1036 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ক্রিকেট সরঞ্জাম সংগ্রহ করে জাদুঘর গড়লেন বরিশালের জসিম উদ্দিন

  • 498
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    498
    Shares

দেলোয়ার উদ্দিনঃ   দেশসেরা ক্রিকেট স্মারক সংগ্রাহক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন! এমন ক্রিকেট সমর্থক পাওয়া দুষ্কর। নব্বইয়ের দশক থেকে ক্রিকেটের প্রতি নিজের সীমাহীন ভালবাসা থেকে ক্রিকেট স্মারক সংগ্রহের নেশায় মেতে আছেন। জসিমের সংগ্রহশালা পরিধি এখন অনেক বড়।

যিনি বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাথে না থেকেও সারাক্ষণ ছায়ার মতো জড়িয়ে আছেন সবার সাথে।শচিন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারা,ওয়াসিম আকরাম,মেহরাব হোসেন অপি,প্রয়াত মানজারুল ইসলাম রানা,মোহাম্মদ আশরাফুলের প্রথম সেঞ্চুরি করা ব্যাট! কি নেই তাঁর সংগ্রহে। ওয়াসিম আকরাম তো যতবার বাংলাদেশে এসেছেন ঠিক ততবারই তার সাথে সাক্ষাৎ করে গিয়েছেন। কারনটা নিয়ে নিশ্চই কৌতুহল হচ্ছে? ওয়াসিম আকরামের ভক্ত ছিলেন তখন জসিম, স্টেডিয়ামে বসে যখন ওয়াসিম আকরাম প্লেকার্ড নিয়ে খেলা দেখছিলেন ঠিক তার পাশেই ছিল ভিআইপি বক্স। তাই মাঠ থেকে যখন ড্রেসিং রুমের দিকে যাচ্ছিলেন পাশে থাকা মইন খান ওয়াসিম আকরামকে দেখিয়ে দিয়েছিল যে তোমার নামের প্লেকার্ড নিয়ে তোমার বাংলাদেশী ভক্ত দাঁড়িয়ে আছেন! ঠিক তখনই ওয়াসিম আকরাম এগিয়ে এসে প্লেকার্ড এর ভিতর অটোগ্রাফ দিয়েছিলেন ও কৌশল বিনিময় করেছেন জসিমের সাথে।

কি নেই জসিমের ক্রিকেট জাদুঘরে? আজ আপনাদের শুনাবো দেশসেরা ক্রিকেট স্মারক সংগ্রাহক জসিম উদ্দিনের  তিল তিল করে আবেগ ভালবাসায় গড়ে তোলা ক্রিকেট স্মারক সমুদ্রের গল্প।

শুরুটা ১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় ২৩ বছর ধরে বিশ্বের বড় বড় প্রায় সব প্লেয়ারদের অটোগ্রাফ সম্বলিত ৫ হাজার জার্সি, ১হাজার ব্যাট,খেলায় ব্যবহৃত ৫ শত বল, ৫শত স্টাম্প,৫ শত ক্যাপ, ২ হাজার স্পোর্টস ম্যাগাজিন,নামি দামী ১শত খেলোয়াড়দের গ্লাভস যাদের মধ্যে রয়েছেন …  শচিন টেন্ডুলকার, এ্যাডাম গিল ক্রিস্ট,গেইল, মহিন্দ্র সিং ধোনি, স্টিভেন স্মিথ,  সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ, অলক কাপালি তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

আরো আছে ২০০৭ ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব একাদশ বনাম এশিয়া একাদশ এর সকল খেলোয়াড়দের অটোগ্রাফ সহ একটি ব্যাট। ক্রিকেট দুনিয়ার এতবড় স্মারক সংগ্রাহক ইচ্ছে করলে এই মহা মুল্যবান সম্পদ বিক্রি করে লক্ষ কোটি টাকা উপার্জন করতে পারতেন। অর্থের অভাবে অনেক কষ্ট করেছেন কিন্ত কিছুতেই সন্তানের মতো স্মারক নিয়ে ব্যবসা করেননি।  তিনি আর কেউ নন তিনি হচ্ছেন মোঃ জসিম উদ্দিন। সবার কাছে পরিচিত দেশসেরা ক্রিকেট স্মারক সংগ্রাহক জসিম নামে।

সময়টা ছিল ১৯৯৮। যিনি বরিশাল থেকে মাত্র ২০টাকা নিয়ে লঞ্চে চড়ে এসে গুলিস্তান থেকে ৫ টাকার প্লেকার্ড কিনে স্টেডিয়ামে ঢুকে মিনি বিশ্বকাপ উপভোগ করেছিল।সেই খেলায় পাকিস্তানের আম্পায়ার নাদিম গৌরিকে অনুরোধ করে মিনি বিশ্বকাপ এর স্টাম্প সংগ্রহ করেন। সেই থেকে তার সংগ্রহের সূচনা শুরু। তিনি নিজেও ভাবতে পারেননি পৃথিবীর সেরা ক্রিকেট সরঞ্জাম সংগ্রাহকদের একজন হবেন।তাকে নতুন করে পরিচয় করানোর প্রয়োজন নেই।তাকে চিনেন না এমন কেউ নেই, যেমন চিনেন বিশ্বের বড় বড় নামি দামি ক্রিকেট প্লেয়ার, আম্পায়ার ঠিক তেমন  চিনেন আমাদের দেশের ক্রিকেট বোর্ডের  কর্তা-ব্যক্তি সহ সব প্লেয়াররা। ক্রিকেট এর প্রতি কতটা নিঃস্বার্থ ভালবাসা থাকলে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এতবড় সংগ্রহশালা করতে পারে বুঝার আর বাকি রইলো না।আগামী প্রজন্ম হয়তো এই এক জসিমের কল্যানে দেখতে পাবে কিংবদন্তিদের স্মৃতিচিহ্ন। জসিমের একান্ত সাক্ষাৎকারটি গ্রহন করেছেন আমাদের প্রতিনিধি দেলোয়ার উদ্দিন-

পথিক নিউজ: কেমন আছেন?

জসিম: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

পথিক নিউজ: আপনার ব্যাপারে কিছু বলুন?

জসিম: আমি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, গ্রাম নন্দি পাড়া, উপজেলা, বাকেরগঞ্জ,জেলা বরিশাল।

পথিক নিউজ:  ক্রিকেটের প্রতি কখন টান অনুভব করলেন?

জসিম: মাত্র আটমাস বয়সে মাকে হারিয়েছি, পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারনে এইচএসসি তে ভর্তি হওয়ার পর আরে এগুতে পারিনি। ছোটকাল থেকেই ক্রিকেট এর প্রতি টান অনুভব করতে থাকি বলতে গেলে ক্রিকেটের প্রেমে পড়ে যায়।প্রথম দিকে সাধারণ বীমা ও কলাবাগানে রেজিষ্ট্রেশন করেছিলাম কিন্ত পারিবারিক আর্থিক অস্বচ্ছলতার জন্য আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

পথিক নিউজ:  আন্তর্জাতিক প্লেয়ার দের সংস্পর্শে কখন যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল?

জসিম: শুরুটা হয়েছিল আম্পায়ারদের সাহায্য নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে পাকিস্তান দলের ওয়াসিম আকরাম এর সাথে হোটেল লবিতে সাক্ষাৎ ও একসাথে ছবি উঠানো। পরবর্তীতে ওয়াসিম আকরাম আবার বাংলাদেশে আসলে তার কাছে অটোগ্রাফ সহ জার্সি আবদার করি, তিনিও আমাকে হতাশ করেনি। তৎকালীন সময়ে আমাকে সাহায্য করেন আম্পায়ার ডেভিড শেফার্ড ও আইসিসির সিকিউরিটি অফিসার। তারপর তো আপনারা দেখছেন।

পথিক নিউজ: শুনেছি অনেক কম টাকা রোজগার করেও  নাকি ক্রিকেট সরঞ্জাম সংগ্রহের নেশায় না খেয়ে স্টেডিয়ামে বসে খেলা উপভোগ করেছেন?

জসিম: জ্বি এমনটা অনেকবার হয়েছে না খেয়ে থেকেছি কিন্ত আত্মসম্মান এর ভয়ে কারো কাছ থেকে  সাহায্যের নেওয়ার জন্য হাত বাড়াই নি।

পথিক নিউজ: স্মরণীয় মূহুর্ত কোনটি?

জসিম: নিজের খরচায় ভারত পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলা উপভোগ করেছি। একবার বাংলাদেশ পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ দলের খেলা দেখতে যাওয়ার সময় টাকার অভাবে পড়ে যায় তখন বাংলাদেশ দলের অলক কাপালি সম্পুর্ন নিজের খরচায় পাকিস্তান সফরে নিয়ে যায়।

পথিক নিউজ:  কোনো আক্ষেপ আছে কি অথবা ভবিষ্যৎ স্বপ্ন জানতে চাই?

জসিম: আক্ষেপ তো একটা আছেই আর সেটি হচ্ছে এই মুল্যবান স্মারক নিয়ে যতদিন পর্যন্ত একটি মিউজিয়াম না করতে পারবো ততদিন আমার আক্ষেপ থেকেই যাবে। স্বপ্ন অন্তত আগামী প্রজন্মের কথা চিন্তা করে কাউকে না এগিয়ে আসা উচিত।

পথিক নিউজ: প্রিয় ও অপ্রিয় মুহুর্ত বলুন?

জসিম: একবার ঢাকার বাহির থেকে ততকালীন প্রয়াত মাঞ্জারুল ইসলাম রানার সাথে তার গাড়িতে ঢাকায় ফিরছিলাম তখন আমি রানা ভাইয়ের উপর বমি করেছিলাম আমি খুব ভয়ে ছিলাম কিন্ত তিনি উল্টো আমাকে টিস্যু ও পানি দিয়ে সাহায্য করেছিল যা কখনো ভুলতে পারিনি।খারাপ লাগে বাংলাদেশ দল হেরে যায় আর তখন সোস্যাল মিডিয়াতে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে নিয়ে ট্রল করে তখন খুব কলিজায় লাগে।সবাইকে অনুরোধ করবো জয়ের দিন সাথে থাকতে পারলে, পরাজয়ের দিনেও যে পাশে থেকে সাপোর্ট জোগায়।

পথিক নিউজ:  প্রিয় খেলোয়াড়দের নাম শুনতে চাই?

জসিম: এখানে সবাই আমার প্রিয় খেলোয়াড়। আলাদা করে কারো নাম বলে কাউকে ছোট করতে চাইনা।এটি আমার পরিবার তবে কিছু মহান খেলোয়াড়দের নাম আমার হৃদয়ের গহিন জায়গা করে রেখেছেন।তাদের জন্য সব সময় দোয়া ও শুভ কামনা।

পথিক নিউজ: মুল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।

জসিম:  আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  • 498
    Shares