96 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত পিরোজপুর জেলা       

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
মোঃ জাবেদ হোসেনঃ  নারী ও পুরুষের যৌবন এর আগমনী হলো বয়সন্ধি। এই সময়টি মানব শরীরের জন্য অন্যতম সময়। এই সময়ে কিশোর-কিশোরীদের খাবার, কৈশোরের ঝুকিঁ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয়, শরীরের পরিবর্তন, ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাসহ বাল্যবিবাহ কুফল সম্পর্কে জানতে হয় এবং স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে হয়। এই কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করণে দিনরাত কাজ করে চলেছেন পিরোজপুর জেলা। পিরোজপুর জেলার সিভিল সার্জন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং সামাজিক সংগঠন ইয়েস বিডি ব্যপক কাজ করে চলেছেন কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত কারনে।
গত ১ জুন সরজমিনে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করতে পিরোজপুর জেলায় গিয়ে দেখা যায়, গোটা জেলায় কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা রয়েছে ১৬টি। পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ১টি এবং মা ও শিশু কল্যান কেন্দে ১টি, সদর ও উপজেলার মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র গুলোতে রয়েছে ২টি করে। স্কুল হেলথ কর্মসূচীর মাধ্যমে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে করানো হচ্ছে বিশেষ ক্লাস এবং দেওয়া হচ্ছে পরামর্শ ও সেবা।
কমিউনিটি স্কোর কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সংগঠন ইয়েসবিডি তুলে ধরছেন সমস্যা, সমাধান ও সম্ভাবনা। আর পুরো সামগ্রিক বিষয় যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার নিয়ে বিভিন্ন ভাবে কাজ করছেন জেলা সিভিল সার্জন। এ যেন এক অনন্য জেলা পিরোজপুর মনে করিয়ে দেয় সেই প্রবাদ বাক্যটি- সবে মিলে করি কাজ, হারি-জিতি নাহি লাজ। তবে কিছু সমস্যা তো থেকেই যায়। কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলোতে কিশোরীদের উপস্থিতি থাকলেও কিশোরদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। করোনা কালিন সময়ে কিশোরীদের উপস্থিতি কমেছে অনেকটাই।
কৈশোর বান্ধব এই স্বাস্থ্য সেবা সকল কিশোর কিশোরীদের নিশ্চিত করণে পিরোজপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা চাই সকল কিশোর কিশোরীরা জেনো তাদের কৈশোর কালিন স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করে এবং বয়ঃসন্ধিকাল কি তা সম্পর্কে জানে তাদের প্রয়োজনিয়তা সম্পর্কে জানে তবে কিশোরদের তুলনায় কিশোরদের উপস্থিতি নেই। আমরা কিশোরদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্কুল স্বাস্থ্য কমিটির মাধ্যমে আমাদের মেডিকেল অফিসারা স্কুল গুলোতে গিয়ে আমাদের কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্য সেবায় ছেলে এবং মেয়েদের আসার জন্য প্রয়োজনিয় প্রচারণা চালাবো তবে কোভিড-১৯ এর কারনে আমরা সেই কর্মসূচীটি চালাতে পারছি না। তবে আমাদের দেশ স্বাভাবিক হলে স্কুল কলেজ খুলে দিলে কিশোরদেরও আমরা এই সেবা নিশ্চিত করতে পারবো।
পিরোজপুর সিভিল সার্জানের এস আর এইচ আর কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুন আক্তার চৌধুরী লানিয়া বলেন, পিরোজপুর সদরে বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেক ভালো। কোভিড-১৯ এর মহামারীর কারনে রোগি কিছু কম আসলেও বর্তমানে নিয়মিত ভাবে সেবা নিতে আসছেন নারী ও শিশুরা । যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার নিশ্চিতে আমরা ব্যপক ভাবে কাজ করছি। বয়ঃসন্ধিকালিন স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি।
আমাদের পিরোজপুর সদর হাসপাতালে একটি কৈশোর বান্ধব কর্ণার রয়েছে গর্ভবতী মায়েদের জন্য রয়েছে আলাদা কর্ণার। সন্তান জন্মদানের পরবর্তী অবস্থায় সকল ধরণের সেবা এবং পরামর্শ দিচ্ছি আমরা। মাতৃমৃত্যুর হার আমরা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। দীর্ঘদিন আমাদের সদর হাসপাতালে কোন মাতৃমৃত্যু হয়নি। টেকসই উন্নায়নের লক্ষমাত্রা অর্জনে আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার শূণতে নামিয়ে আনতে কাজ করে চলেছি। সকলের সহযোগিতায় আমরা এই চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ন করবো ইনশাআল্লাহ।
পিরোজপুর জেলার সিভিল সার্জান ডাঃ মোঃ হাসানাত ইউসুফ জাকি বলেন, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সব জায়গাতেই আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা প্রজনন সেবা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে গর্ভবতী মাদের প্রসবপূর্ব চেকআপ, পুষ্টিকর খাবার চার্ট, সহ নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের নতুন ২৫০ শয্যাসহ অত্যাধনিক মানসম্পূর্ন নতুন ভবনের কাজ চলছে।  হাসপাতালের নতুন ভবনটি হলে আমরা আরো ভালো সেবা সাধারণ মানুষকে দিতে পারবো। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই এই আর কোন সমস্যা থাকবে না বলে জানান তিনি