448 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

করোনায় দেখা

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

জাহের আলী :  করোনা ভাইরাস নামক মহামারী অতি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবীতে। পৃথিবীর যাবতীয় মহা শক্তিধর দেশ গুলোও ভয়ে কম্পমান। এতদিন যারা ছোট ছোট দেশ গুলোকে বিভিন্ন কৌশলে করায়ত্ব করে নির্দ্ধিধায় চালিয়েছে তাদের বীরত্বের রাজত্ব। জীবানু, পারমাণবিক সহ বিভিন্ন ধ্বংসাত্বক মারণাস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পদানত করার প্রয়াস চালিয়ে পুরো বিশ^কে বসবাসের অযোগ্য করে রেখে সবাইকে তাদের জয়গানে বাধ্য করে রেখেছে। সেই পরাশক্তিধর দেশ গুলোও এখন এই ক্ষুদ্রতম ভাইরাসের ভয়ে নতজানু, কম্পমান। তারা হয়তো অনেকটাই বুঝতে পেরেছে দুর্বল, অসহায় নিরীহ মানুষের সাথে অন্যায় করে, তাদের অধিকার হরণ করে ক্ষমতার দাপটে বিশ্বাবসীকে আতংক গ্রস্থ করে করে হাতের মুঠোয় ক্ষণকালের জন্য রাখতে পারলেও চিরস্থায়ী রাখা বা থাকা কিছুতেই সম্ভব নয়, তবে যতদিন সম্ভব চেষ্টা তো করেই যাওয়া যায়।

তবে যিনি সমস্ত বিশ^ ভ্রমান্ড সৃষ্টি করে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসাবে তৈরী করে সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে মানব জাতিকে ঘোষণা দেয়ার পরও অকৃতজ্ঞ মানব জাতি তা বেমালুম ভূলে যেতে দ্বিধাবোধ করেনা বা করবেও না কোনদিন তা কিন্তু সৃষ্টিকর্তা সব জেনে বুঝেই করেছেন। যদিও অনেকে স্বীকার করলেও অস্বীকৃতি জানানোর লোকেরও কিন্তু অভাব নেই। তাই অনেকে বিপদে-আপদে সব সময় সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রাখা কঠিন ব্যপারই বটে। কেউ আবার কটু কৌশলের আশ্রয় নিয়ে মহাশক্তিধর সৃষ্টিকর্তাকেও অস্বীকার করতে পিছপা হয়না।

কেউবা আবার বিপদকালীন সময়ে তাঁকে স্বীকার করে নেয় যদিও অন্তর থেকে কিনা তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া দুনিয়ার কেউ জানেনা। যে কারণে আপদকালে অত্যাচার, নির্য্যাতনের মাত্রা কিছুটা কমিয়ে সমুহ বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করতেও সচেষ্ট হয় কখনো বা।তাইতো এই প্রাণঘাতী মহামারীকালে অনেকেই বাঁচার চেষ্টা হিসাবে বিভিন্ন সচেতনতামুলক কর্মসূচী হাতে নিয়ে বিপদ থেকে উত্তরণের পথ খোঁজে। কেউবা অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্যানোযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সমাজে নিজেকে ভাল মানুষ হিসাবে পরিচিত ও প্রতিষ্টিত করার প্রয়াস পায়। কেউবা আবার সুনাম কামাতেও সাহায্যের নাম করে পণ্যের বিজ্ঞাপনের মত প্রচারে নামতেও পিছপা হয়না।

যারা সত্যিকার অর্থেই প্রকৃত সাহায্যে এগিয়ে আসেন তাদের পরিচয়টা নিজেরা প্রকাশ করতে চাননা যদিও পর্য্যাপ্ত সাহায্য সহযোগিতা করে যান অতি গোপনে অসহায় দরিদ্র মানুষ গুলোর পাশে দাঁড়িয়ে।

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো তাদের উন্নত প্রযুক্তি, উন্নত চিন্ত ভাবনা, ধ্যান ধারণা থেকেই বাঁচার প্রয়াসে বিভিন্ন সতর্কতামুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিজেরা এবং নিজের দেশের জনগণকে সুরক্ষা দেয়ার মানসে। তাদের সেই সুরক্ষা ব্যবস্থাকে অতিশয় নিভূল ও নিরাপদ মনে করে পৃথিবীর সবাই তা অনুস্বরণে ব্রতী হয় প্রাণ বাঁচানোর নিয়ামক শক্তি ও কৌশল হিসাবেই। কিন্তু এত বড় মহামারীর মাঝেও নিজেদের চরিত্র বদলানোর আগ্রহ দেখা যায়না কারোর মাঝেই।

সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, লোভ-লালসা সবকিছুই ঠিক রেখে শুধুমাত্র কৌশলের মাধ্যমে মহামারী থেকে মুক্তির চেষ্টা অব্যাহত থাকে অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশেও।
করোনা মহামারীতে সারা পৃথিবীর মত লক্ ডাউন দেয়া হয় আমাদের দেশেও, যে কারণে দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ গুলো কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটানো ছাড়া কোন উপায় না থাকলেও সুযোগ সন্ধানী কিছু মানুষ রূপী জানোয়ার জনসেবকের ভাগ্য বদলের সুযোগ এসে যায় অনায়াসে। করোনা মহামারীকালে দরিদ্র অসহায় কর্মহীন মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাগবে বিভিন্ন সংঘটন, প্রতিষ্টানের মত জনদরদী সরকারও জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্ধ দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিলেও এলাকার কিছু অসাধু নেতা-নেত্রীর লোভের কারণে প্রকৃত অসহায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ যেমন বঞ্চিত হয় সাহায্য সহযোগীতা থেকে তেমনি অল্পদিনে আঙ্গুল ফোলে কলা গাছ বনে যায় ঐ সমস্ত দুর্নীতিবাজ নেতা-নেত্রী ও কিছু আমলা আর দালাল গোছের লোক।

যার বড় উদাহরণ জনাব আযাদ রব্বানী মন্ত্রী মহোদয়। জেলার প্রায় লক্ষাধিক হতদরিদ্র, ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের ত্রাণ সামগ্রী উনার হাতেই অর্পিত হয় প্রকৃত প্রাপ্যদের হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্য, আর এই সুবর্ণ সযোগটা কাজে লাগাতে কার্পণ্য করেননা তিনি। আমেরিকায় প্রতিষ্টিত ছেলে মেয়ে সহ শিল্পপতি শশুর শাশুরী, শালা-দুলা ভাই, এমনকি নিজের স্তীর নামটাও বাদ যায়নি ত্রাণ পাওয়ার তালিকা থেকে। তাছাড়া এলাকার কিছু অসহায় গরীব মানুষকে অনেকটা জিম্মি করে তাদের নামও দেয়া হয় ত্রাণ পেয়ে বাড়িতে দিয়ে যাওয়ার শর্তে। তবে তিনি যেহেতু জনদরদী, সেহেতু তাদেরকে খালি হাতে তিনি বিদায় করেননি। সবার হাতে দুইশত টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলেছেন Ñ ওরা যেন বলে যে, মন্ত্রী মহোদয়ের কাছ থেকে পুরো ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছে এবং এতে ওরা খুশী। মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে মুখে হাসি ফুঁটিয়ে কথা বলতেও শিখিয়ে দেন মন্ত্রী মহোদয়ের চামচাগণ।

মন্ত্রী মহোদয়ের শর্ত ভঙ্গ করার অপরাধ কতটা ভয়াবহ হবে তা অবশ্য এলাকার মানুষ আগে থেকেই জানে। তাইতো ত্রাণ হাতে পেয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের ফরমায়েসী মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে হাসি মুখেই কথা বলা ছাড়া কী কোন উপায় আছে? পরদিন বিভিন্ন মিডিয়ায় উনার ত্রাণ বিতরণের সংবাদ ভিডিও সহ প্রচারের সাথে সাথে সারা দেশে ধন্য ধন্য রব পড়ার সাথে প্রধান মন্ত্রীর বাহবাও বাদ যায়না। সুষ্ট ও সুন্দর ভাবে অসহায় জনগণের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার কারণে খুব দ্রুতই চলে আসে প্রধান মন্ত্রীর হাত থেকেও মুল্যবান উপহার কিন্তু, ভাগ্যটা হঠাৎ করে কেমন যেন পাল্টে যায় বিদ্যুত ঝলকের মতই দ্রুত। জনাব আযাদ রব্বানী সাহেব আজও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে বাসায় পৌঁছে কিছুটা অসুস্থ্যবোধ করলে সাথে সাথেই নেয়া হয় জেলা সদর হাসপাতালে কিন্তু অসুস্থ্যতার লক্ষণ দেখে জেলা হাসপাতালে ভর্তির অপারগতা প্রকাশ করে দ্রুত রাজধানীর জাতীয় হাসপাতালে এম্বোলেন্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন সিভিল সার্জন নিজেই।

তিনি তাও বলে দেন Ñ সাথের সবাই যেন মন্ত্রী মহোদয় থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলেন। ড্রাইভার ছাড়া এম্বোলেন্সে আর কাউকে সাথে দেয়া হয়নি, এমনকি উনার স্ত্রীকেও সাথে যেতে বারণ করে অন্য গাড়িতেই পাঠানোর ব্যবস্থা করেন সিভিল সার্জন। রাজধানীতে গিয়েই বিদেশে অবস্থানরত ছেলে মেয়ে সহ সকল আত্মীয় স্বজনকে জানানো হয় উনার অসুস্থতার কথা। পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হওয়ার কারণে হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ছাড়া আর কাউকেই উনার সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়না ভাইরাস ছড়ানোর ভয়ে। আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবও কেউ আসতে চায়না, সাঙ্গ পাঙ্গরাও। এমনকি নিত্য সঙ্গী সন্ত্রাসী বাহীনিও লা-পাত্তা।

আক্রান্ত হওয়ার তের দিনের মাথায় মারা যাওয়ার পরও সন্তানেরা আসতে পারেনি লক্ ডাউন ও বিমান চলাচল বন্ধ থাকার কারণে। করোনায় মারা যাওয়া লাশ নিয়ে বেশী অপেক্ষা করার সুযোগ না থাকায় সরকারী ব্যবস্থাপনায় জানাজার ব্যবস্থা করা হয় অনেক কড়াকড়ি বিধি নিষেধ ও নিয়ম কানুন মেনে। নামাজ শেষে লাশ গাড়িতে উঠানোর মুহুর্তে এসে পৌঁছেন আদরের দুই সন্তান। যাদের জন্য মন্ত্রী মহোদয়ের সারা জীবনের চেষ্টা, সাধনা, স্বপ্ন ছিল মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত। ছেলে মেয়ে উন্নত দেশে যেমন থাকেন তেমনি তাদের উন্নত চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা।

তাই ওরা আসার সময়ে সাথে নিয়ে এসেছেন অনেক শক্তিশালী একটা দূরবীণ অন্তিম যাত্রার সময়ে বাবার মুখদর্শনে। প্রায় দুইশত মিটার দূরে থেকে শক্তিশালী দূরবীণের মাধ্যমে বাবার মুখ যেমন নিজেরা দেখেছেন তেমনি দেখিয়েছেন তাদের মাকেও। কারণ ওরা চায় না বাবার মত তাদের মাও করোনায় আক্রান্ত হয়ে চলে যাক পরপারে। তবে মায়ের বেশী কাছে যাওয়ারও তো সুযোগ নেই, কারণ মা তো বাবার কাছেই ছিলেন। তিনিও আক্রান্ত কিনা কে জানে?।।

  • 4
    Shares
  • 4
    Shares