
জিলাপি, পিয়াজু ও সিঙ্গাড়া বিক্রি করে মাসে গড়ে ৪০ হাজার টাকার বেশি আয় করছেন তরুণ উদ্যোক্তা আসাদ আলী (২৮)। তার বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২ নং ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াশ গ্রামে। সিংড়া-বারুহাস সড়কের পাশে বিয়াশ চার মাথায় তার ছোট্ট একটি দোকান। এখানেই প্রতিদিন তৈরি ও বিক্রি করেন মুখরোচক জিলাপি, পিয়াজু ও সিঙ্গাড়া।
খাবারের গুণগত মান ভালো ও স্বাদে অনন্য হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা আসেন আসাদের দোকানে। মিলাদ, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আসাদের জিলাপি এখন বেশ পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিয়াশ চার মাথার দক্ষিণ পাশে একটি লম্বা টেবিল, দুটি বেঞ্চ, একটি চেয়ার, একটি মাটির চুলা আর মাথার ওপর কালো পলিথিনের ছাউনি—এই সাদামাটা আয়োজনেই চলছে আসাদ আলীর ব্যবসা। মাটির চুলায় গরম তেলে নিজ হাতে জিলাপি ভাজছেন তিনি। সকালে জিলাপি, আর বিকেলে পিয়াজু ও সিঙ্গাড়া ভাজেন।
প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা এই দোকানেই চলে বেচাকেনা। ক্রেতাদের ভিড়ে সারাদিনই জমজমাট থাকে তার দোকান।
উদ্যোক্তা আসাদ আলী বলেন, “আগে আমি শ্রমিকের কাজ করতাম। চার বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। সব কিছু নিজ হাতে তৈরি করি। পিয়াজু ও সিঙ্গাড়ার তুলনায় জিলাপি বেশি বিক্রি হয়। মূলত জিলাপি থেকেই আমার আয় বেশি।”
তিনি আরও জানান, এক কেজি জিলাপি তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় ৯০ টাকা। বিক্রি করা হয় ১৪০ টাকায়। এতে কেজিপ্রতি লাভ থাকে ৫০ টাকা। জিলাপির পাশাপাশি পিয়াজু ও সিঙ্গাড়া বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক আয় থাকে প্রায় ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা। ছুটির দিন বাদে মাসে গড়ে তার আয় ৪০ হাজার টাকারও বেশি।
আসাদ বলেন, “আল্লাহর রহমতে ছোট ব্যবসা নিয়েই ভালো আছি। সবার কাছে দোয়া চাই।”
দোকানে জিলাপি কিনতে আসা ক্রেতা তানজিল ইসলাম ও মনতাজুর রহমান বলেন, “আমরা কোম্পানিতে চাকরি করি। প্রায় প্রতিদিনই কাজ শেষে এখানে এসে গরম গরম জিলাপি খাই। আসাদ ভাইয়ের জিলাপি খুব মচমচে ও সুস্বাদু।”
এলাকার ব্যবসায়ী মৃদুল হাসান জানান, “আসাদ আগে শ্রমিকের কাজ করত। তিন-চার বছর আগে এই ব্যবসা শুরু করেছে। সকাল-বিকাল তার দোকানে ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকে। খাবারের মান ভালো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ায় সবাই তার দোকানের খাবার পছন্দ করে।
