টানা ভারি বর্ষণে থমকে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেল থেকে শুরু হওয়া অতি বৃষ্টিতে শহরের প্রধান প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলি হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়।
টানা ভারি বর্ষণে কালিবাড়ী মোড় থেকে জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকা পর্যন্ত সড়কগুলোতে দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।অপর দিকে কাজীপাড়া, সরকারপাড়া, মৌড়াইল, কলেজপাড়া, কাউতলী, কালাশ্রীপাড়া টেংকের পাড় ,কুমারশীল মোড় — পৌর মার্কেট থেকে শুরু করে পুরাত জেল খানার মোড় হয়ে বডিং মাঠ সাহ শহরের ভিবিন্ন পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারাও জলাবদ্ধতায় পড়ে দুর্ভোগে।
বৃষ্টির সময় শহরে চলাচলরত যাত্রী ও পথচারীরা জানায়, টানা বৃষ্টিতে পানি জমে রাস্তায় চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানি, আবার কোথাও তার চেয়েও বেশি।
শহরবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম দুর্বলতার কারণেই প্রতি বছর ভারি বৃষ্টিতেই এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানান স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।
এই অচলাবস্থায় জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মজীবী মানুষসহ সাধারণ জনগণকে পড়তে হয়েছে দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে।
স্থানীয় পথচারীরা বলেন, ‘হাসপাতালে যেতে চেয়েও পারিনি, পানিতে সব রাস্তা তলিয়ে গেছে। যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো হতো, তাহলে পানি জমত না।’
পৌর মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘এই মার্কেট শহরের প্রাণকেন্দ্র, কিন্তু বৃষ্টির কারণে পানি জমে চলাফেরা দুরূহ হয়ে পড়েছে।’
শহরবাসীর দাবি বছরজুড়ে উন্নয়নকাজ চললেও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ভারি বৃষ্টি হলেই শহর ডুবে যাচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস মোঠোফোনে বলেন, ‘আমাদের ড্রেনেজ সিস্টেমের অবস্থা খুবই নাজুক। আমাদের জনবলও সীমিত। এর পরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।বৃহস্পতিবার সকালে আমরা আমাদের জনবল নিয়ে ড্রেনগুলো সচল করতে কাজ শুরু করব। যদি বৃষ্টি আর না হয় তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।