138 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের হাটে বিষে ভরা ফল-ফলাদিতে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

মশিউর রহমান সেলিমঃ  কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চল লাকসাম,সদর দক্ষিন, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিষাক্ত কেমিকেল ও কার্বাইড ভরা রসের ফল-ফলাদি খেয়ে এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তারা সরকারী নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান না মেনে এবং স্থানীয় প্রশাসনের বাজার মনিটরিং না থাকায় হরেক রকম ফল ব্যবসায়ীরা দিন দিন তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যেতে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
জেলা দক্ষিনাঞ্চলের ভুক্তভোগীদের একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলাগুলোর প্রধান প্রধান হাটবাজারে কোন ফল-ফলাদির বাগান না থাকলেও রয়েছে বিশাল কৃষি অঞ্চল। এখানে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপন্য উৎপাদন করে চলেছে স্থানীয় কৃষকরা। ফলে গড়ে উঠেছে বড় বড় ফল-ফলাদি ও শাকসবজির আড়ৎ।এছাড়া আড়ৎগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশী-বিদেশী কৃষিপন্য ও ফল-ফলাদি। আবার কেউ কেউ বাহির থেকে বিভিন্ন পন্য আমদানী করার সময় হরেকরকম দেশী-বিদেশী বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে এবং নিজেদের গোপন আড়তে গোপন সংরক্ষিত এলাকায় ওইসকল বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগে পাকানো ফল-ফলাদি ও শাকসবজি বাজারজাত করে চলেছে। বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যে পাকানো ফল-ফলাদি দেখতে সুন্দর হলেও খেতে কোন স্বাদ নেই। বিষাক্ত কেমিক্যালে পাকানো বিষে ভরা রসালো ফল-ফলাদি খেয়ে এ অঞ্চলের শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।


সূত্রগুলো আরো জানায়, এছাড়া ফল-ফলাদিতে পোকামাকড় ও রোগ বালাই দমনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কীটনাশক মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হলেও ওইসব অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার স্বার্থে বিষাক্ত দ্রব্যের ব্যবহার আরো বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ক্রেতারা ওইসব পন্য কিনে প্রতারিত, পুষ্টিমান যাচাইসহ স্থানীয় প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নাগরিক ও সুশীল সমাজ। ইংরেজী নববর্ষের শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তন, অদৃশ্য ভাইরাস,করোনার প্রভাবসহ দিনে গরম রাতে শীত পড়ায় এ অঞ্চলের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সু-স্বাধু ফল-ফলাদি খেতে অনেকটাই অনীহা দেখাচ্ছে।
স্থানীয় পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, জেলা ৫টি উপজেলায় ফল-ফলাদিতে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইড এক ধরনের কেমিক্যাল। এটি পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে ইথিলিন গ্যাস আর চুন তৈরী করে। আবার ইথিলিন গ্যাসকে পলিমারে বিক্রিয়া করা হলে পলিথিন তৈরী করা যায়। এক কথায় এ দ্রব্যটি পলিথিন তৈরীর কাঁচামাল। ফরমালিন এক ধরনের প্রিজারভেটিভ। এটি ফরমাল ডিহাইডের সাথে পানি মিশ্রনে এলডিহাইড তৈরী হয়। এটাকে মিথানলের সংগে জারন করলে তৈরী হয় বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। সেই মিথানলও একটি বিষাক্ত কেমিক্যাল। যা বাজারে ষ্পিরিট নামে কিংবা কাঠের বার্নিস হিসাবে পরিচিত। এসকল বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে রসালো আম, জাম, কাঠাল, কমলা, আপেল, আনার, মাল্টা ও কলাসহ বিভিন্ন ফল-ফলাদি পাকানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  • 1
    Share
  • 1
    Share