307 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

করোনার চেয়ে বেশি মৃত্যু আত্মহত্যায় জাপানে

  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares

অনলাইন ডেস্কঃ

জাপানের অনেক মানুষ করোনার কারণে নিজেদের জীবন নিয়ে শঙ্কা অনুভব করছেন, মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য আগেই বলেন, করোনা মহামারির কারণে গোটা বিশ্বেই মানসিক অসুস্থতা বাড়তে পারে। ব্যাপক বেকারত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক চাপ তৈরি হবে মানুষের মধ্যে।

জাপানে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় যত মানুষ মারা গেছেন তার চেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন শুধু অক্টোবরেই। জাপানের ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে জাপানে আত্মহত্যা করেছেন ২ হাজার ১৫৩ জন। অন্যদিকে চলতি বছরে নভেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ হাজার ৮৭ জন।

জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মিচিকো উয়েদা বলেন, ‘করোনায় আমাদের এখানে লকডাউনও ছিল না। অন্য দেশের তুলনায় করোনার প্রভাবও অনেক কম ছিল। কিন্তু তারপরও এখানে আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অনেকদিন ধরে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যার রেকর্ড জাপানের।  ২০১৬ সালে জাপানে আত্মহত্যায় মৃত্যুর হার ছিল প্রতি ১ লাখে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানে আত্মহত্যার হার বেশি হওয়ার কারণগুলো বেশ জটিল। তবে দীর্ঘ সময় কাজ করা, পড়াশোনার চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটে।

২০১০ সালের দিকে ১০ বছরের জন্য জাপানে আত্মহত্যার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছিল। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত বছর এটি প্রায় ২০ হাজারে নামে। ১৯৭৮ সালে আত্মহত্যার রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে এটিই ছিল বছরে আত্মহত্যায় সর্বনিম্ন সংখ্যা।

তবে মহামারির কারণে আত্মহত্যার হার আবার বেড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন। গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় এ বছর নারীর আত্মহত্যার হার ৮৩ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে পুরুষের মধ্যে এই হার বেড়েছে ২২ শতাংশ। জাপানি নারীদের আত্মহত্যার হার বেরে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক নারী হোটেল, খাদ্য পরিষেবা এবং দোকানে ণ্ডকালীন কাজ করেন। করোনার কারণে তাদের অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। এর ফলে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

জাপানি গবেষকদের মতে, করোনায় সমস্যা বাড়ছে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে। ২০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসা ও স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার কারণে শিশু-কিশোরদের মনে চাপ বাড়ছে। অনেক সময়ে বাড়িতেও শিশুদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ‘কেয়ার’ বিশ্বব্যাপী ১ লাখ মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে বলেছে, করোনা মহামারির কারণে বিশ্বে ২৭ শতাংশ নারী মানসিক সমস্যায় পড়েছেন। পুরুষদের মধ্যে এই হার ১০ শতাংশ।

জাপানে মানসিক অসুস্থতা ও একাকীত্ব এখনও অনেকে কলঙ্কজনক মনে করেন। অনেকে হতাশা নিয়ে কথা বলতেও লজ্জাবোধ করেন। কোবায়শি বলেন, ‘নিজের মধ্যে হতাশ থাকলেও লজ্জায় সবাই তা আড়াল করতে চান। কিন্তু এ অবস্থা থেকে বের হতে এমন সংস্কৃতি তৈরি করা দরকার, যেখানে সবাই নিজের দুর্বলতা কিংবা দুঃখ প্রকাশ করতে পারবে।’

জাপানে কবে এই আত্মহত্যার প্রবণতা কমবে, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি দেশটির বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, শীতে দেশটিতে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হতে পারে। এতে করোনার প্রভাবে ধুঁকতে থাকা জাপানের অর্থনীতি আরও বড় ধাক্কা খেতে পারে। তখন মানসিক অসুস্থতা আরও বাড়বে।

সুত্রঃ সমকাল

পথিকনিউজ/অনামিকা

  • 17
    Shares
  • 17
    Shares