746 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কঠোর বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করেই ঘরের বাহিরে বের হচ্ছেন মানুষ

রাজধানীতে করোনার সঙে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের অসচেতনতা

  • 119
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    119
    Shares

দেলোয়ার উদ্দিন, ঢাকাঃ  রাজধানীতে করোনার সঙে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের অসচেতনতা, কঠোর বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করেই ঘরের বাহিরে বের হচ্ছেন মানুষ। বিভিন্ন পাড়া মহল্লার অবস্থা আরো ভয়াবহ যেন ছুটির উৎসব চলছে।

ছোট ছোট চায়ের দোকান গুলিতে জম্পেশ চায়ের আড্ডা চলছে। জোয়ান,বুড়ো, শিশু, কিশোর সহ অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। মহল্লার কিছু মানুষের কাছে মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে হাস্যরসের সাথে উত্তর দিচ্ছে যে পাড়া মহল্লায় করোনা আক্রমনের ঝুঁকি নেই, একটু দুরেই শাক সবজির দোকানে একজন ক্রেতা ব্যবসায়ী লায়ন জুম্মন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে চারপাশে মানুষের কত অসেচনতা তা দেখতেই পাচ্ছেন যদি আমরা এখনো সচেতন না হয় তাহলে সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

এইদিকে রাজধানীর মহাখালী, গুলশান, বনানী,হাতিরঝিল, বাড্ডা ও তেজগাঁও এর বিভিন্ন পুলিশ চেক পোস্টে মটর সাইকেল আরোহী ও পথচারীদের রাস্তায় বের হওয়ার কারন জানতে চাইলে জিএমজি গ্রুপ এর প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এসডি শরিফ বলেন আমাদের তো কল-কারখানা খোলা তাই অনেকটাই বাধ্য হয়েই রাস্তায় বের হতে হয়েছে কিন্ত অনেকেই বিনা প্রয়োজনে রাস্তায় বের হয়েছে, যদি এইধরনের উৎসুক,কৌতুহলী অসচেতন মানুষ সচেতন না হয় তাহলে না জানি সৃষ্টিকর্তা আমাদের কপালে কি রেখেছেন।

তারসাথে একিই সুরে কথা বলেন সামাহ রেজার ব্লেড ইন্ড্রাষ্টিজ এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামসুন্নাহার বেগম তেমন রাস্তায় বের হবার সঠিক কারন ব্যাখ্যা করতে পারেনি রফিক, নাহিদ,ফোরকান ও এনায়েত। এইদিকে রাস্তায় বের হওয়া খেটে খাওয়া অসহায় মানুষ অভিযোগ করে বলেন কিছু অসাধু রিক্সা চালক ২/৩ গুন ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মাফিজুল ইসলাম বলেন আমরা সকাল থেকে মধ্য রাত অবধি ক্লান্ত হীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছি কিন্ত কিছুতেই অসচেতন, কৌতুহলী উৎসুক মানুষকে ঘর মুখি করতে পারছিনা।দিনের পর দিন উৎসুক মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে।

 

কঠুর বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করেই ঘরের বাহিরে বের হচ্ছেন মানুষ

 

আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন সারাদিন কোমর বাকা করে প্রতিটি গাড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সঠিক কারন জেনেই তবে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।অসংখ্যবার কোমর বাকা হওয়ার ফলে কোমরে প্রচুর পেইন হয় কিন্ত আমরা কি করবো এটা আমাদের দায়িত্ব। আমরাও তো মানুষ তারপরও যদি মানুষ একটু সচেতন হয় তাহলেই আমাদের স্বার্তকতা শুনেন দেশ আমার,আপনার ও আমাদের সকলের তাই দেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সবাইকে সবার আগে সচেতন হতে হবে।

 

রাজধানীতে করোনার সঙে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের অসচেতনতা

 

একিই সুরে কথা বলেন উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক ও সার্জেন্ট শাহিন। ক্রমেই দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে প্রতিনিয়ত ভাঙছে মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্ধলক্ষ ছাড়িয়েছে আক্রান্ত, মারা গেছেন হাজারের বেশি। সামনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা বলছে রোগী বৃদ্ধির এই অস্বাভাবিক ধারা অব্যাহত থাকলে চিকিৎসাসেবা ও অক্সিজেন সরবরাহ করা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

 

রাজধানীতে করোনার সঙে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের অসচেতনতা

 

একই আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরও। তারা করোনার লাগাম টানতে প্রয়োজনে কারফিউ জারির পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে করোনা পরীক্ষা কয়েক গুণ বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছেন তারা!কোরোনা চারিদিকে যেভাবে ভয়াবহ ধারন করছে একজন আক্রান্ত হলে পুরো পরিবারকে আইসোলেশন থাকতে হবে অন্যথায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ।

এরপর কয়েক মাস বাড়ে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকে। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ থেকে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় টানা বিধিনিষেধ চলছে।চলমান করোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয় গত ঈদুল ফিতরের পরপর। ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে রোগী দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে তা আশে পাশের জেলায়ও ছড়িয়ে পড়ে।

এক মাসের ব্যবধানে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা, মৃত্যু ও শনাক্তের হার কয়েক গুণ বেড়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, রোগী শনাক্তের হার থেকে বোঝা যায় কোনো দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না। সংস্থাটির হিসেবে কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে রোগী শনাক্তের হার ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

তাই দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের এক মুখপাত্র পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সে অনুযায়ী জুলাই মাসের সংক্রমণ গত জুন এবং এপ্রিল মাসকে ছাড়িয়ে যাবে। আর রোগীর সংখ্যা দিন দিন এভাবে বাড়লে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

এমনকি অক্সিজেন সরবরাহেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। কিন্তু এর আগে যদি মানুষকে ঘরবন্দি করা না যায় তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। এখনই হাসপাতালগুলোতে জায়গা হচ্ছে না। অক্সিজেনের সংকট শুরু হয়ে গেছে।

  • 119
    Shares