526 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

একটি ভাইরাস আজ চেনা মানুষগুলো হয়ে গেছে অচেনা

  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares

খেলাধুলা ডেস্কঃপ্রধানমন্ত্রীর মুখে মাস্ক। সব অ্যাথলেট-অফিশিয়ালদের মুখে মাস্ক। চেনা মানুষগুলো হয়ে গেছে অচেনা। এমন অচেনা আবহে কাল সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম স্বাগত জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসকে। ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এ উদ্বোধন ভার্চুয়ালি। শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল। কিন্তু এমনটা যে তিনিও চাননি, ‘আমার খুব খারাপ লাগছে, আজ মাঠে উপস্থিত থেকে সবাইকে দেখতে পারলাম না। আমার পরামর্শ হলো, আপনারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলবেন। করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি আমার অনুরোধ, গেমসে সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন।’ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এই গেমস হওয়ার কথা ছিল গত বছর। সব উদ্যোগ নিয়েও শেষমেশ তা আটকে গিয়েছিল করোনায়। সংক্রমণ কমলে, সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি হলে এ বছর অবার শুরু হয় গেমস আয়োজনের তৎপরতা। কিন্তু গেমস উদ্বোধনের ঠিক আগে আগে মহমারি আবার প্রকট হয়ে চোখ রাঙাতে শুরু করে। তাতে রণে ভঙ্গ দেননি আয়োজকরা, উল্টো প্রতিরোধের পথে হেঁটেছেন। তাই মুখের মাস্ক হয়ে গেছে গেমসের অতি অপরিহার্য অঙ্গ, এ ছাড়া এই ক্রীড়াযজ্ঞ চলতেই পারে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার এই শর্ত মেনেই গতকাল তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে গেছে।

 

এরপরই আলোর রোশনাইয়ে ভেসে যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। গানে-নৃত্যে-আতশবাজিতে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসকে স্বাগত জানায় সবাই। এ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাঝে মাঝে ভেসে বেড়ায় বঙ্গবন্ধুর সেই দরাজ কণ্ঠের গর্জন। তাঁর ক্রীড়াপ্রেম ও বাঙালির স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে রাঙিয়েই সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানমালা। গান গেয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা আর সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে জনপ্রিয় দেশের গান।

তার আগে গেমসের মশাল প্রজ্বালন করেন দুই কৃতী অ্যাথলেট গলফার সিদ্দিকুর রহমান ও সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা। অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক ধরে দুজন দুই দিক দিয়ে গিয়ে মূল মশাল জ্বালিয়েছেন। এই মশাল প্রজ্বালনের শুরুটা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায়, সেখান থেকে কৃতী অ্যথলেটদের হাত ঘুরে সেটি আসে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। টুঙ্গিপাড়া থেকে মশাল ভ্রমণের কথা বলতে গিয়েই প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে ধরা পড়ে বিশেষ আবেগ, ‘১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছে। আর এই হত্যার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় দেশটির সব সম্ভাবনা। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার আমরা চেষ্টা করছি।’ তারই একটা নতুন পরিকল্পনা, ‘ভবিষ্যতে কয়েকটি খেলাকে নিয়ে আলাদা করে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে যেন আমরা অলিম্পিক গেমসের জন্য প্রস্তুত হতে পারি।’ প্রধানমন্ত্রীর এই কথা নিশ্চিতভাবে খেলোয়াড়দের উদ্দীপ্ত করবে। ভার্চুয়ালি যোগ হওয়ার আগেই আট বিভাগ ও ছয় সার্ভিসেস দলের অ্যাথলেটরা ঢোকেন মাঠে। মোট ৩১টি ডিসিপ্লিনে ৩৭৮টি ইভেন্টে এক হাজার ২৭১টি পদকের লড়াই হবে এই আসরে। সাত বিভাগের সাত জেলার ২৯টি ভেন্যুতে লড়বেন পাঁচ হাজার ৩০০ ক্রীড়াবিদ। গতকাল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও এর আগেই শেষ হয়ে যায় মেয়েদের ক্রিকেট। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ফুটবল, ফেন্সিং ও হকি। অ্যাথলেটদের হয়ে শপথ বাক্য পাঠ করেন আর্চার রোমান সানা।

এই গেমস বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত। এই গেমস ‘মাস্ক’-এর গেমস। অর্থাৎ প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও ক্রীড়াঙ্গনকে সচল রেখে এগিয়ে নেওয়ার ব্রত নিয়েছেন আয়োজকরা। তাই শুভেচ্ছা বক্তব্যে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বারবার বলেছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা, ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা এই গেমস আয়োজন করছি। এখানে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’ এর আগে ২০১৩ সালে হয়েছিল সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমস। বিওএর বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৮ সালে আয়োজন করে বাংলাদেশ যুব গেমসের। এটি ছিল একদম নতুন ধারণা। সেটি তুলে ধরে বিওএ সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, ‘২০১৮ সালের যুব গেমস ছিল এ দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর। ওই আসরে ৩০ হাজার ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিল এবং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছিল।’ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল তুলে ধরেন সর্বশেষ এসএ গেমসে বাংলাদেশের সাফল্যের কীর্তিগাথা।

সাফল্যের এই স্রোতধারা বহমান রাখতেই ‘বিজয় থেকে বিজয়ে’র থিমে শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস।

  • 10
    Shares
  • 10
    Shares