882 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লার তিতাসে  বালুর বোর্ড চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ 

হালিম সৈকত: কুমিল্লার তিতাসে বালুর বোর্ড চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  ২৭ জুলাই সোমবার  সকাল  ১০ টায় কড়িকান্দি ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ওই গ্রামের খন্দকার বাড়িতে এক বিচার সালিশ বসে। বিচার সালিশে ধন ভূইয়ার পরিচালনায় ও  মো. রোস্তম আলী মোল্লার সভাপতিত্বে ১০ সদস্যের জুরিবোর্ড গঠন করে এবং জুরি বোর্ড রায় প্রকাশ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইউপি সদস্য রাসেল মিয়া বলেন, বিচার মানি কিন্তু আমার এক লক্ষ চব্বিশ হাজার টাকার কি হবে বলার সাথে সাথে কামাল নামে এক ব্যক্তি বলে ওঠে ধর। সাথে সাথে আতংক ছড়িয়ে পড়। বেঁধে যায় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ

।  এতে আহত হন  প্রবাসি মোহাইমেন খন্দকার ,  ইমন খন্দকার ,  মাহবুব খন্দকার ও রাসেল মেম্বার প্রমুখ।  আহত মোহাইমেন খন্দকার ও মাহবুব খন্দকারকে পুলিশি প্রহরায় তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এই দিকে আহত ইউপি সদস্য রাসেল মিয়া জানান, মোহাইমেনের ছেলে ইমন বালুর বোর্ডের প্রতিটি বোর্ড থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবী করে।  যারা টাকা দেয় না তাদের  বোর্ড আটকে দেয় এমন খবর পেয়ে ইমনকে জিজ্ঞেস  করলে ইমন আমার গায়ে কিল ঘুষি মেরে আহত করে এবং আমার কাছে থাকা ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সেই ঘটনায় আজ সকালে শালিস বসে এবং আমাদেরকে মেরে আহত করে।

অপরদিকে, মোহাইমেনের স্ত্রী  ইয়াসমিন আক্তার বলেন,  শালিসের রায় আমরা মেনে নিই। কিন্তু রাসেল মেম্বার না মেনে বলে ওঠেন কিসের রায়?  এই রায় আমি মানি না, বলার সাথে সাথেই রাসেল মেম্বারের ভাই উজ্জ্বল,  জুনাইদ,  সবির,  সেকান্দার ধনু মিয়ার ছেলে মাহবুলসহ ৩০-৪০ জন লোক লাঠিসোঠা, দা, রড নিয়ে আমার স্বামীও সন্তানের উ উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা আমাদের ঘরবাড়ি  ভাংচুর ও লুটপাট  করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। মোহামেন খন্দকার বলেন, ঘর থেকে ১০ ভরি ওজনের সোনার জিনিস,   ২ টি দামী মোবাইল,  নগদ ৩ লক্ষ এবং ৩ হাজার ইউরো লুট করে নিয়ে যায় রাসেল বাহিনী।  তারা তিন দিক থেকে আমাদের উপর আক্রমন করে।  ইমনের বিরুদ্ধে আনীত অভিনযোগ অস্বীকার করে মোহাইমেন বলেন ইমন একজন শিক্ষিত ছেলে। সে কেন চাঁদা  চাইবে। বালু ব্যবসার সাথে জড়িত ধন ভুইয়া   ও রাসেল মেম্বার। আমার তৈরিকৃত ভরাট বাড়ির ক্ষতি হলে আমি তো বোর্ড চলাচলে বাঁধা দেবই।  এখানে রাসেল মেম্বারের কি?

কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের   চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসীন ভূইয়া বলেন, বিষয়টি আমি শুনোছি। তুচ্ছ ঘটনায় এমন মারামারি সমাজের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না।

এ  বিষয়ে তিতাস থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন,  ইউসুফপুরের ঘটনাটি আমি শুনেছি।  এখনও পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।  অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

[Sassy_Social_Share total_shares="ON"]