187 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলহত্যা দিবসের স্মরণসভায় বক্তৃতা  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

শোকাবহ জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কারও দয়ায় নয়, জনগণের জন্য কাজের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ টিকে আছে। জনগণের ভোট ও সমর্থন নিয়েই দল চারবার ক্ষমতায় এসেছে। কাজেই কেউ চাইলেই ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারবে না। আমাদের সরানোর জন্য যত বেশি নাড়াচাড়া করবে, আওয়ামী লীগের শিকড় তত বেশি শক্ত হবে। এটাই হল বাস্তব।

সমালোচকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ রোপণ এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এলিট শ্রেণি তৈরি করে ঋণখেলাপি সংস্কৃতি কারা সৃষ্টি করেছিল? দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে তারা দেশকে কী দিতে পেরেছে? এরা কি দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কিছু করেছে? খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ কিংবা মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে পেরেছে। আসলে ক্ষমতায় থেকে এরা সন্ত্রাস, দুর্নীতি, হত্যা, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, যুবসমাজকে বিপথে চালিত, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ধ্বংস করতে পেরেছে। দেশ ও দেশের মানুষকে কিছুই দিতে পারেনি। নিজেরা অর্থশালী, বিত্তশালী হয়েছে, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করেনি, চায়ওনি।

জেল হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্টের পর ৩ নভেম্বরের ঘটনা ঘটল। খুব স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, সব সময় সূর্য ডোবার আগেই কারাগার লকআপ হয়। এরপর কেউ আর প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু সেদিন গভীর রাতে যখন কারাগারে প্রবেশের জন্য ১৫ আগস্টের খুনিরা হাজির হল তখন কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সেখানে বাধা দিয়েছিল। তারা বলেছিল, এভাবে কারাগারে প্রবেশ করা যায় না। সেই সময় অজ্ঞাত স্থান থেকে টেলিফোন যায়, তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হোক। কারণ তারা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা অস্ত্র নিয়ে যাবে। সে কারণে তারা বাধা দিয়েছিল। কিন্তু বলা হল- তারা যেভাবেই যেতে চায়, সেভাবেই যেন প্রবেশ করতে দেয়া হয়। এরপরই খুনিরা কারাগারে চার জাতীয় নেতাকে একটি ঘরে নিয়ে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বেঈমান মোশতাক ও তার সেনাপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় এবং হুকুমে কারাগারের দরজা খুলে খুনিদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়, তারাই হত্যাকাণ্ডটা চালায়। শুধু পারিবারিক হত্যাকাণ্ড নয়, দেশ ও জাতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতেই ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা দেখেছি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের খেলা।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসেই বেসরকারি টেলিভিশনকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। এখন একেকজন একেক জায়গা থেকে নানা বচন দিচ্ছে, নানা কথা বলেছে, প্রশ্ন করছে। আবার কারও কারও কথা বাংলাদেশ কি এক দলে চলে যাচ্ছে কি না?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যেটি দেশের মাটি ও মানুষের মধ্যে থেকে জন্ম নিয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের শেকড় অনেক গভীরে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশ উন্নত হয়। দেশ এগিয়ে যায়, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।

 

  • 8
    Shares
  • 8
    Shares