218 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লায় সেন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে চামড়ার বাজারে ধ্বস

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা: কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কোরবানী পশুর চামড়ার দর নিয়ন্ত্রন নিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে নানাহ নাটকীয় সমীকরন।

এতে মারাত্মক বিপাকে পড়েছে এলাকার ক্ষুদ্র মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা। এবারও অতীতের মত
চামড়া ব্যবসায়ী সেন্ডিকেট এ অঞ্চলের চামড়ার বাজার দর দখল করে নিয়েছে। সেন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের
কারসাজিতে চামড়ার বাজারে ধ্বস এবং মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাথায় হাট। এ ব্যাপারে কারো যেন
কোন মাথা ব্যাথা নেই।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ৪টি উপজেলার ক্ষুদ্র মৌসুমী ফড়িয়া চামড়া ব্যবসায়ীরা চলমান মহামারী করোনাকালেও নির্ধারিত মূল্যে পশুর চামড়া কিনে এবার লোকসানের মুখে পড়েছে। এতে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের নানাহ সমীকরনকে দায়ী করছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। কোরবানী ঈদের দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চামড়ার সাইজ অনুসারে ৩’শ থেকে ৪’শ টাকা পর্যন্ত দর উঠে।

বিকালের দিকে হঠাৎ করে মজুতদার চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনা বন্ধ করে দিলে বিপাকে পড়ে ক্ষুদ্র ওমৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। তার উপর সন্ধ্যার পরে এক পসলা বৃষ্টি কেড়ে নেয় চামড়ার বাজার দর। চামড়া ক্রয় বিক্রয় হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির পর রাতের দিকে নানাহ অজুহাতে সেন্ডিকেটভুক্ত চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনা শুরু করে ১’শ টাকা থেকে ২’শ টাকার মধ্যে তাও আবার কিছুক্ষন পর বন্ধ করে দিলে মহা বিপাকে পড়ে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলাগুলোর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চামড়া নিয়ে আসা ক্ষুদ্র ও ফড়িয়া চামড়া ব্যবসায়ীরা।

মৌসুমী ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা চামড়ার বাজার দর না পেয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন হাটবাজারের চামড়া পট্টির আড়তদারদের ধারে ধারে ঘুরে আহাজারী করতে দেখা গেছে।

নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা জানায়, নির্ধারিত দামেও চামড়া কিনছেনা আড়তদাররা। তারা ৮/১০ জন চামড়া ব্যবসায়ী মিলে সিন্ডিকেট করে চামড়ার দর কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমান সরকার মফস্বল এলাকায় চামড়ার ফুট হিসাবে মূল্য নির্ধারন করে দিলেও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গড়ে চামড়ার ফুটে বাজার দর দাম একই পর্যায়ে ছিল। কিন্তু ঈদের দিন কোন কোন আড়তদার চামড়া গড় হিসাবে ৩’শ থেকে ৪’শ টাকা পর্যন্ত চামড়া কিনলেও নানাহ অজুহাতে সন্ধ্যার পর থেকে হঠাৎ করে ১’শ থেকে ২’শ টাকায় নেমে আসে।

জেলা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলাগুলোর চামড়াপট্টিতে এ বছরের চিত্র ছিল অনেক নাটকীয়তা। চামড়া বেচাকেনায় বাজার দর নিয়ে অনেক গোপনীয়তা এবং এজেন্ট কিংবা দালাল দিয়ে চামড়া কেনাসহ চলে হরেক রকম সমীকরন। এ নিয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ী- ফড়িয়া আর আড়তদারদের বেঁধে দেয়া চামড়ার বাজার দর নিয়ে উঠেছে হাজারো বির্তক। পর্দার অন্তরালে চামড়ার বাজার দর নিয়ে কি ঘটেছিলো তা জানতে চায় মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে চামড়ার বাজার দর নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনের কোন সংস্থার তৎপরতা দেখা যায়নি।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, এ অঞ্চলে চামড়া শিল্পে সিন্ডিকেট বলতে কিছুই নেই। তাহলে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, লালমাই, বরুড়া, সদরদক্ষিন, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও পাশের জেলাগুলো থেকে লাকসাম উপজেলার বানিজ্যিক কেন্দ্র দৌলতগঞ্জ বাজারে শত শত চামড়া আসতো না। প্রতিবছরের মতো ঈদের আগে সরকার চামড়ার মূল্য নির্ধারন করে দেয়। এবারও তাই দিয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামে চামড়া কেনা যুক্তিক নয়।

 

  • 2
    Shares