332 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কাজী মাও. সোলায়মান চৌধুরীর চক্ষু শাহাদত দিবসে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার স্মৃতিচারণ।

  • 237
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    237
    Shares

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামঃ-  

গতকাল ছিল ৩০ জুন। ১৯৯৪ সালের ৩০জুন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার আহবানে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়। স্বাধীনতার পূর্বে থেকে যে দেশে ৯০% মুসলমানের বসবাস। হাজার বছর পূর্বে যে দেশে সুদূর আরব দেশ থেকে বহু মনীষী শান্তির ধর্ম ইসলামের বাণী প্রচার করেছে। সে দেশেই ১৯৯৪ সালে এক বিতর্কিত লেখিকার আবির্ভাব ঘটে। বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন কর্তৃক যখন ইসালম, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওসাল্লাম ও পবিত্র কোরআন অবমাননা মূলক লেখা প্রকাশিত হয়। এই বিতর্কিত অশ্লীল লেখায় দেশব্যাপী যখন নাস্তিক্যবাদী প্রচারণা প্রবল হয়ে ওঠে। তখনি অতীতের ধারাবাহিকতায় রাজপথে গর্জে ওঠে সুফিবাদে বিশ্বাসী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত এর আক্বিদায় প্রতিষ্ঠিত অহিংস ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা।

কাজী মাওলানা মুহাম্মদ সোলায়মান চৌধুরীর চক্ষু শাহাদত দিবসে তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম মুহাম্মদ ভুঁইয়া মানিক বলেন, কাজী মাওলানা মুহাম্মদ সোলায়মান চৌধুরী ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তৎকালীন সময়ে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের আবির্ভাব ঘটলে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে কাজী মাওলানা মুহাম্মদ সোলায়মান চৌধুরীর নেতৃত্বে দেশজুড়ে গণআন্দোলন শুরু হয়। নাস্তিক্যবাদমুক্ত স্বদেশ গড়ার আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৯৯৪ সলের ৩০জুন দেশব্যাপী সাড়া জাগানো হরতাল পালন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা। রাজপথে ছাত্রসেনার লাখো নেতাকর্মীর সরব উপস্থিতিতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দিনব্যাপী হরতাল পালিত হয়। কর্মীদের সাথে রাজপথে নেমে সাহসী নেতৃত্বদানের সময় ঘাতকের বুলেটে শহীদ হয় তৎকালীন সভাপতি মাওলানা কাজী মুহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরীর দুটো চোখ। আজও তাঁর এ চোখ তিনি ফিরে পাননি। ছাত্রসেনার সভাপতি মাওলানা কাজী মুহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরীর চক্ষু শাহাদাতের মাধ্যমে বাংলাদেশ মুক্তিপায় ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদী লেখিকার কবল থেকে। সরকার বাধ্য হয় বিতর্কিত লেখিকা ও লেখিকার বই সমূহ নিষিদ্ধ করতে। ছাত্রসেনার এ আন্দোলনের চাপে পড়েই দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় কুখ্যাত তসলিমা।

বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম বলেন, ইসলাম বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আপোষহীন সাহসী লড়াইয়ে মজলুম জননেতা কাজী মাওলানা মুহাম্মদ সোলায়মান চৌধুরীর চক্ষু শাহাদাত একটি স্মরণীয় ও বরণীয় ঘটনা। কাজী মুহাম্মদ সোলায়মান চৌধুরীর এ ত্যাগ ইতিহাসের বিরলতম নিদর্শন। সুন্নী ছাত্রজনতার প্রেরণার অন্যতম পাথেয়। সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম বলেন, কাজী মাওলানা মুহাম্মদ সোলায়মান চৌধুরী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের বিভাগীয় সাংগঠনিক সচিব। চক্ষু শাহাদত দিবসে তাঁর জন্য মুনিবের দরবারে ফরিয়াদ করছি তাঁকে প্রভূত কল্যাণ নসিব করুন। সুন্নিয়তের তরে তাঁর সমুদয় খেদমত কবুল করুন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনার সাংগঠনিক কাজে কাজী মাওলানা মুহাম্মদ সোলায়মান চৌধুরীর এ ত্যাগ চিরদিন উৎস যোগাবে। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের ৩০ জুন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনে বিচারের দাবীতে ছাত্রসেনার হরতাল চলাকালে ঢাকা মুহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে সন্ত্রাসী হামলায় কাজী মাওলানা মুহাম্মদ সোলায়মান চৌধুরী দুটো চক্ষুই হারান। আমরা তাঁর এই আত্মত্যাগ কে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং তাঁর জন্য সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নিকট দোয়াপ্রার্থনা করছি।

  • 237
    Shares