236 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কিশোর গ‍্যাং চালাচ্ছে কথিত রাজনৈতিক বড় ভাইয়েরা।

ঢাকায় যাত্রা শুরু করেছে“পথিক রের্কডিং স্টুডিও” অভিজ্ঞ মিউজিক কম্পোজার ও ভিডিও গ্রাফার নিয়ে আমাদের রয়েছে দক্ষ জনবল। আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন নির্মাণ,গান,গজল,মিউজিক ভিডিও ও প্রমাণ্য চিত্র নির্মানে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও প্রসারে আমরা অত্যন্ত যত্নসহকারে কাজ করে থাকি। মোবাইল:01718-293798 ইমেইল-pothikrecording@gmail.com
  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    15
    Shares

নিজেস্ব প্রতিবেদক:  রাজনৈতিক পরিচয়টাকে সামনে এনে অপকর্মকারী অপরাধীরা এটাকে একটা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য দলের নাম ব্যবহার করে কিশোর গ্যাং তৈরী করতে তুলে দেওয়া হয় অবৈধ অস্ত্র।  দেখা যায়, অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হওয়া অনেকেই নিজের পরিবার ছাড়া কাউকে পাশে পায়না তখন। এভাবেই কিশোর ও তরুণদের চাঁদাবাজি, ভূমি দস্যুতা, দলবাজি, মারামারি, অবৈধ অস্ত্র আনা নেওয়া সহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করা হয় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই।

চট্টগ্রামে প্রায় ৫০ কথিত বড় ভাইয়ের মদদে ১৫০ কিশোর গ্যাং এর ৫০০ সদস্য নানা অপরাধ করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যারা নিজেদের পরিচয় দেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অনুসারী হিসাবে। পুলিশ বলছে, গ্যাং সদস্য ও মদদ দাতাদের তালিকা হচ্ছে এবং অতি শীঘ্রই অভিযান পরিচালিত হবে। সন্ধ্যার পর কিশোরদের রাস্তায় পাওয়া গেলে আটক করার কথাও বলছে পুলিশ।

অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরের মধ্যে দরিদ্র থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও আছে। নগরীর ১৬ থানার ১৪৫ বিট কর্মকর্তাদের কিশোর গ্যাং ও তাদের মদদ দাতাদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন সিএমপি।

নগরীর বাকলিয়ায় স্থানীয় দুই কিশোর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের কারণ কথিত বড় ভাইয়ের সামনে সিগারেট জ্বালানো। আর, এমইএস কলেজের সামনে স্কুলছাত্র সানি হত্যায় জড়িতদের সবাই ছিলো সদ্য স্কুলের গন্ডি পেরুনো কিশোর। স্থানীয়রা বলছেন, সংঘর্ষের কারণ ছিলো ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপের বিরোধ।

এছাড়া জামালখান এলাকায় কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী আদনান হত্যাসহ কয়েকটি ঘটনায় আটককৃতদের বেশিরভাগই কিশোর। এই ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাংদের মদদ দাতা হিসেবে নাম এসেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রউফের।

বহদ্দারহাট ও চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কেন্দ্রীক কিশোর গ্যাং এর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বারবার নাম এসেছে এসরারুল হক এসরালের৷ স্থানীয়রা বলছেন, স্থায়ীন কিশোররা তো বটেই নানান সময় নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে কিশোরদের জমায়েত করে চালানো হয় নানান তৎপরতা।

নগরীর সিআরবি এলাকায় আধিপত্য রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল আলম লিমনের। খুন, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নগরীর লালখান বাজার এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দিদারুল আলম মাসুম। সম্প্রতি ছাত্রলীগের নেতা সুদীপ্ত হত্যা মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কয়েকমাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, চন্দ্রনগর, শেরশাহ, শ্যামলী আবাসিক ও  পলিটেকনিক্যাল এলাকায় সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে কিশোর গ্যাং এর নিয়ন্ত্রক আবু মোঃ মহিউদ্দীন। বিভিন্ন পোশাক কারখানা, নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে। দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর গাঁ ঢাকা দেন তিনি। শেরশাহ এলাকা কেন্দ্রিক কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক দিদারুল আলম দিদার। নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে দিদারের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার চন্দ্রনগর শ্যামল ছায়া আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় দিদার বাহিনীর সদস্যরা। সামশু ওরফে ইয়াবা সামশু নগরীর রুবি গেট, হিলভিউ, বার্মা কলোনি ও তার আশপাশের এলাকায় মাদকের পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। ১২ মামলার আসামি সামশু ঐ এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। নগরীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরেক পরিচিত নাম ঢাকাইয়া আকবর। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা ও ৩টি জিডি হয় পাঁচলাইশ থানায়। অস্ত্র মামলায় ২০০৪ সালে ১৭ বছর সাজা হয় তার। পরে ঐ মামলায় সে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পায়। তার বিরুদ্ধে নগরের নাসিরাবাদ শিল্পাঞ্চল ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এলাকায় চাঁদাবাজি এবং পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করার অভিযোগ আছে।

নগরীর উপকূলীয় পতেঙ্গা ৪১নং ওয়ার্ড এর সাবেক  কাউন্সিলর পুত্র ওয়াহিদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে৷ স্থগীত হওয়া চসিক নির্বাচনের প্রচারণার সময় ওয়াহিদ চৌধুরীর আমেরিকা ফেরত ভাইকে স্বদলবলে এলাকায় অবস্থান করায় মুচলেকা নিয়েছিলো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট৷

এই বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা বাড়ার কারণ সঠিক মানসিক বিকাশের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। সমাজ বিজ্ঞানী অধ্যাপক গাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের সমাজে। সেজন্য এ ধরনের কিশোররা অপরাধ করছে। কিশোররা এ অপরাধ শিখে দেখানো ক্রাইম সম্পর্কিত টিভি শো থেকেও।’

ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৬ টি থানার প্রতিটি বিটে কিশোর গ্যাং সম্পর্কে সর্ব সাধারণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে৷ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘তাদেরকে যারা ভুল পতে পরিচালিত করছে আমরা এ বিষয়ে এরইমধ্যে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবো। পাশাপাশ আমরা সামাজিক সচেতনতা গ্রো করবো যাতে অভিভাবক-শিক্ষকরা এ বিষয়ে এগিয়ে আসে।

  • 15
    Shares
  • 15
    Shares