133 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদী অচিরেই বুড়িগঙ্গা রুপ নেওয়ার আসংখ্যা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোঃ জাবেদ হোসেনঃ চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজারের পোল্টি ব্যবসায়ীদের খামখেয়ালীপনায় দূষিত হচ্ছে ডাকাতিয়া নদীর পানি। চাঁদপুর পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডের ওয়ারলেস বাজারের পোল্ট্রি মুরগি ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে ট্রাকভর্তি করে মৃত-মুরগি, মুরগির নাড়ি-ভুড়ি মুরগির অপ্রয়োজনীয়’ উচ্ছিষ্টাংশ ও খাদ্য গাছতলা ব্রিজ থেকে ডাকাতিয়া নদীতে ফেলে নদীর পরিবেশ নষ্ট সহ নষ্ট করে ফেলছে নদীর শত শত প্রজাতির মাছ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাতের আধাঁরে কিছু সংখ্যক অল্প বয়সী যুবক ট্রাক বোঝাই করে বহু সংখ্যক মৃত মুরগি, মুরগির রক্ত, মলমূত্র, নাড়িভুঁড়ি, মুরগির পাখনা সহ মুরগির বিভিন্ন উচ্ছিষ্টাংশ নদীতে ফেলতে ছিল।

এ বিষয়ে তাদের নিকট জানতে চাইলে তারা জানান আমরা ওয়ারলেস বাজারের পোল্ট্রি মুরগি ব্যবসায়ীদের নির্দেশে প্রতিদিন রাতের আঁধারে মৃত মুরগি, মুরগির রক্ত, মলমূত্র, নাড়িভুঁড়ি, মুরগির পাখনা সহ মুরগির বিভিন্ন উচ্ছিষ্টাংশ নদীতে পেলি। যাদের দোকানের এই সকল বর্জ্য গুলো নদীতে ফেলা হয় জানতে চাইলে তারা জানান বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী বশির গাজী, মাসুম গাজী, ইসমাইল বরকন্দাজ, রেদোয়ান গাজী এবং ব্যবসায়ি বশিরের দুলা ভাইয়ের দোকানের এই বর্জ্য গুলো নদীতে পেলি।

গাছতলা ও ঘোড়ামারা আশ্রয়ন প্রকল্পের লোকজন জানান মুরগি ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হওয়ার সুবাদে এই অন্যায় কাজটি করে যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি একাধিক বার ডাক দিলেও তারা কোন তোয়াক্কা না করে বরং তারা তাদের এই ঘৃনিত কাজটি নির্বিঘ্ন ভাবে করে যাচ্ছে।তাদের এই কর্মকাণ্ডে আমরা স্থানীয়রা খুবই আতঙ্কিত।

এসকল বর্জ্য নদীতে পেলার জন্য দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ডাকাতিয়া নদীর পানি।নদীতে দেখা যায় যে মরা মুরগি, মুরগির নাড়ি-ভুড়ি মুরগির পালক নদীর বিভিন্ন স্থানে আটকে রয়েছে। এতে করে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে। আমরা প্রায় সময় দেখি নদীর বিভিন্ন প্রজাতি দেশীয় মাছ মরে ভেসে যাচ্ছে।

এছাড়া চাঁদপুর পৌরসভার পানি উত্তোলনের ট্যাংকিটি গাছতলা ব্রিজের নিচে অবস্থান।যে পানি শহরের মানুষগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে।এসকল ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য যদি দিন দিন বাড়তেই থাকে তাহলে নদীর পানির অ্যামোনিয়ার পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমে জাবে। গেল বছর দুয়েক পূর্বে ও ডাকাতিয়া নদীর পানির অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমে নদীর শত শত প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠতে দেখা গেছে।

প্রশাসন যদি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে আমরা বিশ্বাস করি যে খুব দ্রুতই ডাকাতিয়া নদীটাও একটা সময় বুড়িগঙ্গা নদীর মত হয়ে যাবে।