447 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

করোনাকালে ভার্চুয়াল কোর্ট এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা —-এডঃ মোঃ মোজাম্মেল হক

  • 23
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    23
    Shares

স্কুল জীবনে নবম দশম শ্রেনীর সামাজিক বিজ্ঞান পুস্তকে সর্বপ্রথম আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং শাসন বিভাগ সম্পর্কে কিছুটা ধারনা লাভ করেছিলাম।পরবর্তীতে সময়ের প্রেক্ষাপট এবং আইন বিষয়ে পড়ার সুবাদে যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে স্পষ্টতঃ যে,একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আইন বিভাগ,বিচার বিভাগ এবং শাসন বিভাগের সমন্বয় একান্ত প্রয়োজন।একটি ছাড়া অন্যটি বিকলাঙ্গ কিংবা অচল।এই তিনটি বিভাগের যে কোন একটির অনুপস্থিতিতে একটি সুষম রাষ্ট্র গঠন কিংবা রাষ্ট্র তার স্বাভাবিক কার্য্য পরিচালনা করতে ব্যর্থ।
আইন বিভাগ দেশের সাধারন জনগনের জন্য জাতীয় সংসদে আইন প্রনয়ন করে,বিচার বিভাগ বার এবং বেঞ্চের সমন্বয়ে সেই আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে এবং শাসন বিভাগ দেশে শাসন কার্য্য পরিচালনা করে।সুতরাং এই তিনটি বিভাগ যেন একই গাছের কান্ড শাখা প্রশাখা।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও করোনার প্রাদুর্ভাবের কারনে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা এক প্রকার অচল বলা চলে।দেশ দীর্ঘদিন লকডাউনের কবলে ছিল এবং আছে,জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত।ধীরে ধীরে সীমিত পরিসরে খোলা হয়েছে বিভিন্ন অফিস,হাট বাজার,শপিংমল কিংবা গার্মেন্টস এর মত প্রতিষ্ঠানগুলো।
দেশের বিচারালয়গুলো সচল করার নিমিত্তে সীমিত ভাবে কার্য্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ভার্চুয়াল কার্য্যক্রম শুরু করে।শুধু মাত্র হাজতি আসামীদের ক্ষেত্রে এই কার্য্যক্রম পরিচালনার জন্য আইন মন্ত্রনালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারী করেন।শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন জেলার আইনজীবী সমিতিগুলো এই কার্য্যক্রমের বিরোধীতা করলেও পরবর্তীতে আইনজীবীগন ভার্চুয়াল আদালতে অংশ গ্রহন করেন।
প্রযুক্তির সফলতা কাজে লাগিয়ে বিচার বিভাগকে সহজবোধ্য করার প্রয়াসে এবং উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ভার্চুয়াল আদালত সময়ের উপযুক্ত সিদ্ধান্ত হলেও বাংলাদেশের মত দেশে বর্তমানে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনায় যথেষ্ট সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
দেশের অধিকাংশ জেলা বারে নেই ওয়াই ফাই র পর্যাপ্ততা,ইন্টারনেটের স্লো মোশান,অধিকাংশ আইনজীবীর লেপটপ কিংবা ডেক্সটপ না থাকা,ভার্চুয়াল পদ্ধতি সম্পর্কে আইনজীবীদের যথাযথ ট্রেনিং না থাকা,অধিকাংশ আইনজীবীর ভার্চুয়াল সিস্টেম সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় এবং বেঞ্চে মামলা পরিচালনা সংক্রান্ত কাজে বিজ্ঞ আইনজীবী ও তাদের সহায়তায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা হয়রানীর সম্মুখীন হওয়া সহ নানাবিধ কারনে ভার্চুয়াল পদ্ধতি অধিকাংশ আইনজীবীর নিকট সফলতার বার্তা বয়ে আনেনি।
বিশ্বের অধিক অপরাধপ্রবন দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ।দিন দিন হত্যা,খুন,গুম,ধর্ষন,নারী নির্যাতন,ঘুষ দুর্নীতি সহ নানাবিধ অপরাধ বেড়েই চলছে।বিশেষ করে করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় এই অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুন।আদালতের কার্য্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচার প্রার্থীরা এক প্রকার নাজেহাল।একদিকে নির্যাতনের শিকার হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে যাওয়া অধিকাংশ মানুষ থানা পুলিশের দৌরাত্নে অতিষ্ট।অন্যদিকে আদালতের শরনাপন্ন হতে না পেরে মুহ্যমান।
সুপ্রীমকোর্টের ভাষ্যমতে,বিচারক এবং আইনজীবী একটি পাখির দুটি ডানা।কিন্তু কার্য্যক্ষেত্রে এই বক্তব্যের লেশমাত্রও নেই।বিচার বিভাগের একটি গুরত্বপূর্ন অংশ আইনজীবী সমিতি কিংবা বার সমূহ।বলা চলে একটি বেঞ্চ হচ্ছে নৌকা আর আইনজীবী হচ্ছে সেই নৌকার সারেং। আদালতের কার্য্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের প্রায় ষাট হাজার আইনজীবী এবং এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্টদের এক প্রকার বেকারত্ব অবস্থা।যদিও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োজিতরা করোনাকালে নানাবিধ প্রনোদনা সহ ঝুঁকি ভাতাও পাচ্ছে সেখানে বিচার বিভাগে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করনের অতন্দ্র প্রহরী আইনজীবীরা অবহেলিত।প্রত্যাশিত না হলেও করোনার এই সংক্রমন কতদিন কত মাস ব্যাপী চলতে থাকে তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না।
তাই দেশের অপরাধ বৃদ্ধি রোধকল্পে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করনার্থে বিচার বিভাগের স্বাভাবিক কার্য্যক্রম সচল করার জন্য সর্তকতা অবলম্ভন পুর্বক সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রেখে আদালতের জরুরী কার্য্যক্রম বিশেষ করে সারেন্ডার,ফাইলিং এবং জরুরী পিটিশন শুনানীর নিয়মিত ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবী।

  • 23
    Shares
  • 23
    Shares