ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় ধরনের নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। ঋণখেলাপির দায়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এই রায়কে ‘ব্যাংক ডাকাতদের জন্য একটি কঠোর বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ওই আসনের ১১-দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের পথ চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে গেল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি ঋণখেলাপির অভিযোগে হাসনাত আবদুল্লাহর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে হাইকোর্ট হয়ে বিষয়টি আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়।
আদালতের আদেশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত আবদুল্লাহ তার কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন:
“নির্বাচিত হলে ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেবো। আজকের এই আদেশে জনগণের বিজয় হয়েছে এবং জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের জয় হয়েছে। ব্যাংক ডাকাতি করে কেউ জনগণের ভোট আদায় করে সংসদে যেতে পারবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই রায় সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতির পথে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এসময় তার সঙ্গে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা ও আলী আজগর শরীফী উপস্থিত ছিলেন।
আদালতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে লড়াই করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ আল মামুন। অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু ও জহিরুল ইসলাম মূসা।
গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট মুন্সীর রিট সরাসরি খারিজ করে দিলে তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন, যা আজ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হলো।
