410 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লার কোরবানী গরু হাটে তুলতে প্রস্তুত লকডাউনে শংকিত ব্যবসায়ী খামারীরা

  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    27
    Shares

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসামঃ আর মাত্র কোরবানী ঈদের অল্প ক’দিন বাকী। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মতে আগামী ২১ জুলাই ঈদুল আযহা।

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, বরুড়া, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে কয়েক হাজার গবাদী পশু মোটাতাজাকরন শেষে কোরবানীর হাটে তুলতে প্রস্তুতি নিয়েছেন এলাকার গৃহস্থ, খামারী ও ব্যবসায়ীরা। তবে সরকারের ১৪দিন ব্যাপী লকডাউনে শংকিত সকল শ্রেণিপেশার মানুষ।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, কোরবানী ঈদের আর মাত্র ৭/৮ দিন বাকী। গত কয়েকদিনের আষাঢ়ী অবিরাম বৃষ্টি, তার উপর মহামারী করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে সরকারের ১৪ দিনের লকডাউনে এলাকার গ্রামীন অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়ে এলাকার জনজীবন যেন অনেকটাই থমকে গেছে। তারপরও আসন্ন কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে গবাদীপশু বেচাকেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সকল পেশার মানুষ।

চলমান বর্ষাকালের শুরুতে শরতের আগমনী বার্তায় এ অঞ্চলের বেশীর ভাগ এলাকার নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধতায় থাকে। ফলে সবুজ ঘাস পাওয়া যায় না। তার উপর গো-খাদ্যোর মূল্য বৃদ্ধি ও সংকট তীব্রভাবে দেখা দেয়।

পশু মোটাতাজাকরনে এলাকার ফার্মেসী, পশুখাদ্য দোকান, সার-কীটনাশকের দোকানে বেচাকেনার ছড়াছড়ি চলছে। তার উপর ভেজাল পশু খাদ্যের রমরমা ব্যবসা চললেও স্থানীয় প্রশাসনের বাজার মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে প্রতারিত হচ্ছেন গরু ব্যবসায়ী ও খামারীরা।

সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রত্যেক বছর ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের প্রায় অর্ধশতাধিক চোরা পথ দিয়ে আসতো কয়েক হাজার গরু। চলমান মহামারী করোনার কারণে সকল সীমান্ত বন্ধ থাকায় দেশীয় গরুর উপর নির্ভরশীল এ এলাকার মানুষ।

এ অঞ্চলের হাট-বাজার গুলোতে বেচাকেনার অপেক্ষায় কয়েক হাজার দেশীয় জাতের গরু রয়েছে তবে গত বছর কোরবানী ঈদে মোটা তাজাকরন গরু কোরবানীর হাটে তুলে লোকসান হওয়ায় এবার প্রায় ৮/১০ লাখ লোকের অধ্যুষিত জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ৫টি উপজেলায় গবাদীপশু লালন-পালন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক গবাদী পশুর খামার।

এমনকি কমেছে গবাদী পশু পালনে খামারীর সংখ্যাও। বিভিন্ন হাটে এখনও গরু ভাল ভাবে বেচাকেনা শুরু হয়নি। তবে দাম আগের মতই স্থিতিশীল রয়েছে।

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, কুমিল্লার ভারত সীমান্ত অঞ্চল হিসাবে জেলার দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম,লালমাই,নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যের পাশাপাশি চোরাপথে গরু আমদানীর ট্রানজিট রুট হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

তবে চলমান পরিস্থিতিতে এসময়টা খুবই ব্যাতিক্রম। বিদেশী গরু আসতেও পারে আবার না আসতে পারে। উপজেলাগুলোর শহরেই নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিভূত পল্লী গাঁয়ে ও চোরা পথে
আসা বিভিন্ন ভারতীয় পন্যের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী ও বিভিন্ন প্রজাতির ডিম পাওয়া যাচ্ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতি মন্দায় ফলে দেশীয় খামারীরা তাদের গরুর বাজার মূল্য নিয়ে অনেকটাই শংকিত।

সূত্রগুলো আরও জানায়,এ অঞ্চলে ভীন দেশীয় চোরা পথে আসা গরু আমদানীর ফলে সরকার ও বছরে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকার চিহ্নিত গরু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র চোরাচালানের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধী সেন্টিকেট সীমান্ত অঞ্চলের সড়ক ও নৌ পথে দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতীয় রোগাক্রান্ত ও দূর্বল গরু এ এলাকার হাটবাজারে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে তবে চলমান লকডাউনের কারনে স্থানীয় প্রশাসন মাঠে অবস্থান করায় ওইসব অসাধু গরু ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও আতংকে আছে।

এ ব্যাপারে লাকসাম উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়,আসন্ন কোরবানী ঈদে এলাকার বিভিন্ন হাটবাজারে এ সব গরু স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বেচাকেনা করে থাকেন বড় বড় গরু ব্যবসায়ীরা।

বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন গরু বাজার গুলোতে শান্তিপূর্ন ও নিরাপত্তা বিধানে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার্থে সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে। যাতে দেশী-বিদেশী গরু ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে গবাদীপশু বেচাকেনা করতে পারে।

  • 27
    Shares