গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের অভ্যন্তরীণ বিষয়: হামাস ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘোষণা

লেখক: অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে
গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের অভ্যন্তরীণ বিষয়: হামাস ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হামাস ও এর মিত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত হবে “সম্পূর্ণরূপে একটি অভ্যন্তরীণ ফিলিস্তিনি বিষয়।” তারা জোর দিয়ে বলেছে, গাজার শাসনব্যবস্থা নির্ধারণে কোনো বিদেশি তত্ত্বাবধান বা হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না।

শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (PIJ) এবং পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (PFLP) হামাসের সঙ্গে একত্রে ফিলিস্তিনিদের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে জানায়, তাদের ঐক্যই ইসরায়েলের পরিকল্পিত গণবিস्थাপন প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা যেকোনো বিদেশি অভিভাবকত্বের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করছি এবং জোর দিয়ে বলছি যে গাজা উপত্যকা ও এর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনের ধরন একটি অভ্যন্তরীণ ফিলিস্তিনি বিষয়—যা আমাদের জাতির প্রতিনিধিরাই সরাসরি নির্ধারণ করবেন।”

গোষ্ঠীগুলো আরও জানিয়েছে, তারা একটি “জরুরি সর্বাত্মক জাতীয় বৈঠক” আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পদক্ষেপ, জাতীয় ঐক্য এবং গাজার রাজনৈতিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হবে।

“এই বৈঠক ফিলিস্তিনিদের অবস্থানকে ঐক্যবদ্ধ করবে, একটি সর্বজনীন জাতীয় কৌশল নির্ধারণ করবে এবং অংশীদারিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করবে,” যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়।

তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধান গোষ্ঠী ফাতাহ এই বৈঠকে অংশ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি গাজার জন্য একটি ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যেখানে “বোর্ড অব পিস” (Board of Peace) নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সংস্থা একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন পরিচালনা করবে, যাতে থাকবেন টেকনোক্র্যাটরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন ট্রাম্প নিজে, এবং তার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।

যদিও হামাস ও ইসরায়েল ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে, তবুও এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে—গাজার প্রশাসন ভবিষ্যতে কার হাতে এবং কীভাবে পরিচালিত হবে।

সূত্র: আল জাজিরা / রায়টার্স