235 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলে বিলুপ্তির পথে চিরচেনা বাবুই পাখির বাসা

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলে বিলুপ্তির পথে চিরচেনা বাবুই পাখির বাসা

  • 33
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    33
    Shares

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চল লাকসাম, বরুড়া, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে
গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য চিরচেনা সুরকার বাবুই পাখির বাসা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ শ্রেণির পাখি শিকারীর দূরাত্ব, তালগাছ সংকটসহ পশু-পাখি সংরক্ষণে কোন বাস্তব পরিকল্পনা নেই কারোই। ফলে ওইসব চিরচেনা প্রাণিগুলো এ অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

জেলা দক্ষিনাঞ্চলের একাধিক সূত্র জানায়, একটা সময় শীতকালের শুরুতে উপজেলাগুলোর বিভিন্ন মাঠ-প্রান্তরে এবং বাড়ির আঙ্গিনায় তালগাছে, নারিকেল গাছ ও বাঁশঝাড়সহ নানান গাছ দেখলেই চোখে পড়তো বাবুই পাখির নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন সারি সারি ঝুলন্ত বাসা। গাছের পাতায় পাতায় চিকন ঢালে ঢালে দৃষ্টি আকর্ষন করতো শত শত বাসা। পাতা কিংবা ডাল থেকে কিছুটা নীচে ঝুলে রেখেই তৈরি করতো বাবুই পাখিরা নিপুন হাতে গড়া বিশেষ উপকরণ দিয়ে ওইসব বাসা। বাবুই নামটি শুনতে যেমন সুন্দর তেমনি তাঁর সুন্দও শরীরের গঠন ও তাঁর কিচিরমিচির শুরের শব্দ এবং তাদেও নির্মাণ শৈল্পিক কারুকাজে
গড়া বাসস্থান।

সূত্রগুলো আরো জানায়, এ অঞ্চলে এখন আর বড় বড় তাল গাছ কিংবা অন্যান্য গাছও চোখে পড়ে না। ফলে চিরচেনা বাবুই পাখির সামরাজ্য হারিয়ে গেছে। দেখতে ছোট আকার হলেও আরাম প্রিয় এবং পরভোগী প্রকৃতির চড়–ই পাখির বসবাস পরের বাসা বাড়িতে। বিভিন্ন চিলে কোঠায় হলেও বিভিন্ন গাছে বসবাস বাবুই পাখির বাসা যেনো একে অপরের সংঙ্গে অনেক মিল।

এছাড়া বাবুই আর চড়–ই পাখিই নয় ঋতু পরিবর্তন ও কালের আর্বত্তে হারিয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চল থেকে নানাহ প্রজাতির পাখি। গ্রামবাংলা থেকে বিলুপ্তি হচ্ছে মিষ্টি-মধুর কলকাকলি আর প্রকৃতির হাজারো মনোরম দৃশ্য। শতাব্দির পর শতাব্দি কবি সাহিত্যিকরা প্রকৃতির নানান রূপ নিয়ে অনেক কিছু লিখেছেন। যেমন গাছের সীমানায় বাবুই পাখির বাসা, বাবুই পাখির সাজানো বাসা ময়না পাখির কথাগুলো, নিঝুম রাতে বাবুই পাখির গুঞ্জনে এবং গাছের আঁশে তৈরি বাসা বাবুই পাখির সংসার সহ নানা ধরনের গানতো আছেই। বিগত ফেলে আসা দিনগুলোর সঙ্গে বর্তমান নতুন প্রজন্মেও গড়মিল ব্যাপক। অতীতের এই দৃষ্টিনন্দন মনোরম দৃশগুলো কল্পনা মতো মনে হচ্ছে। এ অঞ্চলের বুকে প্রকৃতি এক অপরূপ সুন্দর মনোরম দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসাগুলো আজ যেনো সকলের কাছে অতীত।

স্থানীয় পরিবেশবিদদের একাধিক সূত্র জানায়, এ অঞ্চল থেকে ওইসব মনোরম দৃশ্য হারিয়ে যাওয়ার আগেই সরকারি ভাবে তালগাছসহ বিভিন্ন গাছের সংরক্ষন প্রয়োজন। স্থানীয় বন বিভাগ সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর কর্মকর্তাদের দেউলিয়াত্বে বাবুই পাখির বাসা
তৈরিতে তাদের তালগাছ পছন্দের হলেও তা আজ সংরক্ষন করা যেনো কারোই মাথা ব্যাথা নেই। বাবুই পাখির তালগাছ পছন্দের সূত্র ধরে খুঁজে পাওয়া যায় নানান তথ্য। যেমন বাবুই পাখির গুনের পাশাপাশি থাকতো অনেক ভয়, বিভিন্ন জন্তু-জানোয়ার, পোকা-মাকড়, সাপসহ নানাহ ক্ষতিকর জীবের হাত থেকে নিজেদের জীবন বাঁচাতে তাঁরা তাল গাছের পাতার কাঁটাকেই ঢাল হিসাবে বেঁছে নিয়ে ঝুলন্ত বাসা তৈরি করতো। যা বাতাসে দুলতে দুলতে বিভিন্ন

ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতো। তাছাড়া এ অঞ্চলের প্রকৃতিতে মনোরম দৃশ্যটি কেবল তাল গাছেই শোভা পায়। এমনি ভাবে গভীর বুদ্ধিমত্তায় গড়ে তোলে বাবুই পাখির বাসা। সে কারনেই প্রকৃতিতে তাল গাছ ও বাবুই পাখির বাসা পরিবেশ সংরক্ষণে খুবই প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলা বন বিভাগ ও পরিবেশ দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তর কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  • 33
    Shares
  • 33
    Shares