172 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লায় ভয়ংকররূপে করোনার থাবায় ধমকে গেছে সার্বিক অর্থনীতি

  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা : কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, বরুড়া, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে মহামারী করোনার ৩য় ঢেউয়ের ভয়াবহতা কোন ভাবেই যেনো পিছু ছাড়ছে না। দেশব্যাপী গতবছরের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হয়েছিলো মহামারী করোনার ১ম সংক্রমণ। শুরু হয় লকডাউন আর লকডাউন। ফলে ভেঙ্গে পড়ে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক মেরুদন্ড। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সকল অর্থনৈতিক খাতগুলো বন্ধ হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে ভয়ংকররূপে মহামারী করোনায় ধাবায় ধমকে গেছে এলাকার সার্বিক অর্থনীতি। এতে এ জেলা দক্ষিনাঞ্চলের সবক’টি উপজেলাও বাধ পড়েনি। সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচলসহ নানাহ কারনে করোনার থাবা থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউ ।

উপজেলাগুলোর একাধিক সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে করোনার ৩য় ঢেউ শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে তার করাল থাবা ছড়িয়ে দিয়েছে। এ অঞ্চলে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি ঘটা শুরু করলে সরকার পর পর ২১ দফা আর ২৩ দফা নির্দেশনা জারি করলে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে নানামুখী প্রদক্ষেপ নিলে এলাকার ব্যবসায়ীগণ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। এলাকার মানুষের জীবন জীবিকার সকল উপার্জনের পথ বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়ে তারা। কর্মহীন হয়ে বহুমানুষ এখন মানবেতর দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। গণ পরিবহন ছাড়া সকল যানবাহন চলাচল করছে। কাঁচা বাজার, মুদি দোকান, ফার্মেসী ও খাবার দোকানগুলো খোলা থাকলেও অন্য সকল অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তি, মহাজন ও হাওলাতি ধারদেনা পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মানুষদের।

সূত্রগুলো আরও জানায়, বিগত প্রায় দুই বছর যাবত মহামারী করোনার ছবলে এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যঝঁকিতে পড়েছে। ফলে এলাকায় বেকারত্বের হার বেড়েই চলেছে। এলাকার সার্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এ করোনা। এ নিয়ে বেসরকারি একাধিক সংস্থ্যা নানাহ তথ্য দিলেও সরকারি ভাবে এখন পর্যন্ত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। চলমান লকডাউন আর কতদিন দীর্ঘায়িত হবে তা বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে করোনা সংক্রমন পরিস্থিতি যে ভাবে প্রভাব ফেলছে তাতে আগামীদিনে নানা সংকট আরও প্রকোট হয়ে দেখা দিতে পারে বলে অভিমত অনেকের।

লাকসাম সরকারি হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, মহামারী করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে গণ টিকাদান কর্মসূচী শুরু করেছে লাকসাম পৌরএলাকার ৯টি ওয়ার্ড ও উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পৌরপরিষদ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৪০ হাজার ডোজ করোনা টিকা গণহারে মানুষদের মাঝে প্রয়োগ করবে তারা। এছাড়াও সরকারি হাসপাতালে টিকা নিতে, রেজিঃ করতে এবং নমুনা পরীক্ষা করতে প্রতিনিয়ত আগ্রহ বাড়ছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের চাপও বেড়ে গেছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং কমছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা অনেক নারী পুরুষই মানতে চায় না। এ পর্যন্ত লাকসাম সরকারি হাসপাতালে করোনা টিকার রেজিঃ করেছে ৩৭হাজার ৮০ জন, ৩৯ হাজার ৭’শকরোনা টিকা ডোজের মধ্যে মানুষের মাঝে ৩রা আগষ্ট পর্যন্ত প্রয়োগ হয়েছে ২২হাজার ২’শ৪১ জন, আক্রান্ত হয়েছে ১হাজার ৬’শ৫৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮’শ৫৪ জনের। হাসপাতালে ভর্তি আছে ৮৫ জন। এছাড়[ ৭আগষ্ট থেকে ১২ আগষ্ট পর্যন্ত লাকসাম পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড ও উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার ডোজ করোনা টিকা গণহারে মানুষের মাঝে প্রয়োগ করা হবে।

হালিমা খাতুন জেবিন

  • 8
    Shares