
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ঐতিহ্যবাহী টাউন খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে উচ্ছেদ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার জাহান এই কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন করে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
তিনি জানান, খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনগণের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনস্বার্থ রক্ষায় যেকোনো মূল্যে এই খাল পুনরুদ্ধার করা হবে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলাম, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাউসার আহমেদ এবং নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী’ বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক খালের বর্তমান অবস্থা এবং চলমান উচ্ছেদ কার্যক্রমের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, নগরীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে এই উচ্ছেদ অভিযান অত্যন্ত জরুরি।
পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলাম এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, টাউন খালটি পুরোপুরি দখলমুক্ত হলে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং বর্ষা মৌসুমে শহরের বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে। পৌরসভার পক্ষ থেকে এই কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অন্যদিকে, পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তরী’ বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, কেবল দখলমুক্ত বা পরিষ্কার করলেই হবে না, বরং ময়লার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
খালের ময়লা কোথায় ফেলা হবে সে বিষয়ে পৌরসভাকে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে খালটি প্রকৃত অর্থেই একটি দৃষ্টিনন্দন স্থানে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, তিতাস নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টাউন খালটি শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গোকর্ণ ঘাট দিয়ে পুনরায় তিতাস নদীতে পতিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল।
গত ১৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান ও পৌরসভার উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুনরুদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।
বর্তমানে চলমান এই অভিযান সম্পন্ন হলে খালটি পরিবেশবান্ধব ও একটি নান্দনিক জলাধারে রূপান্তরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
