220 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

করোনা মহামারী মোকাবেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠির পাশে ব্র্যাক কসবা

  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    15
    Shares

মোবারক হোসেন চৌধুরী নাছির :  বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের মহামারী সংকটের কারনে সমগ্র বাংলাদেশে যখন লকডাউন অবস্থা বিরাজমান এবং দেশের মানুষ যখন স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুকির  মধ্যে পড়েছে ,ঠিক সেই সময় কসবা উপজেলায় ব্র্যাকের ব্যতিক্রম সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকান্ড সকলের দৃষ্টি আর্কষন করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় ব্র্যাকের শাখা ও এলাকা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ০৮ মার্চ, ২০২০ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হওয়ার পর অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে তা ব্যাপক জনগোষ্ঠির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের শুরু থেকেই সরকারি আদেশ এবং প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অফিস খোলা রেখে ব্র্যাকের কর্মীগণ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য কাজ গুলো হলো- করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় লিফলেট বিতরণ, কসবা উপজেলার পৌর এলাকা ও প্রতিটি ইউনিয়নে সচেতনতামূলক মাইকিং করা, মাস্ক ব্যবহার করা, সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব ও হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি শিখানো, বিভিন্ন জনসমাগম স্থলে ভাসমান হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন যানবাহন ও বাজারে স্পে মেশিনের মাধ্যমে জীবানু মুক্ত করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অফিসে, বিভিন্ন দোকানের সামনে বৃত্ত অংকনও এর ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় গুলো তারা প্রচার করে চলেছেন।
ব্র্যাকের কসবা শাখার ব্যবস্থাপক ডালিম মিয়া বলেন, কর্মীরা প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্র্যাকের সদস্য ও তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। ব্যাংক ও অন্যান্য এনজিও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যখন বন্ধ সবাই যখন সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটি ভোগ করছে তখন ও ব্র্যাক কর্মীরা ছুটিতে না গিয়ে পাড়া, মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে মানুষকে সচেতন করার জন্য। করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের হার নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের জীবন বাঁচাতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে কসবা উপজেলার ব্র্যাক কর্মীরা। লকডাউনের কারণে বাংলাদেশে যখন সাধারণ শ্রমজীবি, মধ্যবিত্ত ও নি¤œ আয়ের পরিবার গুলোর আয় রোজগার বন্ধ অর্থনৈতিক ভাবে যখন দৈন্যদশা ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল প্লাটফরম যেমন বিকাশের মাধ্যমে সদস্যদের প্রয়োজন বিবেচনা করে ৩৮৫০ জন সদস্যকে ২৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সঞ্চয় ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১০ মে, ২০২০ হতে ৩৪৫ জন গ্রাহকের মাঝে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, বেশকিছু সংখ্যক সদস্যদের ০২টি করে সাবান ও ০২টি করে হারপিক পাউডার বিতরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুবিধা ভোগী গ্রাহকরা ব্র্যাকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অন্য কোন এনজিও ঋণ বিতরণ তো দূরের কথা সদস্যদের জমানো সঞ্চয়ই ফেরত দিচ্ছে না শুধু কিস্তি আদায় করছে। একমাত্র ব্র্যাকই কিস্তি আদায় না করে ঋণ ও সঞ্চয় ফেরত দিয়ে দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
ব্র্যাকের কসবা এলাকার এলাকা ব্যবস্থাপক (দাবি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও এলাকা ব্যবস্থাপক (প্রগতি) মোঃ রকিবুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যখন কিস্তি আদায়ের জন্য ফিল্ডে যাচ্ছে তখন ব্র্যাকের কর্মীরা ফিল্ডে যাচ্ছে সদস্য ও এলাকার জনগনকে সচেতন করার জন্য। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০জুন, ২০২০ তারিখ পযর্ন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ রেখে সদস্যদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পুনরায় চালু করার জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে । ঋণ গ্রহীতারা এই দুঃসময়ে ঋণ পেয়ে খুব খুশি। সরকারের সঙ্গে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য ব্র্যাককে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। ব্র্যাক বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও বিশ্বসেরা শীর্ষ এনজিও হওয়ায় সদস্যদের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ ও অনেক বেশি। উন্নয়নকর্মী হিসেবে ব্র্যাকের রূপকল্প, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আমরা সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ।
ব্র্যাকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক(দাবি) জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে এই অর্থনৈতিক মন্দা হতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অবশ্যই উৎপাদন ক্ষেত্রে বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের সময়মত আর্থিক সহযোগিতা করতে হবে। কারণ, আমাদের কৃষকরাই পারবে উৎপাদনের চাকা সচল রেখে আমাদের দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্র্ণ করতে। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) নির্দেশনা মেনেই ব্র্যাক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রান্তিক কৃষকদের সহযোগিতার জন্য এই দুর্যোগময় মুহুর্তে কাজ করে যাচ্ছে।

  • 15
    Shares