150 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

এবার সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পথিক রিপোর্ট: গেল দুই বছর সেপ্টেম্বরে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ এবং পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও দাম বাড়ে অস্বাভাবিক হারে। এবার দেশে ব্যাপক বন্যার শঙ্কা না থাকলেও কিছু ক্রেতা মনে করেন, সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারে। তবে বাজার পরিস্থিতি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার পেঁয়াজের বাজার অস্থির হবে না। দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক আমদানিতে পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো। লকডাউনের কারণেও বড় মজুদ গড়ে উঠেছে। পেঁয়াজের বাজারে ভারতনির্ভরতাও কমেছে। তাই বর্তমান দামের চেয়ে খুব বেশি হেরফের হওয়ার লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া বাজার সামাল দিতে আগস্টের শেষ দিকেই টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তার আগের বছর ২০১৯ সালে দেশে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। মূল্য বৃদ্ধির শুরুটা হয়েছিল ভারত থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে ন্যূনতম মূল্য প্রতি টন ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। ৩০ সেপ্টেম্বর রপ্তানিই নিষিদ্ধ করে দেয় দেশটি। এরপর দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে শতক হয়, দ্বিশতক হয়। নভেম্বরে ৩০০ হাঁকায় পেঁয়াজ। তখন আকাশপথেও আমদানি করতে হয়।

এবার তেমন আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা। শ্যামবাজারের রাজ ট্রেডিংয়ের আড়তদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লকডাউনে বেচাকেনা তেমন ছিল না। সেই পেঁয়াজই এখন বিক্রি হচ্ছে। মহাজনরা কিছুটা লাভ হলেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিচ্ছেন। কারণ মাস দুয়েক পর ভারতে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ উঠবে। তারপর আসবে দেশি পেঁয়াজ। তখন দাম আরো কমতে পারে। এখন দেশি ও আমদানি দুই ধরনের পেঁয়াজের সরবরাহই যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। সব মিলিয়ে এবার দাম এখনকার চেয়ে বাড়বে না বলেই মনে হচ্ছে।’

বাজারে ক্রেতাদের পেঁয়াজ কিছুটা বেশি কিনতেও দেখা যায়। গতকাল সোহেল নামের এক ক্রেতা মালিবাগ বাজার থেকে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ নিয়ে ফিরছিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘর পোড়া গরু যেমন সিঁদুরে মেঘ দেখলেই আতঙ্কিত হয়, আমরাও তেমন আতঙ্কিত। বর্ষা মৌসুম এলেই ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে আর দেশের বাজারে দাম বাড়ে। তাই কিছুটা বেশি করে কিনলাম। দেশি পেঁয়াজ ছয় মাস পর্যন্ত রেখে খাওয়া যায়।’

দেশে উৎপাদন বাড়ছে

জানা যায়, ভারত, তুরস্কসহ অনেক দেশে দুই থেকে তিন মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদিত হলেও আমাদের দেশে হয় শুধু শীত মৌসুমে। ফলে পেঁয়াজের বাজার আমদানিনির্ভরতা থেকে বের হতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এতে উৎপাদনও বাড়ছে। প্রতিবছর নিয়ম করে ৩ থেকে ৪ শতাংশ উৎপাদন বাড়লেও ২০১৯-২০ সালে উৎপাদন বেড়েছে ৮ শতাংশের বেশি। এর পরিমাণ দেড় লাখ টনের ওপরে। ২০২০-২১ সালের হিসাব পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উৎপাদন বৃদ্ধির হার আরো বাড়বে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ২৫ লাখ টনের বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯-২০ সালে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার টন। এটা আগের বছরের তুলনায় এক লাখ ৫১ হাজার টন বেশি। ২০১৮-১৯ সালে উৎপাদন ছিল ১৮ লাখ দুই হাজার টন। সে হিসাবে এক বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে ৮.৩২ শতাংশ। তার আগের বছর পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছিল ৬৫ হাজার ১৫৪ টন বা ৩.৭৩ শতাংশ। ২০১৭-১৮ সালে পেঁয়াজের উৎপাদন ছিল ১৭ লাখ ৩৭ হাজার টন।

টিসিবির বিক্রি মাসেই

টিসিবি সূত্র বলছে, চলতি মাসের শেষ দিকেই তেল, চিনি ও ডালের সঙ্গে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। এ জন্য এরই মধ্যে পেঁয়াজের সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এবার তুরস্কের বড় পেঁয়াজ নয়, দেশি ও ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। তবে প্রতিদিন কী পরিমাণ বিক্রি করা হবে এবং দাম কত ধরা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে কর্মকর্তারা জানান।

এইচ.কে.জে