542 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

আসামী পক্ষের আইনজীবীও মামলার চার্জশীটে এখন আসামী

  • 48
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    48
    Shares

মোঃ শরীফ মাহমুদ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী সরাইল উপজেলায় যুগযুগ ধরে প্রতিহিংসার আগুন দাও দাও করে জ্বঁলছেন। এই আগুনে পুড়ে ছাড়কার হচ্ছেন, বহু নীরঅপরাধ পরিবার, তাদের পরিজন ও সাধারণ মানুষ । ভাংচুর আর আগুনে জ্বঁলে তছনছ হচ্ছে নীরঅপরাধ মানুষের ঘরবাড়ি। সরাইলের প্রতিহিংসার এই ভয়ানক আগুন, কে নিবারণ করবে তা সবারই’ অজানা । সরাইলে দীর্ঘ যুগধরে রাজনীতিক রেষারেষি ও প্রতিহিংসার আধিপত্য বিস্তারে বাড়ছে অন্যায়, অপরাধ, খুন আহাজারি।

গোষ্ঠীগত পূর্বশত্রুুতার আধিপত্য বিস্তারের এসব সাংঘষিক ঘটনায় প্রতিনিয়তই ঝঁড়ছেন মানুষের তাঁজা প্রাণ। হিংসা আর প্রতিহিংসায় আক্রমণাত্মক হয়েগেছে তাদের হৃদয়। ১ টাকার জন্যও এই জনপথে খুন হয়েছেন মানুষ, এই নজীরও রয়েছে এই সরাইলে ।

সরজমিন অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সুত্রে: জানাযায়, শাহ আলম মেম্বারের লোকজনের হামলায় নিহত আবু বক্কর সিদ্দীক (প্রকাশ) রকেট মেম্বার হত্যার ঘটনার প্রায় ৫/৬ মাঁস পূর্বে রকেট মেম্বারের লোকজন প্রতিপক্ষ শাহ আলম মেম্বারের ভাই আরমানের উপর হামলা চালান। হামলায় শাহ আলমের ভাই আরমান গুরুত্বর আহত হন। সেই’ হামলার ঘটনার রেষারেষিতে রকেট মেম্বারের উপরও হামলা চালান শাহআলমের লোকজন । পূর্বের বিরোধের ঘটনায় শাহ আলম মেম্বারের মামলায় কয়েকমাস জেলও খাটেন নিহত রকেট মেম্বার।

সরাইলের আলোচিত রকেট মেম্বার হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার এজাহারে আসামী না হলেও’ এবার মামলার চার্জশীটে সরাইল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুুকে মামলার ২২ নং আসামী হিসেবে অন্তভুক্ত করার ঘটনায় তোলপাড় চলছে গোটা উপজেলায়।

আইনজীবী এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুুকে রকেট হত্যা মামলায় (জাঁলের বাহির) দিয়ে লাগানো হয়েছে এমন দাবী অনেকের । রকেট হত্যা মামলায় আইনজীবী এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুুকে  চার্জশীটের ২২ নং আসামী করা হয়েছে’ এমন একটি মামলার চার্জশীটের (কপি) সামাজিক মাধ্যম’ ফেইসবুকে ছড়িয়ে’ আইনজীবী মন্তুুকে রকেট হত্যার পরিকল্পনাকারী এখ্যায়িত করে প্রচার-প্রচারনাও চালাচ্ছেন, আইনজীবী মন্তুুর রাজনীতিক প্রতিপক্ষরা।

তবে এসব বিষয়ে জেলার বিশিষ্ট একাধিক আইন বিশ্লেষক ও আইন প্রনেতাদের দাবী, একটি হত্যার ঘটনাকে রাজনীতিক করণে নিয়ে আসলে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যায় ।  ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয় বাদী পক্ষ । মধ্য থেকে ফায়দা লুটেন রাজনীতিক দলের সুবিধাবাদীরা। আইন বিশ্লেষজ্ঞরা আরো বলেন, শুধু এই হত্যাকান্ড নয়, সরাইলের আলোচিত ইকবাল আজাদ হত্যা কান্ড থেকে শুরু করে একাধিক হত্যার ঘটনায় রাজনীতিক করণের ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় আসামী করা হচ্ছে’ নীরঅপরাধ ব্যক্তিদের । আর এই সুবাধে হত্যাকান্ড ঘটানো প্রকৃত খুনিরা আইনের হাত থেকে বেঁচে যাচ্ছেন।  তারা বলেন, এই রকেট মেম্বার হত্যা মামলাও তাই। এইধরণের রাজনীতিক রেষারেষি প্রতিহিংসায় রকেট মেম্বারের প্রকৃত খুনীরাও পার পেয়ে যেতে পারে।

সরাইল উপজেলা শাখার জাতীয় শ্রমিক লীগের  সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ আবুল কালাম এই প্রতিবেদক কে বলেন, নিহত বুলেট মেম্বার ও বর্তমান মেম্বার শাহ আলমের মধ্যে বিরোধ (গোষ্ঠীগতভাবে) প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময়ধরে। এদের বাপ দাদার আমলের পূর্ব-বিরোধ এটা সরাইলের সবাই জানে ।  তবে যারা রকেট মেম্বারকে প্রকৃতভাবে হত্যা করেছেন, তাদের নিয়ে কোন ঢোঁল বাঁজনা নেই। তিনি জানান, এই ঘটনায় অবশেষে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আইনজীবী আশরাফ উদ্দিন মন্তুুকেও জড়ানো হয়েছে।  যাহা সম্পূর্ণ ঘৃণিত একটি কাজ। আমি এর তীব্র নিন্দ্রা জানিয়ে রকেট মেম্বার হত্যার প্রকৃত দোষীদের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবী করছি ।

সরাইল উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জজ মিয়া বলেন, আইনজীবী এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুুর নাম রকেট মেম্বার হত্যা মামলার এজাহারে ছিল না ।  তবে এখন কিভাবে মামলার চার্জশীটে আসামী হল, তা আমার জানা নেই। এর বেশি আমি আর ভাই কিছু জানিনা।

সরাইল উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আমিনুল ইসলাম (শেলভী) বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা এটি। রাজনীতিক প্রতিহিংসায় এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুুকে রকেট মেম্বার হত্যা মামলার চার্জশীটে ২২ নম্বরে নাম আনা হয়েছে। আমার জানামতে আইনজীবী এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুু আইনজীবী হিসেবে এই হত্যা মামলার কয়েকজন আসামীকে জামিন করিয়াছেন। মনে হয়, এটাই মন্তুুর অপরাধ।  শেলভী বলেন, আমি এর নিন্দ্রা ও প্রতিবাদ জানাই।  পাশাপাশি রকেট হত্যায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবীও জানাই ।

সরাইল উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান আবু হানিফ বলেন, এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুুর নাম রকেট হত্যা মামলার আসামী হিসেবে আগে শুনি নাই। এখন শুনছি, চার্জশীটে নাকি উনি এই মামলার আসামী। তিনি বলেন, রকেট হত্যার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হউক। কোন নীরঅপরাধ ব্যক্তি যাতে এই মামলায় হয়রানীর শিকার না হয়, এটা আমার দাবী।

শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজিব আহমেদ(রাজ্জী) এই প্রতিবেদক কে বলেন, রকেট হত্যার ঘটনার মুল আসামীদের বাঁচানোর জন্যে এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুুকে রাজনীতিকভাবে ষড়যন্ত্রকরে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে । আমি এর তীব্র নিন্দ্রা ও প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই রকেট হত্যার সঠিক বিচার হউক, এটা আমি চাই।

জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী ও অরুয়াইল ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট গাজী মোঃ শফিকুল ইসলাম এই প্রতিবেদক কে বলেন, আইনজীবী আশরাফ উদ্দিন মন্তুু রকেট মেম্বার হত্যা মামলার কয়েকজন আসামীকে আইনজীবী হিসেবে জামিন করিয়াছেন। আসামীকে ওকিল হিসেবে জামিন করানো যদি অন্যায় হয়, তাহলে এটাই মনে হয়, মন্তুুর অপরাধ। তিনি বলেন, এই ঘটনার সাথে কোনভাবে আমার জানামতে আইনজীবী মন্তুু জড়িত নয়।  বাদীর অভিযোগের এজাহারেও মন্তুুর নাম ছিল না। তিনি আরো বলেন, এটা রাজনীতিকভাবে গভীর ষড়যন্ত্র। এসব প্রতিহিংসায় দিনদিন সরাইলে খুন আহাজারি বেশিবেশি  বাড়ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দ্রা জানাই।

এসব বিষয়ে জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট শাহানুর ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে’ তিনি এই প্রতিবেদক কে বলেন, সরাইলের এই মামলার ঘটনার কোন কিছু আমার জানা নেই। তবে এই হত্যার ঘটনায় সরাইল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুুর নাম মামলার এজাহারে মনে হয়, আগে ছিল না। এখন মামলার চাজশীর্টে এসেছে, আমি ফেসবুকে দেখেছি। কিভাবে আসলো এর কিছু আমি জানি না। তিনি বলেন, এর বাহিরে আমি আর কিছু বলতে পারি না ভাই ।

এসব বিষয়ে জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী ও সরাইল উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি (ভোক্তভোগী) এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুু এই প্রতিবেদক কে বলেন, নিহত রকেট মেম্বারের পরিবার এবং শাহ আলম মেম্বারের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত মামলা-মোকদ্দমার বিরোধ চলমান ছিল । আমি দীর্ঘদিন যাবত শাহ আলম মেম্বারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আদালতে মামলা পরিচালনা করিয়া আসিতেছি। এই হত্যা মামলায় আমি কয়েকজন আসামীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করিতেছি। ইকবাল আজাদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী রফিক উদ্দিন ঠাকুর রকেট মেম্বার হত্যা মামলায় সাক্ষী হিসেবে আছেন । আমি এবং শের আলম ইকবাল আজাদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করিয়াছি। উক্ত আক্রোশে আমার রাজনেতিক প্রতিপক্ষের লোকজন ও ইকবাল আজাদ হত্যা মামলার আসামীরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমি আইনজীবী হওয়ার সত্বেও আমাকে রকেট হত্যা মামলার চার্জশীটে আমাকে আসামী দেখানো হয়েছে। আমি আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেছি মাত্র। আমাকে আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হক, সরাইলের একজন বাসিন্দা হিসেবে এটা আমিও চাই।

এদিকে সরাইলের আলোচিত এই রকেট মেম্বার হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় সঠিক তদন্তের মাধ্যমে’ ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান, সরাইল উপজেলার সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা।

  • 48
    Shares
  • 48
    Shares