146 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লায় করোনা লকডাউনে কেড়ে নিয়েছে কয়েক হাজার মানুষের উপার্জনের পথ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চল লাকসাম, বরুড়া, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে মহামারী করোনার প্রভাব ও পর পর লক ডাউনে কেড়ে নিয়েছে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের উপার্জনের পথ। নানাহ সমস্যায় পড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে মানুষ। সামনের দিনগুলো কি ভাবে কাটবে এ ভেবেই কাটছে তাদের অনিশ্চিত জীবন। অসহায় মানুষদের আর্তনাত শুনা কিংবা দেখার মতো কেউ নেই।

জেলা দক্ষিনাঞ্চলের একাধিক সূত্র জানায়, মহামারী করোনার প্রায় দু’বছর যাবত ধরে ক্রান্তিকাল চলছে। এক
শ্রেণির মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে আছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চাইতে মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্রদের অবস্থা আরো কাহিল। আত্মীয় স্বজন আর বন্ধুবান্ধদের কাছ থেকে ধারদেনা করে এতদিন চলছে তারা। ব্যাংক ও এনজিও কিস্তিতো আছেই। এখন আর কারো কাছে ধারদেনাও পাচ্ছে না। বর্তমানে অনেকের এখন আর কোনো আয় নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। চলমান লকডাউনে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। ২/১টা শ্রেণির মানুষ ছাড়া অপরাপর শ্রেণির সকল মানুষই মহামারী করোনায় আতংকিত। এক কথায় জেলার দক্ষিনাঞ্চলের ৫টি উপজেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষই মহামারী করোনার মধ্যে ভালো নেই।

সূত্রগুলো আরও জানায়, স্থানীয় সার্বিক প্রশাসনের তৎপরতায় সরকারের ২৩ দফা কঠোর নির্দেশনা পালনে হাটবাজারগুলো এখন জনশূন্য, দোকানপাট বন্ধ, পরিবহন চলাচল একেবারেই নেই। এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে বেকারত্ব যেনো দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। কেহই বলতে পারছে না আগামী দিনগুলো কেমন যাবে। সকল সেক্টরে যেনো আতংক বিরাজ করছে। ঘন্টা শেষ না হতেই এম্বুলেন্সের ডাক, করোনায় হতাহতের খবরে এলাকার কোন মানুষই এখন ভালো নেই। কঠোর লকডাউনতো এখন হাটাবাজারে যাওয়া যায় না।

অলস সময় পার করতে হচ্ছে বাড়ীতে বসেই। কোরবানী ঈদ ঘিরে ৭/৮ দিন লকডাউন শিথিল করলে মুদি, ফার্মেসী ছাড়া কোন দোকানই বেচাকেনা তেমন হয়নি। এ কিছুদিনের শিথিলতায় জেলা দক্ষিনাঞ্চলের সবক’টি উপজেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের আবারও কঠোর লকডাউন দেয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। ফলে দোকানপাটসহ ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে বেকার হয়ে পড়ে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।

সূত্রগুলো আরও জানায়, এ অঞ্চলের মানুষ এত বেকায়দায় আগে কখনো পড়েনি। সংসারের ভরনপোষন, ঘর ভাড়া, দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতনসহ আনুসাংগিক খরচ চলতো ব্যবসা বানিজ্যের মধ্য দিয়ে। কিন্তু মহামারী করোনা  আর লকডাউনে গেড়ে নিয়েছে মানুষের সার্বিক জীবন চলার গতি। মানুষের আয় রোজগার বন্ধ, এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে সংসার চালাতে।

স্থানীয় শ্রমজীবি ও দিনমুজুরদের একাধিক সূত্র জানায়, মহামারী করোনার মধ্যে কেহই আমাদেরকে কোন
কাজে নিচ্ছে না। সরকারি কিংবা বে-সরকারি পর্যায়ে কেহ কোন সাহায্যও দিচ্ছে না। ফলে নানাহ সমস্যায় পড়ে
দিন কাটাতে হচ্ছে আমাদের। তার উপর দৈনন্দিন বাজার খরচ করতে হাতে কোন নগদ টাকা নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

জেলা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, মহামারী করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের
২৩ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। মহামারী করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রী
কার্যালয়ের খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া জরুরী ৩৩৩ নম্বরে ফোন করলে
ক্ষতিগ্রস্থদের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।