351 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলে গৃহবধু পারাপারে গরীবের বাহন রিক্সা এখন আর নেই

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মশিউর রহমান সেলিমঃ কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের সবক’টি উপজেলা জুড়ে একটা সময় নানাহ গানের সুরে সুরে বিয়ে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে গৃহবধু পারাপারে একমাত্র গরীবের বাহন ছিলো গ্রামবাংলার চিরায়ত জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী রিক্সা। কিন্তু চলমান প্রযুক্তির ঢামাঢোলে আজ সবই যেনো হারিয়ে গেছে। কালের আর্বত্তে শুধু অতীত স্মৃতি হয়ে কল্পনায় ভাসছে সেই মধুর দিনগুলো।
স্থানীয় একধিক সূত্র জানায়, কালের আর্বত্তে গরীবের বাহন রিক্সা দিয়ে বিয়ে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে গৃহবধু পারাপারের একমাত্র বাহন। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে এখন আর রিক্সায় গৃহবধু পারাপারে চোখে পড়ে না। ওইসময় দেখা যেতো বিয়ে কিংবা যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে গৃহবধুকে রিক্সা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার অপরূপ দৃশ্য এবং সে সাথে রিক্সাওয়ালার কণ্ঠে নানাহ গান শুনা যেতো। রাস্তা দিয়ে গৃহবধু আসছে শুনে ঘর থেকে বের হয়ে আসতো এ অঞ্চলের ছেলে-মেয়েরা। এখন আর সে দৃশ্য না বললেই চলে। রিক্সার সামনে- পিছনে গৃহবধুর ৬/৭ জন স্বজন আর মাঝখানে রিক্সাওয়ালার মধুর কণ্ঠে গান গেয়ে ছুটে চলতো নিজ গন্তব্যের স্থলে। এ ভাবেই বহন করা হতো বিয়ে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে গৃহবধুকে রিক্সা নামক গরীবের বাহন দিয়েই।
সূত্রগুলো আরও জানায়, জেলা দক্ষিনাঞ্চলের বানিজ্যিক নগরীখ্যাত লাকসামসহ সবকটি উপজেলা জুড়ে গৃহবধু পারাপারে রিক্সাই ছিলো একমাত্র বাহন। কিন্তু এখন আর তাদের ওই পেশার অস্তিত্ব বলতে কিছুই নেই। তবে রিক্সা বাহন পেশার সাথে জড়িতদের শরিয়ত বিধি বিধান মেনে চলায় এ অঞ্চলের মানুষ তাদেরকে ভালো বাসতো। চলমান সময়ে রিক্সার প্রচলন থাকলেও গৃহবধু পারাপারে এখন আর নেই। তবে আবার অভাবের তাড়োনায় কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় এবং কেউ কেউ চলে গেছেন বিভিন্ন শহরে।
স্থানীয় বয়ঃবৃদ্ধদের একাধিক সূত্র জানায়, এ পেশার সাথে জড়িত রিক্সাওয়ালা পরিবারগুলো ছিলো অনেকেটাই অভাবী পরিবার। বিয়ের মৌসুম আসলেই বিয়ে অনুষ্ঠানে বর-কনে বহন করতে গরীবের রিক্সা ছাড়া বিকল্প কোনো বাহন ছিল না। মাসে ৮/১০টি বিয়ের ভাড়া দিয়েই চলতো তাদের সংসার। অথচ আজ সব কিছু যেনো অতীত। নতুন প্রজন্মের কাছে গৃহবধু পারাপারে রিক্সার গল্পটা যেন একটা ইতিহাস। ১৯৯০ সালের পূর্বে এ বাহন রিক্সা ভাড়া প্রতিটা ৫’শত টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত গন্তব্য এলাকা বুঝে দর হাঁকাতো তারা। আনন্দ-উল্লাস করে এলাকার মানুষদের কেউ কেউ ওইসময় রিক্সা ভাড়া নিয়ে থাকতো। ৯০ দশকের পর প্রযুক্তিযুগে দেশ অনেকটাই এগিয়ে গেলেও গ্রাম-বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য গৃহবধু পারাপারে গরীবের বাহন রিক্সার কদর এখন আর নেই।