510 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের অলি-গলিতে হাত বাড়ালেই পাচ্ছে শীতের পিঠা

  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    22
    Shares

মশিউর রহমান সেলিমঃ কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, লালমাই, বরুড়াউপজেলাসহ পৌরশহরে শীতের পিঠা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন সড়কের পাশে অবস্থানরত বেশকটি শীতের পিঠা বিক্রেতা। ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়, আর অল্প পূঁজিতেও যে সংসার চালানো যায় তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন একাধিক পিঠা বিক্রেতা। কী বিচিত্র শীতের পিঠা বিক্রেতাদের বিচিত্র জীবন। তারা যেন অল্প আয়েই সন্তুষ্ট। তবুও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ আর ভরন-পোষণ চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। সংসার চালানের জন্য শীতের পিঠা বিক্রি করে কোন রকমে জীবন-জীবিকা চালাচ্ছেন তারা। শীত একেবারই পড়েনি এমনটা কিন্তু বলা যাবে না। তবে যতটা পড়ার কথা ততটা পড়েনি। অতীত বছরগুলোতে চলতি মাসে যে ভাবে শীত জাঁকিয়ে বসেছিল এবার কিন্তু তেমন ভাবে দেখা না দেয়ায় শীতের পিঠা ব্যবসায়ীরা অনেকটা হতাশ। এলাকার সর্বত্র এখন নবান্ন মাস। আমন ধানের নতুন চাউলে নানা স্বাদের শীতের পিঠা তৈরীতে প্রত্যেক ঘরেই চলছে উৎসব মুখোর আমেজ। দিন শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে একে বারে জাঁকানো শীত আর ঘন কুয়াশার চাঁদর দিয়ে আবৃত করে রাখছে সারারাত। হঠাৎ করে প্রকৃতির গায়ে যেন এখন শীতের সাজ। তবে কবির ভাষায় ‘‘পান-পানি-পিঠা, শীতে লাগে মিঠা’’। কিন্তু সে মিঠার স্বাদ পেতে ওইসব খাবার ব্যবসায়ীরা তাকিয়ে আছে প্রকৃতির দিকে। তবুও জেলা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলাগুলোর হাটবাজার কিংবা অলি-গলিতে হাত বাড়ালে পাচ্ছে শীতের পিঠা।
জেলার দক্ষিনাঞ্চলের হাটবাজার ও পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের অলিগলি এবং প্রধান প্রধান সড়কের পাশে শীতের ভাপা পিঠাসহ হরেক রকমের সুস্বাদু দেশীয় খাবার বিক্রি করছেন তারা। একাধিক শীতের পিঠা বিক্রেতা জানায়, এ শীতের পিঠা ও নানা রকম শীতকালীন খাবার বিক্রি করে ছেলে-মেয়েদেরকে লেখাপড়াসহ ভরন পোষন করে আসছেন। এ কাজে কারীগরদের রোজ ৩০০/৪০০ টাকা মুজুরিতে ওইসব স্থানে তাদের সহায়তা দিয়ে আসছেন তারা। শীতের পিঠা বিক্রেতাদের বাড়ী উপজেলা-পৌর এলাকা ছাড়াও দেশের উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা এলাকার বাসিন্দারাই বেশি।
এ দিকে জেলা দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র লাকসাম উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে চলছে একাধিক শীতের পিঠা বিক্রির হিড়িক। নারী-পুরুষসহ সকল বয়সের লোকজন ওইসব ভ্রাম্যমান দোকানে তৈরী শীতের পিঠা খাওয়ার জন্য ভীড় জমায়। এছাড়া স্বজনদের হাতে তৈরী বানানো চিতই, দুধ চিতই, ভাপাপুলি, চাঁদপুলি,পাটিসাপটা, পাক্কন তেলেভাজা পুরি, নারিকেল, গুড় কিংবা খেজুর রসের কত না বাহারী স্বাদের পিঠাসহ এ অঞ্চলের সবচেয়ে ঐতিহ্য ভাপা পিঠা তৈরীতে নারকেল, চালের গুড়ো, কলা, পাটালি গুড় দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি হচ্ছে এ পিঠা। ওইসব পিঠার সাথে মিলছে নানা ধরনের সু-স্বাদু ভর্ত্তাও। কি নেই ভর্ত্তার তালিকায়- শুটকীর ভর্ত্তা, শুকনো মরিচ কিংবা কাঁচা মরিচ ভর্ত্তা, টাকী মাছের ভর্ত্তা, সরষে বাটা, ধনেপাতা মিশ্রিত সালাদ ও কালো জিরাসহ নানাহ গরম মসল্লার ভর্ত্তা একটুখানি ফ্রি পাচ্ছে ক্রেতারা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও প্রতি পিচ ১০/২০ টাকা দামে বিক্রি হওয়ায় অনেক শিক্ষিত লোকও এ সু-স্বাদু ভাপা পিঠা খেতে এখানে আসছেন। এছাড়া আশে-পাশের ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা ও বহিরাগত লোকজন প্যাকেটে ভরে স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে নিয়ে যায় এ পিঠা।
পিঠা তৈরীর একাধিক কারিগর জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় শীত মৌসুমে তারা শীতের পিঠা বিক্রি করে আসছেন। তবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতকালে পিঠা বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। এক জায়গায় বসে বিক্রি করতে পারায় অনেক স্থায়ী কাস্টমার রয়েছে তাদের। ওইসড়ক ছাড়াও বিভিন্নস্থানে দেখা মিলে বেশ কয়েকজন পিঠা বিক্রেতার। তাদের বাড়ি পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তারা রিক্সা ভ্যানে করে লোক সমাগমস্থলে গিয়ে সদ্য তৈরিকৃত শীতের পিঠা বিক্রি করে সংসার চালান। তারা জানান, পিঠা বিক্রি করে সংসার ভালোই চলে। তবে বছরের কোন কোন সময় রোদ-বৃষ্টি আর ঝড়ে অনেক কষ্ট হয়। ওই সময় পিঠা বিক্রিও কমে যায়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ও একাধিক পরিবেশবিদ জানায়, আবার এখন চলছে শীতকাল, শীত এলেই মনে পড়ে মধূবৃক্ষ নামে খেজুর রসের পিঠার কথা। অথচ সেই খেজুর রস যেন আজ সোনার হরিণ। সেই খেজুর গাচ রক্ষায় স্থানীয় বন বিভাগের তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই। সর্বত্র যেন গাছ কাটার হরিলুট। আর পকেট বানিজ্য। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে আগামী নতুন প্রজন্মের কাছে খেজুর রসের পিঠা ও অন্যান্য সু-স্বাদু খাবার ঠাকুরমার ঝুলির গল্পের মতো। কাল্পনিক কাহিনী হিসাবে পরিনথ হবে।
এব্যাপারে জেলা- উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তর, বনবিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  • 22
    Shares