ওসমান হাদী : বুলেটের বিপরীতে মানুষ
কবি লিটন হোসাইন জিহাদ সমকালীন বাংলা কবিতার এক স্বতন্ত্র উচ্চারণ। তাঁর কবিতায় গ্রামবাংলার মাটি, মানুষের জীবনযাত্রা ও অন্তর্লোকের যে শব্দহীন আর্তি, তা অনন্য ভঙ্গিতে ধরা পড়ে। শব্দ ব্যবহারে তিনি মিতব্যয়ী—তবু তাঁর চিত্রকল্প শক্তিশালী, অনুভূতি গভীর, আর প্রকাশভঙ্গি দার্শনিক ভাবনায় সমৃদ্ধ।
জীবনের ক্ষুদ্রতম প্রান্ত থেকে তিনি তুলে আনেন মহত্তম সত্য, তাই তাঁর কবিতা পাঠকের হৃদয়ে আলোড়ন তোলে নিঃশব্দে, অথচ গভীরভাবে। বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও কাব্যচর্চার অনুরাগ তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে। নিচে কবি লিটন হোসাইন জিহাদের কবিতা দেওয়া হলো
ওসমান হাদী : বুলেটের বিপরীতে মানুষ
ওরা ভেবেছিল—
একটা শরীর থামালেই ইতিহাস থেমে যাবে,
কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল—
কিছু মানুষ অধ্যায় নয়,
ভূমিকা।
ওসমান হাদী,
তুমি ছিলে সেই ভূমিকা
যার পর থেকেই
ক্ষমতার ভাষা
নিজেকেই আর বিশ্বাস করতে পারে না।
যে বুলেট তোমাকে ছুঁয়েছিল
সে আসলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল,
কারণ সে ভেবেছিল
একজন মানুষকে আঘাত করছে,
অথচ আঘাত করেছিল
একটি চেতনাকে—
আর চেতনা কখনো আহত হয় না,
সে কেবল আরো স্পষ্ট হয়।
তুমি কথা বলতে না বলতেই
দেয়ালগুলো উচ্চারণ শিখে নিয়েছিল,
রাস্তার ধুলো জানত
কোন দিকে দাঁড়াতে হয়
যখন অন্যায় হাঁটে।
আজ রাস্তাগুলো কথা বলে,
দেয়ালগুলো শ্লোগান শিখে ফেলেছে,
তোমার শরীর পড়ে গেলেও
তোমার নাম দাঁড়িয়ে গেছে—
প্রতিটি অন্যায়ের সামনে।
তুমি মরোনি, হাদী—
তোমাকে হত্যা করেছে যারা
তারা এখনো বেঁচে থাকার ব্যাখ্যা খুঁজছে,
আর তুমি
মৃত্যুর ভেতর দিয়েই
জীবনের নেতৃত্ব দিচ্ছ।
এই শহরে এখন
প্রতিটি তরুণের চোখে
একটি করে হাদী,
আর প্রতিটি হাদীর হাতে
ভয় নয়—
রয়েছে সত্য।
গুলি ছিল শব্দ,
তুমি ছিলে ভাষা।
শব্দ থামে,
ভাষা আরো এগিয়ে যায় বিপ্লবে।