242 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণকালে আমাদের করণীয়।

  • 33
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    33
    Shares

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামঃ-

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَمَا نُرْسِلُ بِالاٌّيَاتِ إِلاَّ تَخْوِيفًا.
অর্থ: শুধুমাত্র ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই নিদর্শনাবলি প্রেরণ করে থাকি (সুরা ইসরা: ৫৯)

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন:
إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آياتِ اللهِ، لاَ يَنْخَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذلِكَ فَادْعُوا اللهَ وَكَبِّرُوا وَصَلُّوا وَتَصَدَّقُوا
অর্থ: নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহর নিকট দু’আ করবে। তাঁর মহত্ব ঘোষণা করবে এবং সলাত আদায় করবে ও সাদাকা প্রদান করবে। (বুখারি ও মুসলিম।)

হযরত আবু মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
خَسَفَتِ الشَّمْسُ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ فَزِعًا يَخْشَى أَنْ تَكُونَ السَّاعَةُ حَتَّى أَتَى الْمَسْجِدَ فَقَامَ يُصَلِّي بِأَطْوَلِ قِيَامٍ وَرُكُوعٍ وَسُجُودٍ مَا رَأَيْتُهُ يَفْعَلُهُ فِي صَلاَةٍ قَطُّ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ هَذِهِ الآيَاتِ الَّتِي يُرْسِلُ اللَّهُ لاَ تَكُونُ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُرْسِلُهَا يُخَوِّفُ بِهَا عِبَادَهُ فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئًا فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِهِ وَدُعَائِهِ وَاسْتِغْفَارِهِ ‏
অর্থ: নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগল। তিনি খুব বিচলিত হয়ে পড়লেন মনে হচ্ছে যেন এখনই কিয়ামত কায়েম হয়ে যাবে। অবশেষে তিনি মাসজিদে তাশরীফ নিয়ে এসে নামাযে দাঁড়ালেন এবং সবচেয়ে লম্বা কিয়াম, লম্বা রুকূ, লম্বা সিজদাহ সহকারে নামায আদায় করতে লাগলেন। আমি কখনও কোন নামায তাঁকে এত লম্বা করতে দেখি নি। নামায শেষ করে তিনি এরশাদ করলেন। এসব নিদর্শনাবলী যা যা আল্লাহ জগতে পাঠান, কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা জীবনের কারণে অবশ্যই তা হয় না। বরং আল্লাহ এগুলো পাঠিয়ে বান্দাদের সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন এমন কিছু দেখতে পাও, তখন তোমরা ভীত হয়ে আল্লাহর যিকর, দু’আ ও ইস্তিগফারে মশগুল হও। (সহীহ মুসলিম: ১৯৮৬)

উপরোক্ত হাদীছ শরীফদ্বয় দ্বারা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল চন্দ্র সূর্য গ্রহনকালে আমাদের করণীয় সম্পর্কে। আমরা বুঝতে পারলাম, এ সময়ে অধিকহারে তাকবীর পড়া, জিকির-আজকার করা, দোয়া করা, নামাজ পড়া, দান খয়রাত ইত্যাদি পূণ্য কাজে লিপ্ত থাকা আল্লাহর রসূলের নির্দেশ৷ অযথা হৈ-হুল্লোড় করা, রং তামাশা করা এটা ইসলামের শিক্ষা নয় বরং এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের বিরোধিতা করা৷ আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদেরকে হেফাজত করুক ৷

উল্লেখ্য যে, এ সময়ে আমাদের মাঝে নানা ধরনের কুসংস্কার বিরাজ করে এ বিষয়েও আমাদের সতর্ক থাকা উচিত৷

লেখক
সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আয্হারী
খতিব, মুসাফিরখানা জামে মসজিদ, নন্দনকানন, চট্টগ্রাম। সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। # 01719-197978

  • 33
    Shares