610 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লায় করোনার পরীক্ষা দিয়ে সচরাচর বাহিরে ঘুরাফেরা করছে মানুষ

Exif_JPEG_420

  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    21
    Shares

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা: কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চল লাকসাম বরুড়া, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে চলমান মরণঘাতক করোনা মহামারীতেও সাধারণ রোগীদের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে। উপজেলা গুলোর সবকটি সরকারি হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা করে আক্রান্তরা সচরাচর বাহিরে ঘুরাফেরা করছেন বলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সার্বিক প্রশাসনের কঠোর তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেহই। তবে হাসপাতালগুলোতে করোনার টিকা নিতে মানুষের নিবন্ধনের চাপ বাড়ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা নিবন্ধন, টিকা দেয়াসহ সাধারণ রোগীদের চাপ বেড়ে গেছে। চিকিৎসকরাও নানাহ রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা নিয়ন্ত্রন থাকলেও সাধারণ মানুষের জটলায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। হাসপাতাল চত্তরে করোনার নমুনা সংগ্রহ, অবাধে জনচলাচল, করোনার নিবন্ধন করা এবং টিকা দেয়া ঘিরে স্ব স্ব উপজেলার চিকিৎসকরা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার ও কয়েকশত মানুষ করোনা নমুনা দিতে এবং করোনার নিবন্ধন করতে অপেক্ষমান। কি করবে স্বাস্থ্য বিভাগ। তার উপর লক ডাউনে মানুষের চলাচল রুখতে পারছেনা স্থানীয় প্রশাসন। মহামারী করোনা আক্রান্তের হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে এ অঞ্চলের শহরগুলো চাইতে গ্রামগঞ্জ, পাড়া মহল্লায় স্বাস্খ্যবিধি মানছে না মানুষ। ফলে করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি ঘটার আশংকা করছেন স্থানীয় লোকজন। লাকসাম, বরুড়া ও নাঙ্গলকোট পৌরসভার সকল ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি মহল্লায় সন্ধ্যার পর দোকানপাট এবং রাস্তার উপর যেন মানুষের মিলন মেলা। চারিদিকে শুধু আক্রান্তের খবর আর মৃত্যুর সংবাদ। সরকারি -বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে না গেলে বুঝা যাবে না মহামারী করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনার নমূনা পরীক্ষা দেয়া লোকজন সচরাচর বাহিরে ঘুরাফেরা করছে। এছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীদের স্বজনরাও অবাধে মানুষের সাথে ঘুরাফেরা করছেন এবং সাথে সাথে সাধারণ রোগীদের চলাচলতো আছেই ফলে কে সাধারণ রোগী আর কে করোনা আক্রান্ত হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও পাড়া মহল্লার চিত্র দেখলে তা বুঝার উপায় নাই। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে হাসপাতাল গুলোতে যাওয়াই এখন ঝুঁকির্পূন। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে হাসপাতালের চিত্র অনেকেটাই ফাঁকা ছিলো। কিন্তু করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হলে করোনা রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসকরাও বেকাদায়। ভয়ে ভয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। কারন কার মধ্যে করোনা সংক্রমণ আছে সেটা জানতে অনেক সময়ের ব্যাপার। আবার কেহ কেহ করোনা আক্রান্ত হলেও হাসপাতালে না এসে হাটবাজারের ফার্মেসী থেকে ঔষধ কিনে অবাধে চলাচল করছেন। সরকারের ২৩ দফা নির্দেশনা যেনো নাটকীয়তায় রূপ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ এ লকডাউনকে যেনো আমলে নিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে জেলা দক্ষিনাঞ্চলে কর্মরত একাধিক চিকিৎসক জানায়, চলমান মহামারী করোনার তৃতীয় ঢেউ চলাকালে এ অঞ্চলে করোনায় আক্রান্ত মানুষের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে এসময়ে সাধারণ রোগীর চাপ বেশি। জনবল সংকটে সকলরোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে করোনা ও সাধারণ রোগী একাকার প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা বলেন, দেশের সকল গণমাধ্যমসহ স্থানীয় সকলস্তরের প্রশাসনের জনসচেতনতামূলক প্রচার চলছে। আমরাও বারবার মানুষদের সর্তক করছি। তারপরও হাসপাতাল কিংবা হাটবাজারের জনসমাগম ঠেকাতে পারছি না। এমনকি মানুষের অবাধে ঘুরাঘেরা নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। এরফলে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ৫টি উপজেলা জুড়ে মহামারী করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিতে পড়েছে।

  • 21
    Shares