568 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

জাতিস্বত্বা’র কবি কে নন?- নির্মলেন্দু গুণ

  • 174
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    174
    Shares

জাতিস্বত্বার কবি কে নন বলে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নুরুল হুদা” কে মন্তব্য করেছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। অদ্য সন্ধ্যার পর পোয়েম ভেইন( Poem vein) একটি ফেইসবুক গ্রুপে কবি নির্মলেন্দু গুণের মন্তব্য তুলে ধরা হয়।
কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেছেনঃ
“জাতিসত্তার কবি” কথাটা কোনো একজন কবির নামের পূর্বে ব্যবহৃত হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। প্রশ্ন জাগে — জাতিসত্তার কবি কে নন? স্বাধীনতার কবি হতে না-পারার ঘাটতি পূরণের জন্যই কি এই আওয়াজ?
সেনাবাহিনীর কাঁধে সওয়ার হয়ে উপদেষ্টার পদ পাওয়া ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ এলেই বলতেন– আমাদের “দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী”।
বিশেষণ ছাড়া শুধু “সেনাবাহিনী” কথাটা তিনি বলতেনই না।
চ্যানেল আই এর একটি লাইভ অনুষ্ঠানে একদিন তিনি ছিলেন, আমিও ছিলাম। আরও কয়েকজন বিশিষ্টজন ছিলেন– তাঁদের নাম ভুলে গেছি।
ব্যারিস্টার সাহেব তাঁর বক্তব্যে “দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী” কথাটা কয়েকবার উচ্চারণ করার পর আমার কথা বলার সুযোগ আসে।
আমি আমার বক্তব্যের শুরতেই ব্যারিস্টার সাহেবের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই– বংলাদেশের অন্য শ্রেণী পেশার মানুষরা কি দেশপ্রেমিক নন? শুধু আমাদের সেনাবাহিনীই দেশপ্রেমিক?
মঈনুল সাহেব আমার প্রশ্নে নিশ্চয়ই বিব্রত হয়েছিলেন। কিন্তু আমার প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
আমার সাহস দেখে হয়তো খুব রাগও হয়েছিলো তাঁর। কারণ অনুষ্ঠানটি ছিলো লাইভ। এডিট করার কোনো সুযোগ ছিলো না।
কী কারণে জানি না– ঘটা করে শুরু হওয়া চ্যানেল আই-এর ঐ অনুষ্ঠানটি তারপরপরই বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।

প্রতিপালিত ভক্তদের উসকে না দিয়ে বাংলা একাডেমির নব মনোনীত মহাপরিচালকের উচিত হবে আত্মঘোষিত এবং এই অগ্রহণযোগ্য অভিধাটি নিয়ে আর বেশি লম্ফঝম্প না করা।
কবি সাহেব, দয়া করে আপনার ভক্তকুলকে নিবৃত্ত করুন।

বাংলাদেশের অন্যতম জীবন্ত কিংবদন্তী কবি নির্মলেন্দু গুণের এই ধরণের মন্তব্যের উপর অনেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান।

বৈকুন্ঠ আবৃত্তি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি মাহমুদুল হাকিম তানভীর বলেনঃ আপনি সরাসরি কথা বলতে ভালোবাসেন, সেটা ভালো। কিন্তু এই বক্তব্যতে স্পষ্টতই আপনার হিংসাত্মক মনোভাবই ফুটে উঠছে। মুহাম্মদ নুরুল হুদাকে কেউ ভালোবেসে জাতিসত্তার কবি বললে অসুবিধাটা কোথায়, বুঝি না! কবি হয়ে আপনার একজন কবিকে অভিনন্দন জানানোরই কথা ছিল। কিন্তু অদ্ভুত হলো, তাঁর নতুন অবস্থানটাকে আপনি গ্রহণ করতে পারছেন না। এটা আপনার মানসিক দৈন্য ছাড়া আর কিছুই বলতে চাই না।
ভিন্ন মন্তব্যে কবি দয়ামায় পোদ্দার লিখেন, আজ সারাদিন ধরে বাংলাদেশের বন্ধুদের পোষ্টে আমি এই বিষয়টি লক্ষ্য করছি। ‘জাতিসত্তা’ শব্দটির প্রয়োগ দেখে কেমন যেন একটা খটকা লাগলো। জাতিস্বত্তা বলতে আসলে কি বোঝাতে চাইছেন সকলে? আমি কি তাহলে জাতিসত্তার কবি নই? যাঁরা অভিধায় ভূষিত করছেন, তাঁরা কি জাতিসত্তার কবি নন? আমার মনে হয়েছে আসলে যাঁরা এই অভিধা ব্যবহার করছেন, তাঁরা নিজেরাই নিজেদের অপমান করছেন। চামচাগিরি করতে করতে মানুষ তাঁর নূন্যতম আত্মসম্মান বোধটুকুও জলাঞ্জলি দিয়েছেন।

জাতিসত্তার কবি হিসাবে পরিচিত মুহম্মদ নূরুল হুদা
১৯৪৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলার পোকখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি
সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি খ্যাতি পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের লেখকদের প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের’ অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি।

৭১ বছর বয়সী কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- জন্মজাতি, মৈনপাহাড়, ব্যাঙকুমার, চাঁদের বুড়ো চাঁদের বাড়ি, ছোটদের বেগম রোকেয়া, ছোটদের মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ছোটদের রবীন্দ্র জীবনী, ছোটদের রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ, দেখা হলে একা হয়ে যাই, রাজার পোশাক, রবীন্দ্র প্রকৃতি ও অন্যান্য, সাত ভাই চম্পা, তুমি যদি জলদাস আমি জলদাসী, শুক্লা শকুন্তলা, আমি একটি খাস প্রজাপত্র চাই, শোভাযাত্রা দ্রাবিড়ার প্রতি, মাটির নিচে, কাঠ কয়লা হাজার বছর কাতর, আমরা তামাটে জাতি, বার বছরের গল্প, তেলাপোকা ইত্যাদি। f

  • 174
    Shares