170 বার দেখা হয়েছে বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ট্রাম্পের ভাষণে তুঙ্গে উঠেছে বিক্ষোভ, সেনাাবিহিনী মোতায়েনের বিরুদ্ধে স্টেট গভর্নররা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পথিক রিপোর্ট: বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের সপ্তম রাতে নতুন করে কারফিউ জারি করা হলো নিউইয়র্ক সিটিতে। দুইদিন আগে থেকেই ২৫ স্টেটের ৪৪ সিটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ৫০ স্টেটের ১৬৩ সিটিতে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সারা আমেরিকায় এই উত্তাল পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ অবসানে জাতীয় ঐক্যের ডাক এবং জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অঙ্গীকারের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্টো হুমকি দিলেন সামরিক শক্তি নিয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন থামিয়ে দিতে। অর্থাৎ আমেরিকার নাগরিকদের বিরুদ্ধে একরকম ‘যুদ্ধ’ই ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট।

১ জুন সোমবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউজ থেকে এ বক্তব্য প্রদানের সময় নিজেকে ‘প্রেসিডেন্ট অব ল’ এ্যান্ড অর্ডার’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারীদের বিভ্রান্ত করে জঙ্গিরূপ ধারণে লুটতরাজে লিপ্ত করছে যে অপশক্তি, সেই সন্ত্রাসী আর চরম উগ্রপন্থিদের দমনে প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় এমন পদক্ষেপ নিতে আমি বাধ্য হচ্ছি।

উল্লেখ্য, রুজ গার্ডেনে স্থাপিত পোডিয়ামে ট্রাম্প যখন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন তার মিনিট দশেক আগে সামরিক বাহিনী, সিক্রেট সার্ভিট এবং মিলিটারি পুলিশের শতশত সদস্য হোয়াইট হাউজের আশপাশে স্লোগানরতদের ওপর হামলে পড়ে। তারা কাদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে, রাবার বুলেট ছুড়ে সকলকে ছত্রভঙ্গ করতে থাকে। এ সময় আন্দোলনকারিরা দু’হাত ওপরে উঠিয়ে বলতে থাকেন, ‘আমরা আত্মসমর্পণ করছি, তবুও গুলি করো না। কিন্তু কে শোনে কার কথা, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই ছত্রভঙ্গ করার অভিযানে ঘোড়াসহ নিরাপত্তা রক্ষীরাও অংশ নেয়। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ক্ষণে ক্ষণে কাদুনে গ্যাস ছোড়া এবং রাবার বুলেট ছোড়ার শব্দ আসতে থাকে। তারমধ্যেই ট্রাম্প তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

ট্রাম্পের ‘সামরিক বাহিনী নামানোর’ বক্তব্যে সকলেই প্রচণ্ডভাবে হতাশ হয়েছেন। কারণ, জাতির এই সংকটে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সকলকে শান্ত হবার আহবান জানাবেন বলে প্রত্যাশা ছিল। তুমুল আন্দোলন চলছে এমন স্টেটসমূহের কয়েকজন গভর্নর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের বক্তব্যকে আন্দোলনকে আরও উসকে দেয়ার মতো বলে মন্তব্য করেছেন।

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে নির্মমভাবে হত্যায় জড়িতদেরই শুধু নয়, এর আগে আরও যারা এমন বর্ণবৈষম্য আচরণের নিষ্ঠুর বলি হয়েছেন, তাদের স্মরণ করে পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান আইনকে সংস্কারের কথা বলতে পারতেন ট্রাম্প। তা না করে তিনি নিজের ক্ষমতার অপপ্রয়োগের স্বার্থে ১৮০৭ সালের আইন রহিত করার হুমকিও দিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে স্টেট গভর্নরদের সাথে এক টেলিকনফারেন্সে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সকলকে নিজ নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আন্দোলন দমনের আহবান জানান। ন্যাশনাল গার্ডের পাশাপাশি সামরিক বাহিনী নামানোর পরামর্শও দেন। হমকির সুরে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যদি কোন সিটি অথবা স্টেট তার এলাকার জনসাধারণের জীবন এবং সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সম্মত না হয়, তাহলে আমি সামরিক বাহিনী মোতায়েন করবো দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করতে।

‍সূত্র : বিডি প্রতিদিন

জুনায়েদ/পথিক নিউজ