598 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের ১১৭ গ্রামে মরনঘাতক আর্সেনিকে আতংক মানুষ

মশিউর রহমান সেলিম,লাকসামঃ কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের সবক’টি উপজেলার প্রায় ১১৭টি গ্রামের ৩০ হাজার লোক আর্সেনিক বিষে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। মরনঘাতক আর্সেনিক নামের মহাদূযোর্গে আক্রান্ত রোগীদের মাঝে গবেষনা ও রোগ প্রতিরোধে সরকারি- বেসরকারী এনজিও ও বিদেশী আর্থিক সংস্থাগুলোর তৎপরতা দেখা গেলেও নাটকীয় বানিজ্যের কারনে এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে নানাহ বির্তক চলছে।

স্থানীয় গবেষকদের একাধিক সূত্র জানায়, এ নিয়ে আমেরিকার সিকাগো ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আর্সেনিক গবেষনা প্রকল্প বাংলাদেশে ২০০৭ সালে কার্যক্রম শুরু করে। এরপর দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ব্র্যাক ও এডিপি ওয়ার্ল্ড ভিশন, সূর্যের হাসি ক্লিনিক ও মেরিষ্টোপসহ একাধিক দাতাসংস্থার অর্থায়নে বৃহত্তর লাকসামের লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায়
আর্সেনিক মুক্তকরণে ব্যাপক উদ্যোগ নিলেও তা অনেকটাই অনুপস্থিত। গত ৫/৬ বছর পূর্বে
প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই সহস্রাধিক লোককে আর্সেনিক রোগী হিসাবে চিহ্নিত এবং কয়েক হাজার লোককে এ রোগের চিকিৎসার আওতায় আনে ওই সকল সংস্থা।

সূত্রগুলো আরও জানায়, জেলা দক্ষিনাঞ্চলের বেশ ক’টি সরকারী/বেসরকারী সামাজিক সংগঠন ৪ উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক লোক নিয়ে গবেষনা ও আর্সেনিকমুক্ত কার্যক্রম চালায়। এর মধ্যে লাকসাম উপজেলার ৩২টি গ্রামে ৬ হাজার ৮’শত, মনোহরগঞ্জ উপজেলার ২৭টি গ্রামে ৬ হাজার ৩’শত, লালমাই উপজেলার ২৩টি গ্রামে ৩ হাজার ৬’শত ও নাঙ্গলকোট উপজেলার ৩৫টি গ্রামে ৭ হাজার ১’শত লোককে আর্সেনিক আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করে তারা।

জেলা দক্ষিনাঞ্চলের অপর একটি সূত্র জানায়, লাকসাম পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, লালমাই উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও নাঙ্গলকোট উপজেলার পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নসহ ৪ উপজেলার ১১৭টি গ্রামের প্রায় ১৫ ভাগ মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ওইসব এলাকায় আর্সেনিক রোগীর মাঝে গবেষনা ও রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন বেসরকারী আর্থিক সংস্থা প্রায় ৩ হাজার সনোফিল্ডার এবং বিপুল পরিমান ঔষধ বিতরণ, স্বাস্থ্য সচেতনতায় সভা-সেমিনার ও সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়ের মাধ্যমে এ রোগের প্রতিকারের বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরলেও বর্তমান মহামারী করোনা ভাইরাসকালে তার কোন প্রতিকার নেই।

সূত্রটি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আইসিডি. ডিআরবি. র্ভাটমাউন্ট, মেডিকেল স্কুল গবেষনা কার্যক্রমের সাথে জড়িত এবং ইউনিসেফ ও ভিপিএইচই’র সহায়তায় আর্সেনিক গবেষনা কাজে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সহযোগিতার কথা থাকলেও বৃহত্তর লাকসামে এদের কোন তৎপরতা কিংবা কার্যক্রম নেই। এছাড়া এ অঞ্চলে আগামী
কয়েক বছরের মধ্যে আর্সেনিক মহাদূযোর্গ হিসেবে ঝুঁকি রয়েছে।

পাশাপাশি এ অঞ্চলের প্রায় ৯৮ ভাগ টিউবওয়েল আর্সেনিকযুক্ত, ৫৬ ভাগ টিউবওয়েল মলযুক্তে আক্রান্ত। বিভিন্ন সংস্থাগুলো ৩ বছর মেয়াদে আর্সেনিক মুক্ত বেশক’টি টিউবওয়েল স্থাপনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অনেকটাই পিছিয়ে। গত কয়েক বছরে স্থাপিত প্রতিটি টিউবওয়েল থেকে আর্সেনিক মুক্ত বিশূদ্ধ পানির সুবিধা অনেক তলানিতে। এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব অতি মুখ্য হলেও এ মহাদূর্যোগ আর্সেনিকের ভয়াবহতায় রোধে কারো যেন কোন মাথা ব্যাথা নেই। বর্তমান মহাদূযোর্গ আর্সেনিক সম্পর্কে জানতে চাইলে কোন দপ্তরই মুখ খুলতে নারাজ।

[Sassy_Social_Share total_shares="ON"]