552 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলে তাপদাহে দিনে ভ্যাপসা গরম রাতে শীতে ভাইরাস রোগে আক্রান্ত মানুষ

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলে তাপদাহে দিনে ভ্যাপসা গরম রাতে শীতে ভাইরাস রোগে আক্রান্ত মানুষ

  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    30
    Shares

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসামঃ কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, বরুড়া, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সকল পেশার মানুষ গত কয়েকদিনের গ্রীষ্মের তাপদাহ ও দিনে ভ্যাপসা গরম আর রাতে শীত পড়ায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছে।

চলমান মহামারী করোনার প্রভাবে মানুষ আতংকের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাবতো আছেই। প্রচন্ড খরা ও ভ্যাপসা গরমে মানুষ শূন্য হয়ে পড়েছে এলাকার অলি-গলি, হাটবাজার ও রাস্তাঘাট।

গত ১ সপ্তাহে তীব্র খরা, গরমের তাপদাহে ৫টি উপজেলার জনজীবন,গ্রামীনকুল বিপর্যস্ত ও দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এরফলে ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধসহ সকল পেশার মানুষ। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় ধুলা-বালুতে বাতাসে বিষাক্ত শিসা ছড়াচ্ছে এবং পুড়ে যাচ্ছে গাছপালা ও আবাদী জমির ফসল।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, টানা ফাল্গুন ও চৈত্র মাস জুড়ে গরমের তীব্রতা এ অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে
পড়েছে। শত শত শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধ আক্রান্ত হচ্ছে গরমজনিত বিভিন্ন ভাইরাস রোগে।

গত কয়েক সপ্তাহে জেলা দক্ষিনাঞ্চলের প্রায় ৩ সহস্রাধিক বিভিন্ন ভাইরাস রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন সরকারী হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে।

ঔষধ দোকানগুলোতে বিভিন্ন ভাইরাস রোগীদের প্রচুর ভীড় বাড়ছে। চলমান করোনাকালে এ অঞ্চলে প্রচন্ড তাপদাহ ও গরমে বাকরুদ্দ হয়ে পড়েছে মানুষ। দিনে প্রচন্ড গরম আর রাতে ঠান্ডা।

এ অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষ, শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধদের পোহাতে হচ্ছে বাড়তি দূর্ভোগ। এছাড়া বিভিন্ন ভাইরাস রোগ মারাত্মক
ভাবে দেখা দিয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় এ অঞ্চলের তাপমাত্রা মৌসুমের সর্বচ্চো বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকায় কিছুটা স্বস্থিও চৈতালী বাতাস থাকলেও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ৭০ ভাগ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না।

খাল-বিল, পুকুর, নদী এখন পানি শূন্য। মানুষ বাজার থেকে বিশুদ্ধ পানির নামে বিভিন্ন ব্রান্ডের বোতল ও জার কিনে প্রতারিত
হচ্ছেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, স্থানীয় আবহাওয়া অফিস টানা ভ্যাপসা গরমের আগামবার্তা ঘোষনা দেয়ায় ইরি-বোরো ভরা মৌসুমের শেষ মূহূর্তে প্রাকৃতিক দূর্যোগের আশংকা করলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বর্ষা মৌসুম অনেক দেরী হচ্ছে। ফলে চলমান ইরি-বোরোসহ শাকসবজি ও মৎস্য চাষে বর্তমান পানি সংকটে বড় ধরনের দূর্ভোগে পড়েছে কৃষকরা।করোনাকালে এবং এ গরমের তাপদাহে স্থানীয় খেটে খাওয়া, দিনমুজুর ও ছিন্নমূল মানুষের জীবনযাত্রার উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। গত কয়েক মাসে শীত পড়া শত্বেও টানা প্রচন্ড খরতাপ ও ভ্যাপসা গরমে এলাকায় গরমজনিত বিভিন্ন ভাইরাস রোগ-ব্যাধি বেড়ে গেছে। এসব রোগের আক্রান্ত রোগীরা প্রতিনিয়ত ভীড় করছে ঔষধের দোকানগুলোতে।

এসব ভাইরাস রোগে শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। ২/৪ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে রোগ-ব্যাধি আরো বাড়বে।

স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানায়, চলমান মহামারী করোনাকালে এবং গত কয়েকদিনের টানা গরমে ভাইরাসজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাপদাহ ও দিনে ভ্যাপসা গরমে আর রাতে শীত পড়ায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্ম ও এ্যাজমাসহ বিভিন্ন ভাইরাস রোগীর সংখ্যাই বেশি।

পরিস্কার – পরিচ্ছন্নতা, প্রচুর ঠান্ডা পানি, ঠান্ডাজনিত খাবার, স্যালাইন, শরবত, আখের রস, জুস, আইস ও মৌসুমী ফল- ফলাদি খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।এ তাপদাহ কেবলমাত্র জনজীবনে অস্থিরতা আনছে না বরং মানবদেহের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তার উপর দিনে রাতে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের বিদ্যুৎ ভেলকিবাজিতো আছেই।

এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্যদপ্তরসহ একাধিক দপ্তর কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  • 30
    Shares