60 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

চট্টগ্রাম কাস্টমস: ক্রান্তিকালেও উর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
মোঃ সিরাজুল মনির : করোনার লকডাউনের পর এখনো বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই অবস্থায়ও গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ১০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয় করেছে। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ১৩ হাজার ৭ দশমিক ১৩ কোটি টাকা। কিন্তু একই সময়ে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ১৩ হাজার ১৭ দশমিক ২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় একই সময়ে এ বছর ১০ দশমিক ১৩ কোটি টাকা বেশি সংগ্রহ হয়েছে।

এর কারণ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম বলেন, আগের তুলনায় আমদানি-রপ্তানিতে অনিয়ম অনেক কমে গেছে। আগে এক একটি অনিয়মে বিপুল অর্থ জড়িত থাকতো। যার কারণে বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হতো। কিন্তু এখন অনিয়ম কমে গেছে। যার কারণে সংকটের মধ্যে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব আয় বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, আয় বাড়ার আরো বড় কারণ হলো কাস্টমসের অনিয়মের দণ্ডবিধিতে পরিবর্তন আনা। কারণ আগে অনিয়ম করলেও কম শাস্তি হতো। যার কারণে অসাধু ব্যক্তিরা বার বার অনিয়ম করার সাহস পেতো। কিন্তু এখন অনিয়মের কারণে নূন্যতম দ্বিগুণ জরিমানা করা হয়। যা ক্ষেত্র বিশেষে অনিয়মের মাত্রা হিসেবে সর্বোচ্চ চারগুণ করা হয়। এই কারণে অপরাধের মাত্রা কমে গিয়ে রাজস্ব আয় বাড়ছে।

এদিকে গত অর্থবছরের তুলনায় আয় বাড়লেও চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে আয়ে এখনো ঘাটতি আছে। চলতি অক্টোবরের ২৪ তারিখ পর্যন্ত আয়ের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৯ হাজার ২৮ দশমিক ৭২ কোটি টাকা। কিন্তু ওই দিন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১৭ দশমিক ২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ঘাটতি আছে ৬ হাজার ১১ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা।

এছাড়া শুধু চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৪ দিনেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি আছে ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ৭ কোটি টাকা। অক্টোবরের ২৪ তারিখ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্র ছিল ৪ হাজার ২৯৮ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা। কিন্তু রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ হাজার ৬৪৫ দশমিক ২৯ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে কাস্টমস কমিশনার বলেন, এখনো করোনার কারণে পুরো অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় আছে। তারপরেও আস্তে আস্তে শিল্প কারখানাগুলো খুলতে শুরু করেছে। যার ফলে আমদানিও বাড়ছে। তবে বাণিজ্যিক পণ্যের আমদানি এখনো কম। কারখানার কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে বেশি। আর কাস্টমস যেসব পণ্যে বেশি রাজস্ব পায় যেমন জ্বালানি তেল, গাড়ি, ইলেক্ট্রনিক্স ইত্যাদি আমদানি কমেছে। যার ফলে প্রথম চার মাসের রাজস্ব আয়ে ঘাটতি আছে।তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমদানিকারকেরা ওইসব উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি শুরু করলে রাজস্ব আয়ের ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে।

আমদানি-রপ্তানি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুব আলম বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর কারণে মন্দাভাব বিরাজ করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় সারা দেশের আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। এ কারণেও দেশিয় আমদানিকারকেরা কম পরিমাণে আমদানি করছে। তাই বিশ্ব বাজারের সাথে দেশের বাজারেও পণ্যের ঘাটতি হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যে সবার নাগালে আসবে আশা করি।
চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৩৩ দশমিক ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম চার মাসে আয় হয়েছে ১৩ হাজার ১৭ দশমিক ২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসকে আগামী আট মাসে আরো ২৫ হাজার ৪১৬ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা আয় করতে হবে।