681 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ইমামে আহলে সুন্নাত কাযী নূরুল ইসলাম হাশেমী (রহঃ)’র মৃত্যুতে যুবসেনার শোক প্রকাশ

  • 882
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    882
    Shares

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামঃ-

দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, সুফি মতাদর্শের প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পৃষ্ঠপোষক বিশিষ্ট ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের মহান সংগঠক, ইমামে আহলে সুন্নাত, পীরে ত্বরিকত শায়খুল মাশায়েখ,

আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী (৯২) হুজুর আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি আজ ভোর ৫ ঘটিকায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ মা ও শিশু হাসপাতালে বাধর্ক্য জনিত রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়াছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী হুজুরের আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম মুহাম্মদ ভূইয়া মানিক ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম এক যৌথ বিবৃতিতে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী হুজুরের মৃত্যুতে দেশব্যাপী শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হুজুরের এ আকস্মিক মৃত্যুতে সুন্নি জনতা তাদের আজ অন্যতম এক অভিভাবক কে হারালো। ইমামে আহলে সুন্নাতের বিদায়ে সুন্নী মুসলমানদের জন্য অনেক বড় অাঘাত।আজকের পর থেকে আর কেউ অভিভাবকের দাবী নিয়ে সুন্নী মুসলমানদের সামনে আসবে না। ইমামে আহলে সুন্নাত এই উপাধিটি শুধু তারই ছিলো, আর কেউ এই উপাধির অধিকারী হতে পারেন না। আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (রহঃ) এর পরে এই উপাধির মালিক কেবল আল্লামা কাযী নুরুল ইসলাম হাশেমীই ছিলেন। হুজুরের পর আর কেউ এই উপাধি পাওয়ার সুযোগ নাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুন্নী মুসলমানদের এই অাঘাত সইবার তাওফিক দান করুক।

 

বিবৃতিতে যুবসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম মুহাম্মদ ভূইয়া মানিক বলেন, আল্লামা হাশেমী হুজুর একটানা ৫ দশকেরও অধিক সময় ইমামে আহলে সুন্নাতের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। এশিয়াখ্যাত দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা, ওয়াজেদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ও নিজ পিতার প্রতিষ্ঠিত আহছানুল উলুম জামেয়া গাউছিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন মাদ্রাসায় ইলমে হাদীসের দরস দিয়েছেন। হাজার হাজার ছাত্রকে ইলমে দীন শিখিয়েছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদ্রাসা ও খানকাহ প্রতিষ্ঠিত করে দীনি শিক্ষা বিস্তার ঘটিয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, সুন্নী জাতির এই অভিভাবক আল্লামা ইমাম হাশেমী (রহ.) তৎকালে ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সেরা মেধাবী ছাত্র ছিলেন। সে সময় আল্লামা আবদুর রহমান কাশগরী (রহ.) থেকে তিনি আরবি সাহিত্যেও বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং আল্লামা মুফতি সায়্যিদ আমীমুল ইহসান বরকাতি (রহ.)’র থেকে ইলমে হাদীসের ওপর বিশেষ বিরল সনদ লাভ করেন। যা পর্যায়ক্রমে সরাসরি প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাহবিহী ওয়াসাল্লামা পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি মুফতি আমীমুল ইহসান সাহেব (রহ)’র এতোই প্রিয় ছিলেন যে, ছাত্রত্ব সমাপনান্তে তিনি আল্লামা ইমাম হাশেমী (রহ.)কে শুধু ইলমে হাদীসের সনদই দেননি; বরং ইলমে তাসাউফেও খিলাফত এবং ইজাযত দিয়ে ধন্য করেছেন।

 

বিবৃতিতে যুবসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম বলেন, বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী আল্লামা ইমাম হাশেমী (রহ.) ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ তথা ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন এবং পরবর্তী দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশ বেতারে ইসলামের আলোকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ শিরোনামে নিয়মিত কথিকা পাঠ করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করার গৌরব অর্জন করেন। যুগপৎভাবে ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণের এই সৌভাগ্য বাংলাদেশের কোন আলেমের নেই বললেই চলে।

 

তিনি আরও সুন্নী বলেন, দেশের সুন্নী জামা’আত তো বটেই, পুরো জাতির এই গর্বের ধনটির সংগ্রামী  জীবনের এ অংশটি সম্পূর্ণরূপে অনুল্লেখিত রয়ে গেছে। আল্লামা হাশেমী পার্থীব ফায়দা হাসিলের হীন স্বার্থে কখনোই এই গৌরব গাঁথা অবদানকে ব্যবহার করেননি। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, এই ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনের এই অংশটি খুব কম মানুষই জানেন এবং পুরো জাতি তার এই কৃতি সন্তানকে মূল্যায়ন করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

 

ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম হাশেমী (রহঃ)’র নামাযে জানাযা আজ রাত ৯ ঘটিকায় দরবারে হাশেমীয়া আলিয়া শরিফে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • 882
    Shares