ে গেলেন পুলিশদের দিক।  হাত মিলিয়ে বললেন,,

–” স্যার ধন্যবাদ এতো শর্ট টাইমে আসার জন্য। এই যে পোলাদের দেখছেন? তারা আমার বোনকে ইভটিজিং করছিল।এদের ধরে নিয়ে যান।”

তখনি পাশ থেকে পূর্ণ হাসতে হাসতে বলল,,

–” হে হে হে! বলরেন আর হয়ে গেল না..! আর এমনিতেও আপনার কাছে প্রুফ আছে নাকি? যে আমি করেছি কিছু? পুলিশ তো মামা বাড়ি! কি বলিস রফিকককা?

সাথে সাথে তখনি দাঁত কেলিযে বলল,,

–“যে বস! হে হে!””

পুলিশ বলল,,

–” স্যার আমরা একে ৬ বার ধরেছি..! ৬ বারেই প্রুফ নেই বলে শাস্তি দিতে পারি নাই। এখন প্রুফ ছাড়া কিছু করতে পারবো না আমরা!”

ইউসুফ পুলিশের দিকে রাগে যায়। আর বলল,,

–” এটা কি বলছেন আপনি? আপনাদের এসব কথার জন্যই আজ কাল এরা লাই পেয়ে মাথায় উঠে ধেই ধেই করে নাচে! “

পুলিশ মাথা নত করে রইল। তা দেখে ইউসুফ ভাই বিরক্তি নিয়ে বলল,,

–” এদের ধরেন!  প্রুফ দিচ্ছি। (আমার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে ফোন বের করে)  এই নিন এখানে ভিডিও আছে তাদের করা কীর্তিকর্মের।

আমি তার কথা শুনে অবাক হয়ে রইলাম মুখ টা হা হয়ে গেল আমার। পূর্ণদের সঙ্গ পঙ্গ নিয়ে গেলেন মারতে মারতে পুলিশ।পূর্নের মুখ চুপসে আছে। তা দেখে হাসি হাসি পাচ্ছে।আর চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে,,” পূর্ণ বাবু এখন কেমন লাগে? মামা বাড়ি পার্মানেন্ট শশুর বাড়ি,  মধুর হাড়ি খান এবার! একদিন আসবো সময় করে শুনবো কিন্তু শশুর বাড়ির আপ্পায়নের কথা..!

ইউসুফ ভাইয়া আমার দিক এগিয়ে এলেন। তাকে দেখে মুখটা ভার করে রইলাম তখন তিনি হেসে ফোন  নাড়াতে নাড়তে বললেন,,

–” বুঝলিরে বাবুইপাখি!  আমি তোর মতো এতো বুদ্ধু না।  আমি হার্ডওয়ার্ক করিনা স্মার্ট ওয়ার্ক করি! গাধা না তোর মতো গর্ধব। “

তারপর আবার ধমকে বলে উঠলেন,,

–” কলেজে উঠেই পাঙ্খা গজাইছে তোর তাই না? তাই তো রাত বিরাতে ধেঁই ধেঁই করে নাচছিস! বেদ্দপ মেয়ে! চল বাসায়, আজকে থেকে তোর বাহিরে যাওয়া বন্ধ। একদম বন্ধ! “

তার কথায মনটা খারাপ হয়ে এলো আমার চরম খারাপ। এই লোকটা এমন কেন? একটি সুযোগও বাদ দেয় না সে আমাক অপমান করার হু…!

হলুদের অনুষ্ঠান শেষের দিক ফটোশপ চলছে।নানা এঙ্গেলে। তারপর গ্রুপ  ফোটো। আবার ফ্যামিলি। তারপর নাচ গান। এর মাঝে লিয়া এসে হাজির। এসেই দখলে নিয়ে নিলো ইউসুফ ভাইয়াকে এই বজ্জাত মহিলা।এসব দেখে ভাললাগে না মোটেও আমার মনে হয় ঝাটা পিটা করি এরে। কিন্তু ব্যর্থ আমি এই মাইয়া হয় তার দুর সম্পর্কের খালাতো বোন তাই চুপ।

এক পর্যায় শেষ হতেই যে যার রুমে আমিও চলে গেলাম আমার রুমে। ফ্রেশ হয়ে গা এলিয়ে দিলাম বিছানায়। আর তখন কার কথা ভাবতে লাগলাম। “ইশশ” তখন ইউসুফ ভাইয়া না আসলে কি হালটাই হতো! মনে মনে হাজারো ধন্যবাদ দিলাম আমার কিউটের ডিব্বাটারে..!সব ভাবতেই মুহূর্তেই চোখ জুড়ে নামলো ঘুম।

গভীর ঘুমে যখন আচ্ছান্ন তখন মনে হলো কেউ অতি আদরে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন।তারপর অনুভব করলাম কেউ ঠান্ডা কিছু আমার গালে স্পর্শ করছে। এমন স্পর্শ কেঁপে উঠলাম আমি। মন চাইছে ব্যক্তিটিকে দেখতে। আর সেই স্পর্শের আবেশে আরো গভীর ভাবে জড়িয়ে যেতে। কিন্তু চোখ গুলো যে বেইমানি করলো খুললো না একটা বারো।

কিছুক্ষণ পর কঁপালে সেই ব্যক্তিটির ঠোঁটে ছোঁয়া পেলাম। সে এতো নিকটে থাকাতে গায়ের স্মেল আছড়ে পরছে মুখে খুব পরিচিত সেই স্মেল। ধীরে ধীরে স্মেলটি হারিয়ে গেল। সাথে সাথে আমিও ডুবে গেলাম গভীর ঘুমে।

সকালে ঘুম ভাঙ্গলো খুব ভোরে। কেন জানি আজ ফুর ফুরে লাগচ্ছে। রাতের স্বপ্নটার কথা ভেবে লাল,  নীল হচ্ছি আমি? আচ্ছা এটা কি সত্যি স্বপ্ন?  তাহলে বাস্তবের মতো কেন লাগচ্ছে?সত্যিকি সেই ব্যক্তিটি ছিল? সাথে সাথে আয়নার দিক ছুটে যাই আমি। ও মা…. এটা তো…!

ছোট বলে বকবেন না প্লীজ।  কারেন্ট অনেক জালাচ্ছে।  ফোনটাতেও চার্জ দিতে পারছিনা। তাই যতটুকু পাড়চ্ছি লিখচ্ছি!

সাথে সাথে আয়নার দিক ছুটে যাই আমি। ও মা…. এটা তো…হলুদ! কিন্তু কাল তো আমি গোসল করেছি তাহলে এটা? তার মানে রাতে ওটা স্বপ্ন ছিল না? কেউ বাস্তবেই ছিল? তাহলে ব্যক্তিটা কে? ওই স্মেলতো খুব পরিচিত  লাগচ্ছে! কিন্তু মনে পরছে না! কি করি? হুম খুঁজতে হবে!

আজ মিশুপির বিয়ে সকাল থেকে হই হুল্লোর শুরু।সবাই সবার নির্ধারিত কাজে ব্যস্ত। বিয়েটা যেতেতু বাসতেই হবে, তাই কাজ দিগুন। ছোট মামা ময়মনসিংহের বেষ্ট বাবুর্চিকে হায়ার করেছেন।রান্না করার জন্য বাসার মাঠের এক সাইডে রান্না ব্যবস্থা করা হয়েছে।বাবুর্চির সঙ্গিরা চুলো বসাচ্ছেন।আর মামা তাদের খাবার লিষ্ট দিচ্ছেন।আরেক দিকে রান্নার ঘরে শুনা যাচ্ছে মহিলাদের গুঞ্জন। বাসার সব মহিলারা মসলা, মাংস,  চাল, ডাল নিয়ে ব্যস্ত।আশেপাশে ইউসুফ ভাইয়াকে দেখতে পেলাম না কোথাও,হয়তো সেো ব্যস্ত কোনো কাজে।বাড়ির ছোটরা মানে আমরা আপাদতে সোফায় গাপটি মেরে বসে আলোচনায় ব্যস্ত। আলোচনার টপিক! গেট ধরবো আমরা,  সেখানে কতটাকা ধরা যায়।তখন তিথি বলল,,

–” অবশ্যি ৩০০০০/৪০০০০ এর কম ধরা যাবে না।”

তখনি পাশ থেকে বুশরা বলল,,

–” আপি বেশী হয়ে গেল না?”

–” বেশী হবে কেন? এটা তো অনেক কম! মন্ত্রীর ছেলে বলে কথা, স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী টাকা দিবে!”

নুশরা বলল,,

–“ঠিকিতো! মেয়ে দিচ্ছি আমরা! টাকা না দিলে ভিতরে আশা বন্ধ! একদম বন্ধ! চলে যাক উল্টো পায়!”

তখনি পিছন থেকে মিশুপু বলে উঠে,,

–” একদম ঠিক কথা! কিন্তু ৩০০০০/৪০০০০ না ডিরেক্ট ৫০০০০ নিবি। না দিলে বিয়ে ক্যানসেল।

এটা শুনে সবাই খুশিকে লাফিয়ে উঠলো সবাই। আমি বসে হাসতে লাগলাম। এদের এসবে আমার কাজ কি আমি দূর্সম্পর্কের মানুষ।নানু মার আগের ঘরের সন্তান হচ্ছে আমার মা। আমার নানুভাই মারা যায় আমার মা নানুর গর্ভ থাকতেই। তাই আম্মু হওয়ার পর নানুমাকে আবার বিয়ে দেয়া হয়।আর তারও আগের ঘরে দু সন্তান ছিল। সম্পর্কে তারা আমার বড় আর ছোট মামা।কিন্তু এই পরিবারটি কখনো আমাদের পর ভাবেনি আপননি ভেবেছে সারা জীবন। মা আমাকে জম্ম দিতে গিয়ে মারা জান। বাবা বিয়ে করে নেন আরেকটি।সব ভাল কাঁটছিল প্রথম। বড় হতে থাকি সৎ মার স্বাভাবে পরিবর্তন আসতে থাকে।যখন ক্লাল টেনে পড়ি তখন একটি ঝামেলার জন্য বাবা বাড়িও ছাড়তে হয়। তাই তো আজ তাদের বাসায় আশ্রিতা আমি। কিন্তু তা তারা কখনো ভুজতে দেন নি।আপন মানুষরা দূর করে দিয়ে পর মানুষ গুলোই আপন করে নিল। এই জন্যই হয়তো বলে””আপন থেকে পর ভাল, পর থেকে বিদেশ”। এসব ভেবেই নিঃশ্বদে ছোট শ্বাস নিলাম। তখনি মিশুপি বলল,,

–“কিরে কুহু তুই কিছু বল! সব প্লেনিং কি আমরাই করবো?”

আমি হাসলাম।আর যেই কিছু বলতে নিব তার আগেই লিয়া এসে হাজির।হাতে নেলপলিশ লাগাতে লাগতে বলল,,

–” মিশু কি যে বলিস? ও কি বলবেরে? থাকে তো আশ্রিতা হয়ে। আবার মতামত জানতে চাইছিস!

লিয়ার কথায় মনটা খারাপ হয়ে গেল আমার ভীষণ রকমের খারাপ!সেখানে বসে থাকায় দায় আমার জন্য। যদিও কথা গুলি সত্যি। আর এটা নতুন না কোনো অজানা কারণেই লিয়া আমায় পছন্দ করে না। লিয়া এখানে আসার পর থেকেই নানা ভাবে হার্ট করতে থাকে আমায়। সে যাই হোক এখনো বসে থাকা আমার পক্ষে কোনো ভাবেই সম্ভব না। তাই উঠে চলে এলাম।আর পিছন থেকে শুন্তে পেলাম মিশুপির কন্ঠ।

–” লিয়া! হোয়াট’স ইউর প্রবলেম?  তুমি ওকে এসব বলার কে? আসচ্ছো পর থেকে….

আর কিছু কানে আসলো না আমার।

ছাদের কার্নিশ ঘেঁষে দাড়িয়ে আছি! এখান থেকে বামার সবটা দেখা যাচ্ছে। সবাই ছুটছুটি করে কাজে ব্যস্ত।এদের সবার মাঝে আমার অস্তিত্ব কোথায়? নেই!

–” এখাাে কি করছিস? বৃষ্টি মাঝে দাঁড়িয়ে!”

পিছন থেকে ইউসুফ ভাইয়ার কথা শুনা গেল।।বৃষ্টি কখন শুরু হয়েছে টের পাইনি।আমি পিছনের ফিরতেই হা হয়ে গেলাম।ইউসুফ ভাইয়া গারো সবুজ একটি পাঞ্জাবী পড়েছেন। চুল গিলো জেল দিয়ে সেট করা। চোখে নরমাল গ্লাস,  যা দিয়ে বিলাই চোখ গুলো ঢাকা। ডিপ সবুজ রঙটা ভাইয়ার ফর্শা শরীরে মারাত্মক  লাগচ্ছে। আমি তাকে এভাবব দেখে আরেক দফা ক্রাশ  খেলাম।আচ্ছা মানুষটা এত সুন্দর কেন? ছেলেদের বেশী সুন্দর হলে,  বিড়াল মনে হয়ট।

–“কাঁদচ্ছিস কেন?”

ইউসুফ ভাইয়ার এবমন কথায় ভাবনার সুতা কাঁটে চমকে উঠি আমি!কিভাবে বুঝলেন আমব কাঁদচ্ছি? হাউ? বৃষ্টির পানিতে আমি কাক ভেঁজা,  বোঝার উপায় নেই! তাহলে? আমি মিন মিন করে বললাম,

–” কাঁন্না করি নাই! বৃষ্টির আটকে!”

তিনি আমার দিক তীর্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠেন,,

–“চশমা পড়েছি বল আমি কানা না! অতি ক্ষুদ্র জিনিষও সুক্ষ ভাবে দেখতে পাই আমি! কি হয়ে বল নয়তো ছাদ থেকে ধাক্কা মারবো! “

আমি তার কথায় চুপ।  লোকটি এমন কেন? কিভাবে হুমকি দিয়ে কথা বলে! আল্লাহ্! আমাকে চুপ থাকতে দেখে ইউসুফ ভাই আবার প্রশ্ন করলেন তবে ধমকে। আমি মাথা নত করে চুপ!

–” বলছিস না কেন?”

–” ছোট ভাইয়া ও কিছুই বলবে না। হাজার ধমকালেও কেন! মারলোও! ও না চাইলে মুখ থেকে এক ফুটো কথা বের করতে পারবে না। আমি বলছি! (তখন আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই আপি আমার দিক তাকিয়ে বলে,,”চুপ”)  ভাইয়া লিয়া কিছুক্ষণ আগে ওরে যাতা বলেছে…!

ধীরে ধীরে সব বলে দিলো মিশুপু। এসব শুনে চোখ মুখ শক্ত করে ধপাধপ পায়ে নিচে নেমে যায়। আর তার আগে ধমকে বলে উঠে গেলেন,

–“এখনি রুমে যাবি! কাপড় চেন্জ করবি! নয়তব মাথায় তুলে আছাড় মারবো!”

আমি সেখানেই দাড়িয়ে।  আমার জন্য এ পরিবারে ঝামলা হোক চাইনি। তাই তো চুপ ছিলাম কিন্তু মিশুপি বলে দিল। এখন কি হয়! কে জানে?

নিচ থেকে চেঁচামেচির অাওয়াজ আসচ্ছে। আমি সেখানে যেতে চাইলে মিশুপি টেনে তার সাথে নিয়ে যায়।আর বলে উঠে,

–” তোর সেখানে কাজ নেই! চল আমার সাথে পার্লারের মানুষ এসে  গেছে সাজবো!”

দেখতে দেখতে ২ টা বেঁজে গেল। আপিকে স্টেজে বসানো হয়েছে! জামাইও চলে এসে গেট ধরা হযেছিল। আমাদের কথা অনুযায়ী  ৫০০০০ টাকাও পেয়েছি আমরা। আপিকে সুন্দর লাগচ্ছে স্কিন কালার লেহেঙ্গা পড়েছেন। আয়ান জিজু সেই রঙ্গের পাঞ্জাবী। মজার বিষয় হচ্ছে জিজুুর বসার জায়গা নিয়ে।  সেকানে জিজু আর তার ফ্রেন্ডস বসতেই, কড়মড়িয়ে উঠতে লাগলো! আসে পাশে সকলেই হাসতে লাগলো। তারাতো লজ্জায় লাল।

খাওয়া পাঠ চুকিয়ে এখন বিয়ে পড়ানো হচ্ছে। কাজী  সাহেব কবুল বলতে বললেই জিজু তরতর করে কবুল বলে দিল। তা দেখে হেসে লুটুপুটু খাচ্ছে সব। আয়ান জিজুর দাদু তখন রসিকতার সুরে বলে উঠে,

–“দাদু ভাই! একটু আসতে তোর বউ ভেগে যাচ্ছে না! তোরই আছে।”

দাদির কথায় হেসে পড়লো সব। মিশুপি লজ্জায় লাল!

তারপর আসে মিশুপির পালা।  তিনি অনেক সময় নিলেন বলতে!বিয়ে শেষ হতেই। মিষ্টি আনতে বলতেই ছুটে গেলাম আমি। মিষ্টি আনতে বাসার ভিতরে ঢুকলাম আমি। খাবার টেবিল থেকে প্লেটে করে মিষ্টি তুলছিলাম। তখন কেউ পিছন থেকে আমার জামার চেন উপরে তুলে দেয়। আমি সাথে সাথে শক্ড! পিছনের ব্যক্তিটি স্মেল সেই রাতের মতো!তখন পিছন থেকে কেউ কানের কাছে ফিসফিস করে বলে উঠে,

–” এখনো জামাটাও পড়তে পারিস না! সকলকে সুন্দর পিঠ খানার মাঝে কালো তিল দেখিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছিস! বেদ্দপ!”

এমন কথায় বুঝতে বাকি নাই এটা ইউসুফ ভাই।তিনি আমার কাঁধ ধরে তার দিক ঘোড়ালেন আর আমার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ভাল করে চোখ বুলিয়ে নিলেন। তারপর চোখের কাঁজল থেকে কিছুটা কাজল নিয়ে কানের পিছনে লাগিয়ে দিলেন। তার এমন স্পর্শে কেঁপে উঠি আমি। মাথা তখন নতো। তিনি কাজলের টিকা দিয়ে বলতে লাগেন,

–” মাশাল্লাহ!  আমার বাবুইপাখিটাকে সুন্দর লাগচ্ছে! যা এবার মিষ্টি নিয়ে!”

আমি তার এমন কাজে অবাক! কি হলো মাত্র বুঝতে পারছি না! সে আমাকে নজর টিকা লাগালো? কিন্তু কেন? সে কি আমাকে লাইক করে??

বিয়ের পাঠ শেষ। বাসায় কান্নার রোল পরে। ছোট মামীকে সামলাতে ব্যস্ত ইউসুফ ভাই তার চোখেও পানি। থাকবে না কেন? আমাদের মিশুপি চলে গেছেন শশুর বাড়ি! সব মায়ের এমন সময় যেন কলিজা ছিড়ার উপক্রম। প্রতিটি মা-বাবার জন্য এ সময়টা যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কষ্ট।তাদের দেখে আমাদের চোখেও পানি চলে আসচ্ছে আরো বেশী।

পরেরদিন আয়ান জিজুদের বাসায় বৌভাত। তাই আজকেই সব সামলে রাখচ্ছেন বড় মামী, নানু মা। বাকি সবাই! ছোট মামীকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছেন ইউসুফ ভাই।

 সকাল থেকে বৌভাতের পিপারেশন চলছে। সকলেই রেডি! আমি বাদে।সেই কখন থেকে আইলেনার দিতে ট্রাই করছি হচ্ছেই না। ৫ বারের মতো চোখ মুছে এসেছি। এখন কান্না চলে আসচ্ছে আমার। আজকে মিশুপি থাকলে এসবে চিন্তা করতেই হতো না।

–” কিরে কান্না করছিস কেন বসে?

ইউসুফ ভাইয়ার কথা শুনে চোখ তুলে তাকিয়ে আবার চোখ নিচে নামিয়ে নিলাম। ভ্রু কুচকে আমার দিক তাকিয়ে তিনি। আবার প্রশ্ন ছুড়লেন,

–” কি হলো বলচ্ছিস না কেন??

আমি এবারো  নিশ্চুপ কান্না করচ্ছি। তা দেখে ধমকে উঠলেন তিনি।

–” কথা কানে যায় না? বেয়াদপ মেয়ে??

উনার ধমকে কান্না কমলো না আমার উল্টো কান্নার বেগ বাড়লো।  আর আমি “ভ্যা ভ্যা ” করে কান্না করে দিলাম জোরে। তা দেখে চমকে গেলেন ইউসুফ ভাই। তারপর হাটু গেরে বসে পড়লেন তিনি। আমার দু গালে হাত দিয়ে আহ্লাদু স্বরে বলে উঠলেন,,

–” কি হয়ে বাবুইপাখি কান্না করচ্ছিস কেন তুই? বল আমায়? কেউ কিছু বলছে? নাকি আমি বকেছি বলে??

আমি কান্না করে যাচ্ছি হেচকি তুলে  তার দিক তাকিয়ে। তিনি  আমার চোখের পানি মুছে দিতে দিতে নরম সুরে বললেন,,

–” প্রান পাখি আমার বল আমায় কি হয়েছে?  কেন চোখে জল ফালচ্ছিস? জানিস তোর এই চোখের জল ছারখার করে আমার দিল! বল না? প্লীজ!

ইউসুফ ভাইয়ের কথায় কান্নাটা কমে আসলো আমার। তার সাথে মনে দিয়ে গেল অনুভতির নতুন দোল। কি মায়াময় সেই কন্ঠ তার। খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু কন্ঠ কি খাওয়ার জিনিস?আচ্ছা খাওয়া গেল এর টেষ্ট কেমন হতো? আচ্ছা এর টেস্ট কেমন হতে পারে লবণাক্ত না মিষ্টি?  আমার আবার লবণাক্ত পছন্দ। মিষ্টি খেলে মাথা ব্যথা করে!  আচ্ছা এমন হলে ইউসুফ ভাইয়ার কন্ঠ কেমন হতো? মিষ্টি না লবণাক্ত?  অবশ্যই লবণাক্ত। কি যে তিতা তার কথা? কিন্তু মাঝে মাঝে মিষ্টি করেও বলে যেমন এখন বলচ্ছে? তাহলে তার কন্ঠকে বলা যায়…” লমিষ্টি” মানে লবণাক্ত মিষ্টি।হি হি।

–” কি হলো বাবুইপাখি?কথায় হারালি? বল্ আমায় কি হয়েছে?

উনার কথায় ভাবনার ফোঁড়ন কাঁটে আমার। কান্না করছিলাম ভাবতে ভাবতে ভুলেই গেছি।মনে পড়তেই আবার কান্না স্টার্ট করে উনার দিকে তাকালাম আমি। আর হাতের আই লানার টা দেখিয়ে কাঁদ কাঁদ চোখে বলতে লাগলাম,,

–“দিতে পারছি না আমি আই লানার।  কখনো মোটা,  কখনো চিকন হচ্ছে।

তিনি  আবার চোখের পানি মুছে দিয়ে মুচকি হাসলেন আর আইলেনার টা হাতে নিয়ে বললেন,

–” দে লাগিয়ে দেই আমি”

উনার কথায় কান্না একেবারে থেমে গেল আমার।চোখ জোরা বড় বড় করে তাকিয়ে আছি তার দিক। কি বলচ্ছেন তিনি? আইলানা লাগিয়ে দেবে তাও আমাকে? ও মাই গড???

–” আপনি লাগবেন??”

–” তাইতো বললাম। শুন এবার চোখ বন্ধ করতো??

আমি এবার পুরোই আবাক? তিনি লাগাতে জানেন? কিভাবে? হাউ? হয়তো তার সেই বিচ্ছিরি লিয়া গার্ল ফ্রেন্ডকে লাগিয়ে অভ্যস্ত তিনি? এটি ভেবেই আরো কান্না কান্না পচ্ছে আমার! কিন্তু কেন? হওয়াই?

আমার ভাবার মাঝে ইউসুফ ভাইয়া চোখে ফু দিয়ে উঠলেন। সাথে সাথে চোখ বন্ধ হয়ে গেল আমার।সাথে সাথে শরীরে বয়ে গেল শীতল হওয়া। যা শরীরের ভিতর বাহির সম্পূর্ণ টা জুরে করে দিল ঠান্ডা।হায় এ কেমন অনুভতি? কেমন জানি ভালো ভালো লাগচ্ছে আমার।

চোখ বুঝেই ছিলাম আমি। তখনি উনার এক হাত আমার কঁপালে ঠেকিয়ে দিতেই কেঁপে উঠি আমি। পরমুহূর্তে অনুভাব  করলাম ঠান্ডা জাতীয় অতি চিকন তুলি।যা চোখের পর্দার এপাশ থেকে অপাশ বিচরণ করচ্ছে। সাথে আমার মনেও।

কিছুক্ষণ পর ছেরে দিয়ে বলে উঠলেন তিনি,,

–” নে হয়ে গেছে! বাহ্ সুন্দর দিয়েছি তো? (নিজের কাঁধে নিজে চাপর মেরে)  প্রাউড অফ মি? বলে হেসে দিলেন তিনি।

তার সেই টোল পড়া গালের সেই সুন্দর হাসিটির দিক তাকিয়ে আমি। কি সুন্দর তার হাসি? হাসলে গালের টোলের সাথে থুতনির খাঁজটা আরও সম্পূর্ণ দৃশ্যমান তার। তার এই হাসিতে পাগল পাগল লাগে আমার।

তিনি এবার ভ্রু কুচকে চেয়ে আমার দিক।  আর বললেন,,

–” ওই আই লেনার আমি না তুই লাগিয়েছিস! তাহলে আমাকে কেন ড্যাব ড্যাব করে দেখচ্ছিস? (জ্যাকেটের কলার টেনে ভাব নিয়ে) আমি জানি আমি সুন্দর নজর দিবি না। যা নিজেকে দেখ আয়নায়। আমি গেলাম। আর হে এখন গাং ভাসাস না অন্য কিছুর জন্য তাহলে ফেলে চলে যাবো কিন্তু!

বলে চলে গেলেন তিনি। আর থ মেরে রইলাম আমি। রাগে জ্বলচ্ছে গা। মনের হচ্ছে এই লম্বু খাসির মাথা ফাটি আসি!  হু। প্রতিবার ফিলিংসের ১২টা ১৪ টা বাজিয়ে দেয় হু।  দেখিস তোর কঁপালে দজ্জাল বউ জুটবে হু হু….!

আয়নায় তাকিয়ে দেখচ্ছি আমি বাহ্ সত্যি সাইকোটা ভাল করে দিয়েছে আই লেনার। টানা টানা লাগচ্ছে আমার চোখ। তখানি মনে পড়লো কিছুক্ষণ আাগের কথা..! সাথে সাথে লজ্জায় লাল হয়ে উঠি আমি। কি সুন্দর সেই অনুভতি ছিল তখন ইউসুফে প্রতিটি নিশ্বাস আছড়ে পড়ছিল আমার মুখ খানায়। এখনো গায়ে লেগে আছে তার সেই  গায়ের মাতাল করা ঘ্রাণ। তাতেই কেন জানি মরতে ইচ্ছে হয় আমার। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়,,””আমার একটাই তুই”️কিন্তু কেন? হোয়াই?

চলবে,

লেখিকাঃসুরাইয়া সাত্তার ঊর্মি

  • 2
    Shares
  • 2
    Shares