জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর: নতুন বাংলাদেশের সূচনা ঘোষণা করলেন মুহাম্মদ ইউনূস

লেখক:
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ঢাকা, শুক্রবার — বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটল আজ। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা স্বাক্ষর করলেন ‘জুলাই জাতীয় সনদে’, যেটিকে তাঁরা আখ্যা দিয়েছেন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি “ঐতিহাসিক অর্জন” হিসেবে।

রাজনৈতিক সমঝোতার এই দলিলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরাও স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এই সনদ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে শান্তি, সহযোগিতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

তবে, এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে কিছু রাজনৈতিক দল অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বাম ঘরানার চারটি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নেয়নি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, তাঁরা এখনো তাদের তিন দফা দাবি নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন,

“আমরা সংলাপ চালিয়ে যেতে চাই, কিন্তু যদি দাবি বাস্তবায়ন না হয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধ্য হবো।”

অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, নাগরিক পার্টির সিদ্ধান্তটি ভুল বোঝাবুঝির ফল। তিনি বলেন,

“দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি মনে করি, তারা কোথাও ভুল বুঝছে।”

জামায়াতে ইসলামীও সনদে স্বাক্ষর করলেও এর আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন,

“আমরা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আস্থা রেখে জুলাই সনদে সই করেছি। তবে সনদ বাস্তবায়নে কোনো বিলম্ব হলে তা জাতির সঙ্গে গাদ্দারি হবে।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন,

“আমরা আশা করি, উনারা যেন কোনো ধরনের হেজিমনি তৈরি না করেন এবং নতুন কোনো সংকটের জন্ম না দেন।”

এদিকে, সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শুক্রবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে বিক্ষুব্ধদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

স্বাক্ষর শেষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বক্তৃতায় বলেন,

“এই সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই জাতীয় সনদ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নির্ধারণে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর।