969 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের ব্যবসা-বানিজ্যে স্থবিরতা সবাই আর্থিক সংকটে

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম : কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বানিজ্যিক নগরীখ্যাত লাকসাম বিগত ৮/৯ মাস যাবত অদৃশ্য ভাইরাস করোনার প্রভাবসহ আজ নানাহ কারনে এলাকার গ্রামীন মুক্তবাজার অর্থনীতি যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক কোন কোন সেক্টরে ভ্রান্ত নীতি, এলাকায় মাদক ও চোরাচালানসহ অপরাজনীতির বেড়াজালে জনজীবন নানাহ ঝুঁকিতে। এলাকার নিত্যদিন ছাড়াও সাপ্তাহিক হাটের দিনে লোকজনের সমাগম একদম নেই। ফলে ব্যবসা বানিজ্য স্থবিরতায় সকল শ্রেণির ব্যবসায়ীরা পড়েছেন আর্থিক সংকটে।
জেলার দক্ষিনাঞ্চলে লাকসাম, নাঙ্গলকোট, লালমাই, বরুড়া ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় কতিপয় ব্যাক্তির অপরাজনীতি আর ভিন দেশীয় নানাহ আগ্রাসনে এলাকার সাধারন ব্যবসায়ীদের উপর ভর করেছে বিরামহীন লোকসানের বোঝা। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসনের চলছে সংস্কার, পৌরশহরকে আধুনিকায়নসহ নানাহ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে এলাকার নিঃশব্দ-নির্ঘুম, আহাজারী ও আর্তনাদের বোবা কান্নারত ব্যবসায়ীদের কল্যানে কতটুকু ভূমিকা রাখবে তা অবশ্য দেখার বিষয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় দারিদ্রের কঠিন আঘাত এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের দমাতে না পারলেও মানসিক দিক থেকে দারিদ্রতার চেয়ে বর্তমান মহামারী করোনার প্রভাব ছাড়াও আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে এলাকার ব্যবসায়ীদের। তবে অর্থনৈতিক সার্বিক পরিস্থিতি জানান দিচ্ছে ভিন্ন কথা। সকল শ্রেণির ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাড়াতে মুক্তিযুদ্ধে চেতনা ঘিরে গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ দর্শনকে অবমূল্যায়নে ওদের আজ চরম মূল্য দিতে হচ্ছে বলে অভিমত অনেকের। এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ণ ঘটলেও আগামী দিনে অপরাজনীতির শংকায় গ্রামীন অর্থনীতিতে গতি আসার মারাত্মক ঝুকি রয়েছে। জেলা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলা ৫টির বিভিন্ন এলাকার সামাজিক পরিবেশ অবক্ষয়ে ব্যবসা-বানিজ্য যেন পাঠার বলি। ওইসব পরিস্থিতি কঠিন করে তোলা কিন্তু একজন নীতিবান রাজনীতিকের কাজ নয়। সামাজিক ভাবে মানুষের জীবন প্রনালী, ব্যবসা বান্ধব কর্মসূচী ও চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে গনতান্ত্রিক সমাজের অপরিহায্যতা স্থিতিশীল রাখার কোন বিকল্প নেই বলে দাবী একাধিক ব্যবসায়ীর। আবার পর্দার অন্তরাল থেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কিংবা পেশী শক্তির ছাড়পত্র নিয়ে সাময়িক মৌলিক গনতন্ত্রের আওয়াজ তোলা যায়। কিন্তু সাধারন ব্যবসায়ীদের কল্যানে নির্ভেজাল গনতান্ত্রিক চর্চা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসন ঘিরে এলাকার জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। বিশেষ করে নতুন করে কুমিল্লায় লালমাই উপজেলা নামে আরেকটি উপজেলা গঠন হওয়ায় সংসদীয় আসন পূনঃ বিন্যাসে ব্যবসায়ীদের মাঝে নানাহ কৌতুহল জন্ম দিয়েছে এবং তারা ঘুরে দাঁড়াতে তাকিয়ে আছেন প্রকৃতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে। এলাকায় স্বল্প সংখ্যক উৎপাদিত পন্য নির্ভর এবং অতি মাত্রায় ভিনদেশীয় পণ্যের নির্ভরতায় ব্যবসা বানিজ্য আজ গতিহারা। দেশীয় ও ভিনদেশীয় পন্য বেচাকেনায় সাধারন ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন এবং চাহিদার বিপরীতে প্রায়ই ৭০ ভাগ পন্যই ভিনদেশী। ওইসব পন্য বানিজ্যে মূল্য পার্থক্য থাকলেও গুনগত মান ও ব্যবসা বানিজ্য প্রসারে রয়েছে নানাহ বির্তক। ভিনদেশীয় পন্যগুলো আমদানীর অন্তরালে চোরাপথে হুন্ডি-ডলার কিংবা মুদ্রা পাচার এবং চোরা পথে আমদানী-রপ্তানী ক্ষেত্রে অভিনব পন্থায় সরকারি মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আয়কর ফাঁকি দিচ্ছে পাইকারী আড়ৎদাররা। কিছু কিছু দেশীয় পন্য ভিন দেশীয় পণ্যের প্রভাবে বাজার মূল্যে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। অথচ দেশীয় উৎপাদিত পন্য আন্তর্জাতিক পন্যের বাজারে অন্যান্য দেশীয় পন্যের সাথে ভারসাম্য রেখে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

[Sassy_Social_Share total_shares="ON"]