296 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলে ৪টি উপজেলা এখনো অপরিকল্পিত গ্রাম

  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    12
    Shares

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম ঃ বর্তমান সরকার গ্রাম হবে শহর এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে দেশব্যাপী কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। অথচ চলমান অর্থ বছরে লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জও নবগঠিত লালমাই উপজেলায় শত শত কোটি টাকা বরাদ্দে নানামুখি উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করলেও কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা এখনো অপরিকল্পিত গ্রাম হিসাবে গড়ে উঠছে।
এলাকার সর্বত্র দালান-কোঠা নির্মাণে নেই ন্যুনতম উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনার ছোঁয়া। যে যার মতো করে সরকারী নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থাপনা নিমার্ণ করলেও লাকসাম পৌরসভায় ৩’শ কোটি টাকার উন্নয়ন ও নাঙ্গলকোট পৌরসভায় শত কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড চললেও লাকসাম পৌরশহর স্মার্ট সিটির দিকে এগুচ্ছে। এছাড়া সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ৪টি উপজেলা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অনেকটা ঠুটো জগন্নাথ। ফলে ঘিঞ্জি ঘিঞ্জি এলাকায় পরিণত হচ্ছে ৪টি উপজেলা। এতে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৭ লক্ষাধিক মানুষ। বিশেষ করে ইমারত নির্মাণ আইনও বিধিমালা লংঘন করে যত্রতত্র ভবন নির্মাণ করার অনেক সময় প্রতিবেশীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভবন নির্মানের সময় নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে না দেয়া এবং ছাদ, কানিশ ও সানশেট বড় করে তৈরী করায় এলাকায় যানজট ও জনচলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। শহর এলাকায় যত্রতত্রে গড়ে ওঠছে বহুতল ভবন কিংবা স্থায়ী অবকাঠামো। অনেকস্থানে দেখা যায়, দালান তৈরির ইট, বালু, সিমেন্ট, রডসহ আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র সদর রাস্তায় লোড-আনলোড করে শ্রমিকের মাথায় তুলে সংশ্লিষ্ট স্থানে নেয়া হচ্ছে। ভ্যান গাড়ি কিংবা ছোটখাটো পিকআপ ভ্যান ওই স্থানে গড়ে ওঠা দালান কোঠা কিংবা ঘর-বাড়িতে অগ্নিকান্ড, দৈব-দূর্বিপাকে দমকল বাহিনীর গাড়ি কিংবা অসুস্থ রোগীকে জরুরী হাসপাতালে নেয়ার জন্য এম্ব্যুলেন্সও প্রবেশ করতে পারে না।
প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনায় সর্বাধিক এই ইমারত ভবন নির্মানে সর্বচ্চো ৬০ ভাগ পানি, ৪৪ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বিদ্যমান ভবনগুলো ৭.৫ রিখটার স্কেল পর্যন্ত ভূমিকম্প সহনীয় বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে স্বীকৃতি লাভ করলেও জেলা দক্ষিনাঞ্চলে উপজেলাগুলোর এলাকার অনেক বিল্ডিং, ভবন ও বিপনী বিতান ওইসবের ধারে কাছেও নেই। এছাড়া এ অঞ্চলের তৈরী হওয়া ইমারত ভবনগুলো এইচভ্যাক সার্কুলার, রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং, বিশুদ্ধ বায়ু প্রবাহ নিশ্চিতকরন, আন্ডার ভেইকেল সারভেইলেন্স স্থাপন, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, এক্সেস কন্ট্রোল সিষ্টেম নেই। ইমারত নির্মান আইন ১৯৫২-তে ক্ষমতা বলে বর্তমান সরকার ১৯৯৬ সালে ইমারত নির্মান বিধিমালা সংশোধন করে পূর্নাঙ্গ আইনে রূপ দিলেও ওই বিধিমালায় ইমারত নির্মাণ অনুমোদন, সরকারী অনুমোদন ফি, নকশা, সড়কের দূরত্ব, প্রনয়নকারী যোগ্যতা, অনুমোদনের জন্য আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে নিস্পতিসহ ইমারত কিংবা ভবন নির্মাণে কী ভাবে হবে ওই আইনের ৩ (ক) ধারায় উদ্দেশ্যে ব্যাতীত অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
এ দিকে লাকসাম, নাঙ্গলকোট পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজস্ব ম্যাজিষ্ট্রেট না থাকায় তারা ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আরও জানায়, ১৯২০ সালে সওজ এর সড়ক অধিগ্রহণকালে তৈরি নকশা অনুযায়ী নগরীতে অভিযান চালালে গত ১০ বছরের মধ্যে নির্মিত অন্তত প্রায় শতাধিক বহুতল ভবন এবং দীর্ঘদিনের পুরনো আরো সহস্রাধিক স্থাপনার এক ফুট থেকে ৮ ফুট নিয়মবর্হিভুত অংশ ভেঙ্গে ফেলার একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও রহস্যজনক কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

  • 12
    Shares
  • 12
    Shares