206 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

জার্সির ডিজাইনটিতে কিছু পরিবর্তন আনবেঃ বলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিবিসি বাংলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতীয় ক্রিকেট দলের একটি জার্সির ডিজাইন নিয়ে তীর্ব্র বিতর্কের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বলছে তারা ডিজাইনটিতে কিছু পরিবর্তন আনবে।

বিসিবি গত রাতেই ডিজাইনটির ছবি প্রকাশ করে। তারপর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়।

ডিজাইনে দেখা যায়, লাল-সবুজ এই জার্সির বুকে বড় করে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ‘বেক্সিমকো’ এবং আরেকটু ছোট করে ‘আকাশ’ লেখা।

বেক্সিমকো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল স্পন্সর। এবং আকাশ বেক্সিমকোরই একটি সহযোগি ব্র্যান্ড।

বিতর্কের বিষয়, এত বড় করে স্পন্সরের নাম কেন এবং ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি কোথাও লেখা নেই কেন?

বিতর্ক চলেছে মূলতঃ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। ফেসবুকে অনেকেই এ নিয়ে রাগত প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

কেন বাংলাদেশের নাম এই ডিজাইনে যোগ করা হয়নি? ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান আকরাম খানের যুক্তি, যেহেতু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পুরো বিষয়টা আয়োজন করে, বাংলাদেশের সব জার্সিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের লোগো থাকে ও সেখানে লেখা থাকে ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড’।

“বাংলাদেশ লিখতে হবে যে এমন কোনো কথা নেই, এটা তো বাংলাদেশই পরছে। বিশ্বকাপে লিখতে হয়, অনেক দেশ খেলে সেখানে,” বলেন মি. খান।

গতকাল রাতে এই জার্সির ডিজাইনের ছবি প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তীর্ব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কিছুক্ষণ পর অনেক ব্যবহারকারী আরেকটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায় জার্সির সম্মুখভাগে ‘বেক্সিমকো’ শব্দটির নিচে ‘বাংলাদেশ’ লেখা।

এই ছবিটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

কিন্তু আকরাম খান বলছেন, ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি জার্সিতে যোগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে “সামনে না পেছনে যোগ করা হবে সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই”, বিবিসিকে বলেন মি. খান।

 

২০২১ সালে বাংলাদেশ পালন করবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। এই উপলক্ষ্যেই।

২০শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সীমিত ওভারের ম্যাচগুলোতে এই জার্সি পরার কথা স্বাগতিকদের।

জার্সিটিকে বরাবরের মতোই বাংলাদেশের পতাকায় থাকা লাল ও সবুজ রং দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে।

আকরান খান বলেন, “এখানে অন্য কোন রং নেই। আমাদের পতাকায় লাল সূর্যটা যেভাবে আছে সেটা ওখানে তুলে ধরেছি।”

“আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা যেভাবে উল্লাস করেছে, যেভাবে স্বাধীনতার উদযাপন করেছে সেটা এবং তার সঙ্গে আমাদের যে স্মৃতিসৌধ আছে ওটাও আমরা ওখানে তুলে ধরেছি।”

 

শাহাদাৎ হোসেন শ্রাবন নামের এক ক্রিকেট ভক্ত জার্সির ডিজাইন নিয়ে প্রত্রিক্রিয়ায় বলেন, “জার্সি টা অনেক সুন্দর, কিন্তু কোন দেশের জার্সি শুধু এই একটা স্মৃতিসৌধ লাল-সবুজ এর জন্য বুঝবো জার্সিটা বাংলাদেশের। জার্সির সাথে বাংলাদেশের নামটা থাকলে আরো ভালো হতো।”

ইফতিখার ইফতিও বলেন, বাংলাদেশের জার্সিতে বাংলাদেশ নামটি নেই এটা দেখে অবাক হলাম।

তবে এটা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

 

সামিউর রহমান মাহিদ বাংলাদেশের একজন ক্রিকেট সাংবাদিক, তিনি বলছেন, “নিউজিল্যান্ডের কোথাও লেখা থাকে না যে ওরা নিউজিল্যান্ড। দলটি ব্ল্যাকক্যাপ নামেই পরিচিত। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের জার্সিতে দেশটির আদিবাসীদের নানা সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। ভাবুনতো বাংলাদেশের জার্সিতে যদি চাকমা বা মনিপুরী গোষ্ঠীর সংস্কৃতি তুলে ধরা হতো তবে কেমন প্রতিক্রিয়া হতো?”

ফয়েজ আলম বাংলাদেশের একজন ক্রিকেট ভক্ত, তিনি বলেন, “শুধু বাংলাদেশ নয়, ক্রিকেট বিশ্বে এখনো অনেক দেশের জার্সিতে আইসিসি ইভেন্ট ব্যতীত দ্বিপাক্ষিক কোন সিরিজে দেশের নাম থাকে না। ২০১৫ বিশ্বকাপের পরই আমি প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজে স্পন্সরের নামের সাথে বাংলাদেশ নামটা দেখি। প্রথমে ‘ফ্রুটো বাংলাদেশ’, পরে ‘রবি বাংলাদেশ’.. সেই ধারাবাহিকতায় শেষ ‘আকাশ বাংলাদেশ’।”

ফয়েজের মতে, “দিনশেষে ক্রিকেট নিছকই একটা খেলা, বিনোদনের একটা মাধ্যম।”

তাই একটা জার্সি ডিজাইনে লাল-সবুজ থাকতেই হবে, দেশের নাম থাকতেই হবে এই ব্যাপারটা তার কাছে ‘উগ্র জাতীয়তাবাদ’ বলে মনে হয়েছে।

তবে যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্মারক হিসেবে এই জার্সি, এখানে ‘বাংলাদেশ’ লেখাটা না লেখা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রিকেট ভক্তরা।

 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই জার্সি নিয়ে বিতর্ক একটা হালের ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে বলছেন অনেকে।

এর আগে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা ২০১৯ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের সবুজ জার্সি নিয়ে একটা প্রশ্ন তোলে।

তখন অভিযোগ ছিল – সবুজের আধিক্য, অনেকেই বলছেন লাল রঙ নেই কেনো, বিসিবি অ্যাওয়ে জার্সি পুরোটা লাল রঙের করেছে।

সেই জার্সিকে পাকিস্তানের মতো বলেছেন অনেকে।

অনেকেই বলেছেন আয়ারল্যান্ডের মতো।

লাল রঙের জার্সিটিকে অনেকে বলছেন জিম্বাবুয়ের মতো।

 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের জার্সি বিষয়ক যে নীতিমালা আছে সেখানে জার্সিতে দেশের নাম থাকা বা না থাকা নিয়ে আলাদা কোনো নিয়ম নেই।

তবে যেহেতু ক্রিকেটে বা যে কোনো খেলায় পৃষ্ঠপোষকরা একটা বড় ভূমিকা রাখেন সেজন্য তিনটি পর্যন্ত পৃষ্ঠপোষক কোম্পানির লোগো রাখা যাবে যে কোনো জার্সিতে।

মূলত আইসিসি ইভেন্টগুলো, যেমন বিভিন্ন পর্যায়ের বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জার্সিতে দেশের নাম থাকে তবে কিছু দেশ আছে যারা সবসময় জার্সিতে দেশের নাম রাখে।

বিভিন্ন সময়ের নানা ম্যাচের ছবি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিতে স্পন্সরের নামের নিচে সাধারণত বড় করে ‘ইন্ডিয়া’ লেখা থাকে।

এমন দেখা গেছে আর শ্রীলঙ্কা আর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে।

তবে অন্য কোনো দেশের ক্রিকেট দলের জার্সিতে এটা খুব একটা দেখা যায় না।

ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলো জার্সি নিয়ে বেশ খেলা করে।

যেমন বেশ কয়েকটি দেশ ওয়ানডে ফরম্যাট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভিন্ন রকম জার্সি পরে থাকে।

বাংলাদেশেও ২০১৫ সালের আগে জার্সিতে নাম লেখার রীতি ছিল না। ২০০৫ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি, ২০১০ সালের নিউজিল্যান্ড সফরের ছবি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সিতে লম্বা সময় লেখা ছিল গ্রামীন ফোন।

২০১২ এশিয়া কাপে এটা পরিবর্তন হয় তবে বাংলাদেশ নামটা আসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৫ সালের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে।

তবে তখনও ওপরে বড় করে স্পন্সরের নাম ছিল।

পথিকটিভি/ এ আর