461 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

একজন আদর্শ পিতা : হাসান আল সোহাগ

  • 34
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    34
    Shares

যাকে নিয়ে এই নিবন্ধন লিখছি তিনি হলেন আমার সাধনার পথের অভিমন্ত্রদাতা এবং এই ধরণীতে আমার আগমনের হেতু, যার পরিচয়ে আমি এই পৃথিবীতে পরিচিত। যার আদর্শের সিঁড়ি বেয়ে জীবণ চলার পথে অগ্রসরমান, তিনি হলেন আমার পরম শ্রদ্ধেয় আদর্শবান পিতা মুজিবুর রহমান যার পারিবারিক নাম ফরিদ মিঞা। যিনি আমার জীবনে একজন আদর্শবান ব্যাক্তি হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়ে থাকবেন অক্ষয় রুপে চিরকাল।

আমার সেই আদর্শবান পিতার ২৫ তম প্রয়ান দিবসে তার জীবণাদর্শ সম্পর্কিত নিবন্ধন লেখার পুর্বে নিবেদন করছি তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। সেই সাথে প্রার্থনা করছি মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতে আ’লা মাকাম দান করেন। তিনি ১৯৩০ ইং সালের তদানিন্তন ত্রিপুরা জেলার সরাইল পরগনার অন্তর্গত ঐতিহাসিক মোঘল দেওয়ান শাহবাজ আলীর লালন ভুমি, আবহমান তিতাস বিধৌত এক শিক্ষত জনতার চারন ভুমি ঐতিহাসিক জনপথ, ছায়াঢাকা পাখিডাকা এক শান্ত অঞ্চল শাহবাজপুরে জন্ম গ্রহন করেন।তাঁর পিতা মুন্সি তালেবুর রহমান মাতা আলহাজ্ব মুন্সি বছিরুন্নেছা।

আসলে তার জন্মই হয়েছিল পরকল্যাণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ, সত্য প্রতিষ্টার কল্পে দুর্বার প্রতিবাদের দিপ্ত শপথ এবং মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে মহান শিক্ষা নিয়ে। একজন আদর্শ পিতার আদর্শ সন্তান গড়া তার জীবণ সংগ্রামে মুর্ত প্রতিক হিসেবে ফুটে উঠে। ছাত্র জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, তীক্ষ বুদ্ধিসম্পন্ন ও বিচক্ষণ। পরিবার এবং স্থানীয় মক্তবেই তার জীবণের প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয়। তিনি সরাইল অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শুরু করেন। লেখা পড়ায় পরিবারের তেমন কোন যত্ন পাননি। সেখানের নিজসরাইল এলাকার কাদির মিয়ার বাড়িতে জাইগির থেকে অতিকষ্টে লেখা পড়া করেন। পরবর্তীতে নিজ গ্রাম শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

সেখান থেকে ১৯৭১ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পারিবারিক আর্থিক দৈন্যতার কারনে এখানেই তার প্রাতিষ্টানিক শিক্ষা জীবণের পরিসমাপ্তি ঘটে। শৈশবেই পিতা মারাযান তার। বড় ভাই এডঃ আরিফুর রহমান (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এটর্নি ) এর আদর স্নেহে বড় হয়ে উঠেন। বাল্যকালেই তিনি ছিরেন অত্যান্ত চঞ্চল প্রকৃতির। লেখাপড়ায় মন বেশি টেকেনি কিন্ত প্রতিভা ছিল অত্যধিক। প্রকৃতির কারনেই তার এই প্রতিভাদিপ্ত জীবণের বহিঃ প্রকাশ ঘটাতে পারেনি। যার দরুন তিনি লেখাপড়ার স্বর্ণশিখড়ে পৌঁছাতে পারেননি। সংসারের দায়িত্ব অচিরেই পরে তার কাধে। যাহা তার লেখাপড়ার আরেকটি অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করা যায়। শুধুমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষাসম্পন্ন ব্যাক্তিটির সন্তানেরা সবাই বর্তমানে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত।

সামাজিক ভাবে তিনি ছিলেন একজন সুপন্ডিত। বাংলা, ইংরেজি, ভুগুল এবং ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের জ্ঞানের জাহাজ বলা হতো তাকে। নিজের ছেলে মেয়েরা ছাড়াও পাড়ার লোকেরা আসতো তার কাছে উপযুক্ত জ্ঞানের তালিম নিতে। তাকে আদর্শের কক্ষ পথ থেকে বিচ্যুত ঘটাতে পারেনি কোন অপশক্তি। শিক্ষা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে তিনি পা রাখেন বর্নময় কর্মজীবণে। কর্মজীবণের শুরুতেই সুন্দরবনে চাকুরিতে যোগদান করেন। সেখান থেকেই তার কর্মজীবণ শুরু। তিন পরবর্তীতে চাকুরি নেন নারায়ণগঞ্জ আজাদ জুট মিলে। বাড়িতে ছিল বুড়ো মা ও ফুফু।

তাদের অসুস্থতার কারনে এবং সাংসারিক টানাপুরনের কারনে চাকুরী ছাড়তে বাধ্য হন। এরই ফাকে সিলেট ভুমি জরিপে বিশেষ প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। সংগিত চর্চায় তিনি অত্যান্ত পারদর্শী ছিলেন। এর ফাকে সিলেটে হাসান রাজার সান্নিধ্যে এসে গ্রাম বাংলার মাটি ও গন্ধমাখা লোক সংগীত চর্চা শুরু করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন সহযোগি মুক্তিযুদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল পাকবাহিনী যখন শাহবাজপুর আক্রমন চালায় তখন তাদের বাড়ির সামনে নয়নাভিরাম ফুলের বাগান থাকায় পাকবাহিনী হিন্দু বাড়ি ভাবে কিন্তু দালানের কার্নিশে তার মায়ের রাখা পবিত্র কোরআন শরিফ সাহসিকতার সহিত পাক সেনার সামনে প্রদর্শন করেন এবং বাড়িটিকে কৌশলে নিশ্চিত অগ্নিসংযোগের হাত থেকে রক্ষা করেন।

এছারা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিলনা বাড়িতে কান্নার রোল, অনেক খুজাখুজির পর খুজ পাওয়া গেল পাকবাহিনী তাকে শাহবাজপুর ওয়াপদা রেষ্ট হাউজে আটকে রেখে তাদের গোলাবারুদ গাড়ি থেকে আনলোড করাচ্ছিল। সেখান থেকে কৌশলে রাতের বেলায় তিতাস নদী সাতরিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এ ছারা আরো কয়েকবার পাকবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার ও নির্যাতিত হন। শাহবাজপুরের প্রথম জাতীয় পরিষদের সদস্য জনাব, জিয়াউল আমিন ( নান্নু মিয়া) এর সান্নিধ্যে এসে, পরবর্তীতে তিনি (নান্নু মিয়া) ১০ নং শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে, নান্নু মিয়ার সাহেবের পরামর্শে তিনি শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করেন।

এ পদে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের চাকুরী কালিন সময়ে জেলা বিভিন্ন উপজেলায় বদলি হন। ১৯৯৪ সালের ২ জুলাই আজকের এই দিনে এই ক্ষনজন্মা মহান পুরুষ পারিজমান নাফেরার দেশে

  • 34
    Shares