203 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

এক দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের কোভিড-১৯ বিল দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস

এক দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের কোভিড-১৯ বিল দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আন্তর্জতিক ডেস্কঃ করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষিত এক দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের কোভিড-১৯ বিল দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস হয়েছে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকান নাগরিকদের সহায়তার জন্য বাইডেন এই প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। সিনেট অনুমোদনের পর এবার বিলটি আবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে ফিরে যাবে। গত সপ্তাহে সেখানে এই প্যাকেজেরই খানিকটা ভিন্ন ভার্সন অনুমোদন পেয়েছিল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (৬ মার্চ) মার্কিন সিনেটে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রস্তাবিত করোনা প্যাকেজ নিয়ে ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ৫০টি ভোট পড়ে। বিপক্ষে পড়ে ৪৯টি ভোট। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত সিনেটে সকল রিপাবলিকান সিনেটরই এই বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

এদিকে সিনেটে এই বিল পাস হওয়ায় জনগণকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘আরও একটি বৃহৎ পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি জানান, চলতি মাসেই মার্কিন নাগরিকদের হাতে সহায়তার চেক চলে যাবে।

বাইডেনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকছে এক ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে প্রত্যেক আমেরিকানকে সরাসরি দেওয়া হবে এক হাজার ৪০০ ডলার করে। এছাড়া করোনা মহামারি মোকাবিলায় ৪১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া হবে ৪৪ হাজার কোটি ডলার। বিলে কোভিড-১৯ এর টিকাদান কর্মসূচি এবং করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার গতি আরও বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। একক দেশ হিসেবে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনাও এই দেশটিতেই। এছাড়া করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে দুই কোটি ৮০ লাখ। একইসঙ্গে গত প্রায় এক বছরে ধীরে ধীরে বিপর্যস্ত হয়েছে মার্কিন অর্থনীতি। মানুষ কাজ হারিয়েছেন। বেতন কমে গেছে। বাড়ি থেকে বের হতে না পেরে বহু মানুষের ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

গত জানুয়ারিতে ক্ষমতাগ্রহণের সপ্তাহখানেক আগে এই প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন জো বাইডেন। সেসময় তিনি বলেন, এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা গত বেশ কয়েকটি প্রজন্ম কোনো দিন দেখেনি, কোনো দিন এমন সময়ের কথা ভাবতেও পারেনি। তার মতে, দু’টি ধাপে এই প্যাকেজ মানুষের উপকার করবে। প্রথমত- অর্থনৈতিক ভাবে মানুষকে আবারও চাঙ্গা করবে। দ্বিতীয়ত- করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবার জন্য সহায়ক হবে।

বাইডেনের মতে স্পষ্টতই এই বিলটি সহজ ছিল না। এটি সর্বদা সুন্দর ছিল না। তবে এই বিলটি দরকার ছিল। তিনি জানান, পরিকল্পনার আওতায় চলতি মাসেই মার্কিন নাগরিকদের হাতে সহায়তা চেক চলে যাবে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত এই বিলে সই করা যাবে।